ঢাকা ১২:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুর রেকর্ড অফিসে ঘুষের হাট: ভাইরাল ভিডিওতে কোটি টাকার বাণিজ্য

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৪:১৭:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৫
  • / 467

ফরিদপুর রেকর্ড অফিস যেন দুর্নীতির আখড়া, যেখানে প্রকাশ্যে চলছে ঘুষের লেনদেন। খোদ রেকর্ড রক্ষক মাসুদ আলী মোল্লার ঘুষ নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ভুক্তভোগীরা বলছেন, রেকর্ড রুম নয়, যেন এটি একটি ‘ঘুষের হাট’।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, রেকর্ড অফিসের তৃতীয় তলায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রকাশ্যেই ঘুষ নিচ্ছেন। ঘুষ বাণিজ্য এতটাই ভয়াবহ যে, এই অফিসের কার্যক্রম যেন দালালচক্রের হাতে জিম্মি।

ভুক্তভোগীদের ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা

ভাঙ্গার বাসিন্দা হাসান জানান, একটি কাগজ তুলতে তিনি দফায় দফায় ১২ হাজার টাকা ঘুষ দিয়েছেন, কিন্তু দুই মাস পার হলেও তার কাজ হয়নি। উল্টো মাসুদ আলী আরও টাকা দাবি করেন এবং পরে টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

বোয়ালমারীর মামুন বলেন, দুটি দলিল তুলতে তার কাছ থেকে প্রথমে ৫ হাজার, পরে আরও ২ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, “এখানে যারা কাজ করে সবাই ঘুষ খায়। টাকা না দিয়ে কাজ করা অসম্ভব।”

এছাড়াও, নগরকান্দার বাবু জানান, তার কাছ থেকে ৪ হাজার টাকা নিয়েও কাজ করেননি মাসুদ আলী মোল্লা। ভাঙ্গার সাহেবআলী নামে এক ব্যক্তিও ৯ হাজার টাকা দিয়ে প্রতারিত হয়েছেন।

মধুখালীর ৮০ বছর বয়সী আব্দুল করিম এবং সদরপুরের কৃষক আবুল কালামও যথাক্রমে ৫ হাজার ও ১০ হাজার টাকা ঘুষ দিয়ে হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন।

মাসুদ আলী ও তার সিন্ডিকেটের নানা তথ্য

অনুসন্ধানে জানা যায়, রেকর্ড রক্ষক মাসুদ আলী মোল্লা প্রায় ১০-১২ জনের একটি দালাল চক্রের নেতৃত্ব দেন। এই চক্র গ্রামের সহজ-সরল লোকজনের কাছ থেকে চুক্তিতে টাকা নেয়, কিন্তু কাজ না করে আরও অতিরিক্ত টাকা দাবি করে।

এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, মাসুদ আলী মোল্লার আসল নাম মোঃ শাহাবুদ্দীন মোল্লা। ২০-২৫ বছর আগে তিনি মানিকদাহ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। রেকর্ড রুমে চাকরির সুবাদে তিনি তিন কোটি টাকা মূল্যের বিলাসবহুল রাজপ্রাসাদ তৈরি করেছেন, যা নিয়ে এলাকায় গুজব রয়েছে যে তিনি যেন ‘আলাদিনের চেরাগ’ পেয়েছেন।

উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ ও কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভুক্তভোগীরা মাসুদ আলী মোল্লার অবিলম্বে অপসারণ এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে জেলা রেজিস্ট্রার জানিয়েছেন, ঘুষ লেনদেনের অভিযোগের ব্যাপারে মাসুদ আলী মোল্লাকে তিন দিনের মধ্যে লিখিত জবাব দাখিল করতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, “যদি উপযুক্ত জবাব দিতে না পারে, তাহলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ফরিদপুর রেকর্ড অফিসে ঘুষের হাট: ভাইরাল ভিডিওতে কোটি টাকার বাণিজ্য

আপডেট সময় : ০৪:১৭:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৫

ফরিদপুর রেকর্ড অফিস যেন দুর্নীতির আখড়া, যেখানে প্রকাশ্যে চলছে ঘুষের লেনদেন। খোদ রেকর্ড রক্ষক মাসুদ আলী মোল্লার ঘুষ নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ভুক্তভোগীরা বলছেন, রেকর্ড রুম নয়, যেন এটি একটি ‘ঘুষের হাট’।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, রেকর্ড অফিসের তৃতীয় তলায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রকাশ্যেই ঘুষ নিচ্ছেন। ঘুষ বাণিজ্য এতটাই ভয়াবহ যে, এই অফিসের কার্যক্রম যেন দালালচক্রের হাতে জিম্মি।

ভুক্তভোগীদের ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা

ভাঙ্গার বাসিন্দা হাসান জানান, একটি কাগজ তুলতে তিনি দফায় দফায় ১২ হাজার টাকা ঘুষ দিয়েছেন, কিন্তু দুই মাস পার হলেও তার কাজ হয়নি। উল্টো মাসুদ আলী আরও টাকা দাবি করেন এবং পরে টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

বোয়ালমারীর মামুন বলেন, দুটি দলিল তুলতে তার কাছ থেকে প্রথমে ৫ হাজার, পরে আরও ২ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, “এখানে যারা কাজ করে সবাই ঘুষ খায়। টাকা না দিয়ে কাজ করা অসম্ভব।”

এছাড়াও, নগরকান্দার বাবু জানান, তার কাছ থেকে ৪ হাজার টাকা নিয়েও কাজ করেননি মাসুদ আলী মোল্লা। ভাঙ্গার সাহেবআলী নামে এক ব্যক্তিও ৯ হাজার টাকা দিয়ে প্রতারিত হয়েছেন।

মধুখালীর ৮০ বছর বয়সী আব্দুল করিম এবং সদরপুরের কৃষক আবুল কালামও যথাক্রমে ৫ হাজার ও ১০ হাজার টাকা ঘুষ দিয়ে হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন।

মাসুদ আলী ও তার সিন্ডিকেটের নানা তথ্য

অনুসন্ধানে জানা যায়, রেকর্ড রক্ষক মাসুদ আলী মোল্লা প্রায় ১০-১২ জনের একটি দালাল চক্রের নেতৃত্ব দেন। এই চক্র গ্রামের সহজ-সরল লোকজনের কাছ থেকে চুক্তিতে টাকা নেয়, কিন্তু কাজ না করে আরও অতিরিক্ত টাকা দাবি করে।

এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, মাসুদ আলী মোল্লার আসল নাম মোঃ শাহাবুদ্দীন মোল্লা। ২০-২৫ বছর আগে তিনি মানিকদাহ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। রেকর্ড রুমে চাকরির সুবাদে তিনি তিন কোটি টাকা মূল্যের বিলাসবহুল রাজপ্রাসাদ তৈরি করেছেন, যা নিয়ে এলাকায় গুজব রয়েছে যে তিনি যেন ‘আলাদিনের চেরাগ’ পেয়েছেন।

উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ ও কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভুক্তভোগীরা মাসুদ আলী মোল্লার অবিলম্বে অপসারণ এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে জেলা রেজিস্ট্রার জানিয়েছেন, ঘুষ লেনদেনের অভিযোগের ব্যাপারে মাসুদ আলী মোল্লাকে তিন দিনের মধ্যে লিখিত জবাব দাখিল করতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, “যদি উপযুক্ত জবাব দিতে না পারে, তাহলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”