ঢাকা ০২:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে মাংসের দ্বন্দ্বে ঈদের নামাজ বর্জন: আহত ২৮

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০২:২৬:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬
  • / 234

পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দের দিনে কুরবানির পশুর মাংস মসজিদে ভাগ হবে নাকি যার যার বাড়িতে ভাগ হবে—এমন এক অদ্ভুত ও সামান্য বিষয়কে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়েছে ফরিদপুরের ভাঙ্গার একটি গ্রামের দুই পক্ষ। এই বিরোধের জেরে ঈদের নামাজ ও পশু কোরবানি বর্জন করে রামদা, ঢাল-সরকিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে মেতে ওঠে তারা। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২৮ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে ৪-৫টি বাড়িঘরে ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার আলগী ইউনিয়নের পূর্ব আড়ুয়াকান্দী গ্রামের ঈদগাহ ময়দানে এই নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে।

নামাজের শুরুতেই কথা-কাটাকাটি ও উত্তেজনা:

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব আড়ুয়াকান্দী গ্রামের বাসিন্দারা মূলত ‘মোল্লা’ ও ‘মাতুব্বর’—এই দুই প্রধান সামাজিক গ্রুপে বিভক্ত। এর মধ্যে মোল্লা পক্ষের নেতৃত্ব দেন কামরুজ্জামান মোল্লা এবং মাতুব্বর পক্ষের নেতৃত্বে আছেন জাহাঙ্গীর মাতুব্বর। গ্রামের দীর্ঘদিনের নিয়ম অনুযায়ী, কোরবানি করার পর দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য নির্ধারিত তিন ভাগের এক ভাগের মাংস সব পরিবার এক জায়গায় (মসজিদে) জমা করে একসাথে বিতরণ করে।

তবে এবার সেই মাংস মসজিদ থেকে বিতরণ করা হবে, নাকি যার যার বাড়ি থেকে বিতরণ করা হবে—তা নিয়ে ঈদের নামাজ শুরুর প্রাক্কালে ঈদগাহ ময়দানেই দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।

নামাজ বাদ দিয়ে রণক্ষেত্র ঈদগাহ:

বিতর্ক একপর্যায়ে চরম উত্তেজনায় রূপ নেয়। নামাজ পড়া ও পশু জবাইয়ের মতো ধর্মীয় আবহেও সংযম না দেখিয়ে উভয় পক্ষের লোকজন রামদা, ছ্যানদা, ঢাল-সরকি ও ইট-পাটকেলসহ নানা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ঈদগাহের ভেতরেই সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের সময় পুরো গ্রামে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালে গ্রামের ৪-৫টি বাড়িঘরে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২৮ জন গুরুতর আহত হন।

আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে বেশ কয়েকজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং অনেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

জনপ্রতিনিধি ও পুলিশের বক্তব্য:

ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক আখ্যা দিয়ে আলগী ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য (মেম্বার) মজিবর মোল্লা বলেন, “ঈদের আনন্দের দিনে সামান্য মাংস বণ্টনের পদ্ধতি নিয়ে এমন মারামারি কোনোভাবেই কাম্য নয়। দুঃখের বিষয় হলো, তখন পর্যন্ত ঈদের নামাজ বা পশু জবাই কোনোটিই হয়নি। তার আগেই মাংস বণ্টনের নিয়ম নিয়ে দুই দল রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়াল।”

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে ওই গ্রামের পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এই বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

ফরিদপুরে মাংসের দ্বন্দ্বে ঈদের নামাজ বর্জন: আহত ২৮

আপডেট সময় : ০২:২৬:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬

পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দের দিনে কুরবানির পশুর মাংস মসজিদে ভাগ হবে নাকি যার যার বাড়িতে ভাগ হবে—এমন এক অদ্ভুত ও সামান্য বিষয়কে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়েছে ফরিদপুরের ভাঙ্গার একটি গ্রামের দুই পক্ষ। এই বিরোধের জেরে ঈদের নামাজ ও পশু কোরবানি বর্জন করে রামদা, ঢাল-সরকিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে মেতে ওঠে তারা। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২৮ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে ৪-৫টি বাড়িঘরে ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার আলগী ইউনিয়নের পূর্ব আড়ুয়াকান্দী গ্রামের ঈদগাহ ময়দানে এই নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে।

নামাজের শুরুতেই কথা-কাটাকাটি ও উত্তেজনা:

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব আড়ুয়াকান্দী গ্রামের বাসিন্দারা মূলত ‘মোল্লা’ ও ‘মাতুব্বর’—এই দুই প্রধান সামাজিক গ্রুপে বিভক্ত। এর মধ্যে মোল্লা পক্ষের নেতৃত্ব দেন কামরুজ্জামান মোল্লা এবং মাতুব্বর পক্ষের নেতৃত্বে আছেন জাহাঙ্গীর মাতুব্বর। গ্রামের দীর্ঘদিনের নিয়ম অনুযায়ী, কোরবানি করার পর দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য নির্ধারিত তিন ভাগের এক ভাগের মাংস সব পরিবার এক জায়গায় (মসজিদে) জমা করে একসাথে বিতরণ করে।

তবে এবার সেই মাংস মসজিদ থেকে বিতরণ করা হবে, নাকি যার যার বাড়ি থেকে বিতরণ করা হবে—তা নিয়ে ঈদের নামাজ শুরুর প্রাক্কালে ঈদগাহ ময়দানেই দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।

নামাজ বাদ দিয়ে রণক্ষেত্র ঈদগাহ:

বিতর্ক একপর্যায়ে চরম উত্তেজনায় রূপ নেয়। নামাজ পড়া ও পশু জবাইয়ের মতো ধর্মীয় আবহেও সংযম না দেখিয়ে উভয় পক্ষের লোকজন রামদা, ছ্যানদা, ঢাল-সরকি ও ইট-পাটকেলসহ নানা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ঈদগাহের ভেতরেই সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের সময় পুরো গ্রামে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালে গ্রামের ৪-৫টি বাড়িঘরে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২৮ জন গুরুতর আহত হন।

আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে বেশ কয়েকজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং অনেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

জনপ্রতিনিধি ও পুলিশের বক্তব্য:

ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক আখ্যা দিয়ে আলগী ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য (মেম্বার) মজিবর মোল্লা বলেন, “ঈদের আনন্দের দিনে সামান্য মাংস বণ্টনের পদ্ধতি নিয়ে এমন মারামারি কোনোভাবেই কাম্য নয়। দুঃখের বিষয় হলো, তখন পর্যন্ত ঈদের নামাজ বা পশু জবাই কোনোটিই হয়নি। তার আগেই মাংস বণ্টনের নিয়ম নিয়ে দুই দল রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়াল।”

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে ওই গ্রামের পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এই বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।