ঢাকা ১২:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে ইউপি সদস্য ও জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০১:২২:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৫
  • / 556

ফরিদপুরের সালথায় এক নারীর জমি দখল করে চাঁদা চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও এক জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে। রোববার দুপুরে সালথা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এই গুরুতর অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী নারী নিলুফা ইয়াসমিন।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ

সংবাদ সম্মেলনে নিলুফা ইয়াসমিন জানান, সালথা উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়নের চন্ডীবরদী গ্রামে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে তার ৯৩ শতাংশ জমি রয়েছে। জমিটি পতিত থাকায় স্থানীয় তরুণরা সেখানে খেলাধুলা করত। সম্প্রতি তিনি পারিবারিক সিদ্ধান্তে জমিতে আমগাছ লাগিয়ে বেড়া দেন।

তার অভিযোগ, গত ৪ আগস্ট আরও কিছু গাছ লাগাতে গেলে স্থানীয় ইউপি সদস্য ওলিয়ার রহমান, উপজেলা জামায়াতের আমির আবুল ফজল মুরাদ এবং হাসান নামে আরেকজন তাকে বাধা দেন। তারা সব গাছ উপড়ে ফেলেন এবং বেড়া ভেঙে দেন। এ সময় তারা তাকে বলেন, ওই জমিতে কিছু করতে হলে তাদের ১২ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে, নয়তো তাকে জমিতে আসতে দেওয়া হবে না।

পরে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-এর কাছে লিখিত অভিযোগ দিলে অভিযুক্তরা সংবাদ মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য দিয়ে তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় বলে তিনি জানান। জমি উদ্ধারে তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

অভিযুক্তদের বক্তব্য

অভিযোগ অস্বীকার করে জামায়াত নেতা আবুল ফজল মুরাদ বলেন, ৫৫ বছর আগে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর ওই জমিটি অধিগ্রহণ করে। তখন থেকেই এটি খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তিনি আরও জানান, নিলুফা ইয়াসমিন খেলার মাঠটি নিজের দাবি করায় তারা বাধা দেন, আর এতেই তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে মিথ্যা চাঁদা দাবির অভিযোগ করছেন।

ইউপি সদস্য ওলিয়ার রহমানও অভিযোগটি মিথ্যা বলে দাবি করেন এবং বলেন, খেলার মাঠটি দখল করতে সহায়তা না করায় ওই নারী ক্ষুব্ধ হয়েছেন।

প্রশাসনের ভূমিকা

এ বিষয়ে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতাউর রহমান বলেন, জমির মালিকানা নিয়ে দুটি পক্ষের মধ্যে ঝামেলা চলছে। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর তদন্ত করলে জমির প্রকৃত মালিকানা বের হয়ে আসবে।

সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনিছুর রহমান বালী জানান, জমির মালিকানা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য স্থানীয় তহশিলদারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফরিদপুরে ইউপি সদস্য ও জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ

আপডেট সময় : ০১:২২:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৫

ফরিদপুরের সালথায় এক নারীর জমি দখল করে চাঁদা চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও এক জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে। রোববার দুপুরে সালথা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এই গুরুতর অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী নারী নিলুফা ইয়াসমিন।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ

সংবাদ সম্মেলনে নিলুফা ইয়াসমিন জানান, সালথা উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়নের চন্ডীবরদী গ্রামে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে তার ৯৩ শতাংশ জমি রয়েছে। জমিটি পতিত থাকায় স্থানীয় তরুণরা সেখানে খেলাধুলা করত। সম্প্রতি তিনি পারিবারিক সিদ্ধান্তে জমিতে আমগাছ লাগিয়ে বেড়া দেন।

তার অভিযোগ, গত ৪ আগস্ট আরও কিছু গাছ লাগাতে গেলে স্থানীয় ইউপি সদস্য ওলিয়ার রহমান, উপজেলা জামায়াতের আমির আবুল ফজল মুরাদ এবং হাসান নামে আরেকজন তাকে বাধা দেন। তারা সব গাছ উপড়ে ফেলেন এবং বেড়া ভেঙে দেন। এ সময় তারা তাকে বলেন, ওই জমিতে কিছু করতে হলে তাদের ১২ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে, নয়তো তাকে জমিতে আসতে দেওয়া হবে না।

পরে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-এর কাছে লিখিত অভিযোগ দিলে অভিযুক্তরা সংবাদ মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য দিয়ে তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় বলে তিনি জানান। জমি উদ্ধারে তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

অভিযুক্তদের বক্তব্য

অভিযোগ অস্বীকার করে জামায়াত নেতা আবুল ফজল মুরাদ বলেন, ৫৫ বছর আগে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর ওই জমিটি অধিগ্রহণ করে। তখন থেকেই এটি খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তিনি আরও জানান, নিলুফা ইয়াসমিন খেলার মাঠটি নিজের দাবি করায় তারা বাধা দেন, আর এতেই তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে মিথ্যা চাঁদা দাবির অভিযোগ করছেন।

ইউপি সদস্য ওলিয়ার রহমানও অভিযোগটি মিথ্যা বলে দাবি করেন এবং বলেন, খেলার মাঠটি দখল করতে সহায়তা না করায় ওই নারী ক্ষুব্ধ হয়েছেন।

প্রশাসনের ভূমিকা

এ বিষয়ে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতাউর রহমান বলেন, জমির মালিকানা নিয়ে দুটি পক্ষের মধ্যে ঝামেলা চলছে। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর তদন্ত করলে জমির প্রকৃত মালিকানা বের হয়ে আসবে।

সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনিছুর রহমান বালী জানান, জমির মালিকানা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য স্থানীয় তহশিলদারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।