ফরিদপুরে গণঅধিকার পরিষদের অভ্যন্তরীণ কলহ: সহ-সভাপতি সজিবকে বহিষ্কার
- আপডেট সময় : ০৯:৩০:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন ২০২৫
- / 455
ফরিদপুরের সালথা উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সহ-সভাপতি সজিব আল হুসাইনকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়েছে। মূলত অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং অন্য রাজনৈতিক দলের সাথে যোগাযোগের কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার (১৭ জুন, ২০২৫) ফরিদপুর জেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি মো. ফরহাদ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মোল্লা মো. ফরহাদ মিয়ার সই করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
ওই প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে, ফরিদপুর জেলা গণঅধিকার পরিষদের জরুরি সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে সালথা উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সহ-সভাপতি সজিব আল হুসাইনকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সাথে, জেলা গণঅধিকার পরিষদের সব স্তরের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা বহিষ্কৃত এই ব্যক্তির সাথে সকল প্রকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাখেন।
পদত্যাগ নাকি বহিষ্কার? সজিব ও দলের পাল্টাপাল্টি
ঘটনাটি ঘিরে তৈরি হয়েছে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য। সজিব আল হুসাইন দাবি করেছেন, তিনি নিজেই গণঅধিকার পরিষদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন। তার ভাষ্যমতে, “তারা তাদের ইজ্জত বাঁচানোর জন্য বহিষ্কারপত্র দিয়েছেন।”
তবে, সালথা উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সজিবের দাবিকে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, “চলতি মাসের কিছু দিন আগে আমরা জানতে পারি যে এনসিপির (জাতীয় নাগরিক পার্টি) সাথে তার যোগাযোগ হয় ও তাকে পদে রাখতে চায় এবং তাকে সমন্বয়কারী করে এনসিপির দল ঘোষণা করে। পরবর্তীতে তার কাছে জানতে চাইলে সে অস্বীকার করে। বলে যে, ‘আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। আর আমি এনসিপি থেকে পদত্যাগ করবো।’ এভাবে অনেক কাকুতি মিনতি করে। আমরা তাকে সুযোগ দেই কিন্তু তিনি আমাদের সংগঠনের সাথে ছলচাতুরী করে।” আবুল কাশেম আরও যোগ করেন যে, সজিব আল হুসাইন “এনসিপির টাকার লোভে পড়ে যায়”, যার কারণে তাকে বহিষ্কার করতে কিছুটা দেরি হয়।
সভাপতি ফারুক ফকিরের মন্তব্য: ‘টাকা কামাই’র উদ্দেশ্য?
সালথা উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ফারুক ফকির এই বহিষ্কারের ঘটনাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, “এ রকম সজিব চলে যাওয়াতে দলের মান আরও উজ্জ্বল হবে এবং দল আরও ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করবে। তাহার লক্ষ্য হলো টাকা কামাই করা। যার কারণে তিনি বারবার নীতি পরিবর্তন করে আসছেন। আমরা তাকে ধিক্কার জানাই।”
এই ঘটনা ফরিদপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে গণঅধিকার পরিষদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং নেতাকর্মীদের মধ্যে আনুগত্যের প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে।





















