ফরিদপুরে শোক, অতঃপর ক্ষোভ: বাবা-মায়ের সামনে পিষ্ট শিশু মিম; ১৫ বাড়ি ভাঙচুর, আহত ১০!
- আপডেট সময় : ১২:৩৪:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ জুন ২০২৫
- / 710
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বাবা-মায়ের চোখের সামনে বেপরোয়া মোটরসাইকেলের ধাক্কায় তাহমিদা আক্তার মিম (৭) নামের দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (৯ জুন, ২০২৫) বিকেলে সংঘটিত এই দুর্ঘটনার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (১০ জুন) সকালে শিশুটি মারা যায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এবং ১৫টি বাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী জানান, সোমবার বিকেলে আলগী ইউনিয়নের নাওরা গ্রামে নিজ বাড়ির সামনে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়েছিল ছলনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী তাহমিদা আক্তার মিম। এ সময় নাওড়া গ্রামের কাশেম মুন্সীর বখাটে ছেলে রবি মুন্সি বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালিয়ে শিশু মিমকে ধাক্কা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। চোখের সামনে এমন ঘটনায় গুরুতর আহত মিমকে তার বাবা-মা উদ্ধার করে দ্রুত ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় সেদিন রাতেই মিমকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকালে ছোট্ট তাহমিদা আক্তার মিম শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে। রাতে পারিবারিকভাবে তার দাফন সম্পন্ন হয়।
মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা, ভাঙচুর ও সংঘর্ষ
এদিকে, মিমের মৃত্যুর খবর গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মিমের বাবা রিফাত আলীর দলের মাতবর ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালামের লোকজন মোটরসাইকেল চালক রবি মুন্সির বাড়িসহ তাদের দলের ১৫টি বাড়িতে ভাঙচুর চালায়। এই ভাঙচুর ও সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে ভাঙ্গা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রতন জানান, “সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের সংবাদ পেয়ে আমি ও ওসি স্যারসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছি। বর্তমানে দুই পক্ষের লোকজনই এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছে।” পরিস্থিতি শান্ত রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।





















