ঢাকা ০১:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তোলপাড় ফরিদপুর: বারান্দায় কবর খুঁড়ে স্বামীকে গলা কাটার চেষ্টা স্ত্রী-শাশুড়ির

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৪:৪০:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৫
  • / 773

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় স্ত্রী, শাশুড়ি ও দাদিশাশুড়ির বিরুদ্ধে ঠান্ডু বেপারি (৩৫) নামে এক যুবককে গলা কেটে হত্যাচেষ্টার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (৩ অক্টোবর) রাত দেড়টার দিকে উপজেলার ভাষানচর ইউনিয়নের মুন্সি গ্রামে এই রোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হত্যাচেষ্টার আগেই অভিযুক্তরা পাশের ঘরের বারান্দায় যুবকটির জন্য একটি কবর প্রস্তুত করে রেখেছিল। টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যেই এই পূর্বপরিকল্পিত হামলা বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

হত্যার ষড়যন্ত্র ও নৃশংসতা

ভুক্তভোগী ঠান্ডু বেপারি একই উপজেলার ছলেনামা এলাকার বেপারিডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা এবং ঢাকায় একটি ওয়ার্কশপ ব্যবসা পরিচালনা করেন।

ঘুমের ওষুধ ও হামলা: জানা গেছে, রাতে ঠান্ডু বেপারিকে খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাওয়ানো হয়। গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হওয়ার পর রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে তাঁর স্ত্রী লাবনী আক্তার (২৮), শাশুড়ি শহিদা বেগম এবং দাদিশাশুড়ি জনকী বেগম মিলে তাঁকে কাস্তে দিয়ে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করেন।

যেভাবে রক্ষা: ভাগ্যক্রমে, মুখে দাঁড়ি থাকায় তাঁর গলা পুরোপুরি কাটেনি। এতে ঠান্ডু বেপারি বেঁচে যান এবং চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাঁকে উদ্ধার করে। দ্রুত তাঁকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পূর্বপরিকল্পনা ও পুলিশের মন্তব্য

এই ঘটনাটি কেবল হত্যাচেষ্টা নয়, বরং ছিল একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।

কবর খোঁড়া: ঘটনার আগে অভিযুক্তরা পাশের ঘরের বারান্দায় ঠান্ডু বেপারির জন্য একটি কবর প্রস্তুত করে রেখেছিল বলে জানা গেছে, যা এই ঘটনার পূর্বপরিকল্পনার প্রমাণ দেয়।

ওসি’র বক্তব্য: সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকদেব রায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন, এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাচেষ্টা। টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যেই এমন ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তোলপাড় ফরিদপুর: বারান্দায় কবর খুঁড়ে স্বামীকে গলা কাটার চেষ্টা স্ত্রী-শাশুড়ির

আপডেট সময় : ০৪:৪০:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৫

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় স্ত্রী, শাশুড়ি ও দাদিশাশুড়ির বিরুদ্ধে ঠান্ডু বেপারি (৩৫) নামে এক যুবককে গলা কেটে হত্যাচেষ্টার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (৩ অক্টোবর) রাত দেড়টার দিকে উপজেলার ভাষানচর ইউনিয়নের মুন্সি গ্রামে এই রোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হত্যাচেষ্টার আগেই অভিযুক্তরা পাশের ঘরের বারান্দায় যুবকটির জন্য একটি কবর প্রস্তুত করে রেখেছিল। টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যেই এই পূর্বপরিকল্পিত হামলা বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

হত্যার ষড়যন্ত্র ও নৃশংসতা

ভুক্তভোগী ঠান্ডু বেপারি একই উপজেলার ছলেনামা এলাকার বেপারিডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা এবং ঢাকায় একটি ওয়ার্কশপ ব্যবসা পরিচালনা করেন।

ঘুমের ওষুধ ও হামলা: জানা গেছে, রাতে ঠান্ডু বেপারিকে খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাওয়ানো হয়। গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হওয়ার পর রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে তাঁর স্ত্রী লাবনী আক্তার (২৮), শাশুড়ি শহিদা বেগম এবং দাদিশাশুড়ি জনকী বেগম মিলে তাঁকে কাস্তে দিয়ে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করেন।

যেভাবে রক্ষা: ভাগ্যক্রমে, মুখে দাঁড়ি থাকায় তাঁর গলা পুরোপুরি কাটেনি। এতে ঠান্ডু বেপারি বেঁচে যান এবং চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাঁকে উদ্ধার করে। দ্রুত তাঁকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পূর্বপরিকল্পনা ও পুলিশের মন্তব্য

এই ঘটনাটি কেবল হত্যাচেষ্টা নয়, বরং ছিল একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।

কবর খোঁড়া: ঘটনার আগে অভিযুক্তরা পাশের ঘরের বারান্দায় ঠান্ডু বেপারির জন্য একটি কবর প্রস্তুত করে রেখেছিল বলে জানা গেছে, যা এই ঘটনার পূর্বপরিকল্পনার প্রমাণ দেয়।

ওসি’র বক্তব্য: সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকদেব রায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন, এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাচেষ্টা। টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যেই এমন ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।