কুমার নদে প্রতিদিন পড়ছে ৫০ টন বর্জ্য, অস্তিত্ব সংকটে ফরিদপুর শহর
- আপডেট সময় : ০১:৩৭:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
- / 242
পরিকল্পিত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে না ওঠায় ভয়াবহ দূষণের শিকার হচ্ছে শহরের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া কুমার নদ। পৌর এলাকার প্রায় ৭০ ভাগ পয়ঃবর্জ্য সরাসরি কুমার নদের বুকে ফেলা হচ্ছে। বহুতল ভবন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বর্জ্যের লাইন সরাসরি ড্রেনের সঙ্গে যুক্ত থাকায় নদটি ব্যবহারের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
দৈনিক প্রায় ৫০ টন বর্জ্য নদে:
ফরিদপুর পৌরসভার তথ্য অনুযায়ী, পৌর এলাকায় বর্তমানে প্রায় ৩৮ হাজার নিবন্ধিত হোল্ডিং রয়েছে। এর মধ্যে বাসাবাড়ি ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পয়ঃনিষ্কাশন লাইন রয়েছে প্রায় ১৫ হাজার। অথচ এর মধ্যে মাত্র ৩ হাজার বাসাবাড়ি ও প্রতিষ্ঠান নিয়ম অনুযায়ী বর্জ্য পরিষ্কার করে থাকে। বাকি বিশাল একটি অংশ অবৈধভাবে ড্রেন ও নালার মাধ্যমে সেপটিক ট্যাংকের সংযোগ দিয়েছে। এতে প্রতিদিন প্রায় ৪০ থেকে ৫০ টন বর্জ্য গিয়ে পড়ছে কুমার নদে, যা দিনের পর দিন জমে নদীর জীববৈচিত্র্যকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
স্থানীয়দের ক্ষোভ ও ভোগান্তি:
নদের দূষণের ফলে নিত্যদিনের কাজে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ বাড়ছে। বাধ্য হয়ে যারা এই পানি ব্যবহার করছেন, তারা পানিবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
মিয়াপাড়ার বাসিন্দা রওশান আরা দীপ্তি বলেন, “শহরের অনেক বাসিন্দা অবৈধ লাইনের মাধ্যমে ড্রেনে ময়লা ফেলছে, যার দুর্গন্ধে চলাচল করা দায় হয়ে পড়েছে। আমরা পরিবেশ রক্ষায় অতি দ্রুত অবৈধ সংযোগ বন্ধের দাবি জানাই।” পূর্ব খাবাসপুর এলাকার আব্দুল হান্নান মিয়া বলেন, “আগে এই নদীর পানি দিয়ে সব কাজ চলত, এখন পানি ব্যবহার করলে চুলকানি হয়।”
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য:
জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের পূর্ববর্তী নির্দেশনা বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা থাকলেও এবার কঠোর অবস্থানে যাওয়ার কথা জানিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে ফরিদপুর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী (পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন) সৈয়দ মোঃ আশরাফ জানান, “এই মাস থেকেই অবৈধ লাইনগুলো উচ্ছেদের ব্যাপারে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে। যেসব বাড়িতে ড্রেনের সঙ্গে পয়ঃবর্জ্যের লাইনের সংযোগ পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ফরিদপুর পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক (ডিডিএলজি) জানান, বর্জ্য অপসারণের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা চলছে। এই শহরের প্রাণকেন্দ্র ও অক্সিজেনভান্ডার কুমার নদকে দূষণমুক্ত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য এখন জোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।





















