ফরিদপুর: ১৩০ বছর বয়সী সচল ফুল কুমারী
- আপডেট সময় : ১০:২৬:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ নভেম্বর ২০২৫
- / 500
এটি কোনো গল্প নয়, বাস্তবের এক বিরল উদাহরণ। ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার খালাসি ডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা ফুল কুমারী আজও সচল আছেন ১৩০ বছর বয়স নিয়ে! এই অবিশ্বাস্য বয়সেও তার মুখে দাঁত রয়েছে, মাথার চুল আধ পাকা হলেও তিনি নিজ হাতে ভাত খেতে এবং হাঁটতে পারেন।
বর্তমান সমাজে এত দীর্ঘজীবী মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর, আর সচল থাকা তো আরও বিরল। ফুল কুমারীর এই দীর্ঘ ও স্বাস্থ্যকর জীবন শুধু গ্রামেই নয়, পুরো অঞ্চলেই আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
সচল জীবন ও ৫২ বংশধর
ফুল কুমারী প্রায় ২৫ বছর আগে তাঁর স্বামী কুটিশ্বর মন্ডলকে হারিয়েছেন। দুই ছেলে আর ৪ মেয়ে নিয়ে ছিল তাঁদের সংসার। সময়ের পরিক্রমায় তাঁর পরিবার এখন এক বিশাল বৃক্ষে পরিণত হয়েছে।
পরিবারের বিস্তার: দিন শেষে, তাঁর ছেলে-মেয়ে, নাতি-পুতি, ধুতি (নাতির নাতি) নিয়ে এখন প্রায় ৫২ জন বংশধর রয়েছে।
বিরল সৌভাগ্য: তিনি এতটাই ভাগ্যবতী যে, তিনি তাঁর নাতি-পুতিদের ছেলে-সন্তানদেরও (ধুতি) দেখতে পাচ্ছেন এবং তাদের সঙ্গে খেলা করছেন।
মায়ের প্রতি সন্তানের বিরল যত্ন
যেখানে বর্তমান সমাজে মা-বাবার যত্ন কমে আসছে, সেখানে ফুল কুমারীর পরিবারের চিত্র সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী।
ব্যতিক্রমী ছেলে: ফুল কুমারীর ছোট ছেলে মন্টু মন্ডল আজও তার মায়ের সাথে একই ঘরে রাত্রি যাপন করেন। তিনি নিজের স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে ও সন্তানদের রেখে শুধু মায়ের খোঁজ-খবর রাখার জন্য বিশেষভাবে এই ব্যবস্থা রেখেছেন।
পারিবারিক বন্ধন: এই পরিবারটি একটি ব্যতিক্রমী পরিবার, যেখানে সকলের মধ্যে হাসি-খুশি ও আন্তরিকতা বিরাজমান। ফুল কুমারী এবং তাঁর দুই পুত্রবধূকে একই ধরনের দেখা যায়, আর তারা তাদের শাশুড়িকে অনেক আদর-যত্ন করেন। এই সকলের ভালোবাসায় ফুল কুমারী হাসিখুশি এবং সুস্থ সুন্দর জীবন যাপন করতে পারছেন।
অর্থনৈতিক অবস্থা ও সহায়তা কামনা
ফুল কুমারীর স্বামী একসময় মাটির হাঁড়ি-পাতিল বিক্রি করতেন। বর্তমানে তাঁর ছেলে ও নাতি-পুতিরা কাঠমিস্ত্রি সহ বিভিন্ন কাজ করে থাকেন। পারিবারিক এত বড় সদস্য সংখ্যা সত্ত্বেও সংসারে তেমন স্বচ্ছলতা নেই।
সহায়তা কামনা: পরিবারটি বর্তমান সময়ে, বিশেষ করে এই শীতকালে, এত বয়স্ক বিধবা ফুল কুমারীর জন্য প্রশাসন সহ বিভিন্ন মহলের সুদৃষ্টি ও আর্থিক সহযোগিতা কামনা করেছে।











