ঢাকা ০২:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে মাকে কোদাল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করল ছেলে

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৫:০৫:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬
  • / 220

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় পারিবারিক কলহ ও তুচ্ছ ঘটনার জেরে ছেলে হোসেন শেখের (২৫) কোদালের কোপে মা ফুলজান বেগম (৬০) নির্মমভাবে নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার বানা ইউনিয়নের পন্ডিত বানা গ্রামে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঈদের আবহেই এমন বড় ধরনের অপরাধের ঘটনায় পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহত ফুলজান বেগম পন্ডিত বানা গ্রামের হাফিজার শেখের স্ত্রী। অভিযুক্ত হোসেন শেখ তাদেরই সন্তান।

স্ত্রী চলে যাওয়ার পর থেকেই একা ছিলেন হোসেন:

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পেশায় দিনমজুর হোসেন শেখ কিছুদিন আগে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীর সাথে বিচ্ছেদের মুখোমুখি হন। স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যাওয়ার পর থেকে তিনি তীব্র মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন, নিজের ঘরে একাকী জীবনযাপন করতেন এবং নিজেই রান্না করে খেতেন।

ফুলগাছ রোপণ নিয়ে ঝগড়া ও হত্যাকাণ্ড:

বৃহস্পতিবার সকালে হোসেন শেখের ঘরের সামনের খালি জায়গায় তার মা ফুলজান বেগম একটি ফুলগাছের চারা রোপণ করতে যান। নিজের ঘরের সামনে চারা রোপণ করা নিয়ে মায়ের সঙ্গে তীব্র বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন হোসেন। পূর্বের পারিবারিক ক্ষোভ ও সকালের এই কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে হোসেন শেখ চরম উত্তেজিত হয়ে ঘরে থাকা একটি ধারালো কোদাল দিয়ে তার মা ফুলজান বেগমের মাথায় সজোরে কোপ দেন। কোদালের আঘাতে মাথার খুলি উড়ে গিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই ফুলজান বেগমের মৃত্যু হয়।

অভিযুক্তের কোনো মোবাইল নেই, ধরতে পুলিশের অভিযান:

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির তাইজুর রহমান জানান, খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে এবং নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হচ্ছে।

ওসি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের পরপরই অভিযুক্ত যুবক হোসেন শেখ গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যান। তিনি কোনো ধরনের মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন না, যার কারণে প্রযুক্তির সাহায্যে তার অবস্থান নিশ্চিত করা কিছুটা কঠিন হচ্ছে। তবে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের জন্য সম্ভাব্য সব স্থানে জোরদার অভিযান চালাচ্ছে। এই ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরসহ পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ফরিদপুরে মাকে কোদাল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করল ছেলে

আপডেট সময় : ০৫:০৫:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় পারিবারিক কলহ ও তুচ্ছ ঘটনার জেরে ছেলে হোসেন শেখের (২৫) কোদালের কোপে মা ফুলজান বেগম (৬০) নির্মমভাবে নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার বানা ইউনিয়নের পন্ডিত বানা গ্রামে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঈদের আবহেই এমন বড় ধরনের অপরাধের ঘটনায় পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহত ফুলজান বেগম পন্ডিত বানা গ্রামের হাফিজার শেখের স্ত্রী। অভিযুক্ত হোসেন শেখ তাদেরই সন্তান।

স্ত্রী চলে যাওয়ার পর থেকেই একা ছিলেন হোসেন:

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পেশায় দিনমজুর হোসেন শেখ কিছুদিন আগে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীর সাথে বিচ্ছেদের মুখোমুখি হন। স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যাওয়ার পর থেকে তিনি তীব্র মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন, নিজের ঘরে একাকী জীবনযাপন করতেন এবং নিজেই রান্না করে খেতেন।

ফুলগাছ রোপণ নিয়ে ঝগড়া ও হত্যাকাণ্ড:

বৃহস্পতিবার সকালে হোসেন শেখের ঘরের সামনের খালি জায়গায় তার মা ফুলজান বেগম একটি ফুলগাছের চারা রোপণ করতে যান। নিজের ঘরের সামনে চারা রোপণ করা নিয়ে মায়ের সঙ্গে তীব্র বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন হোসেন। পূর্বের পারিবারিক ক্ষোভ ও সকালের এই কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে হোসেন শেখ চরম উত্তেজিত হয়ে ঘরে থাকা একটি ধারালো কোদাল দিয়ে তার মা ফুলজান বেগমের মাথায় সজোরে কোপ দেন। কোদালের আঘাতে মাথার খুলি উড়ে গিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই ফুলজান বেগমের মৃত্যু হয়।

অভিযুক্তের কোনো মোবাইল নেই, ধরতে পুলিশের অভিযান:

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির তাইজুর রহমান জানান, খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে এবং নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হচ্ছে।

ওসি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের পরপরই অভিযুক্ত যুবক হোসেন শেখ গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যান। তিনি কোনো ধরনের মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন না, যার কারণে প্রযুক্তির সাহায্যে তার অবস্থান নিশ্চিত করা কিছুটা কঠিন হচ্ছে। তবে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের জন্য সম্ভাব্য সব স্থানে জোরদার অভিযান চালাচ্ছে। এই ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরসহ পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।