ঢাকা ০৫:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে ৩০ হাজার টাকার বদলে ১৫ হাজার টাকার বাছুর! প্রকল্পে অনিয়ম

মিজানুর রহমান সদরপুর, ফরিদপুর:
  • আপডেট সময় : ০৭:২১:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ জুন ২০২৫
  • / 448

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ১২টি বকনা বাছুর বিতরণ করা হয়। কিন্তু রোববার (১ জুন) সকাল ১১টায় উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত এ বিতরণ কার্যক্রমে জেলেরা অভিযোগ তোলেন দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে।

রোগা ও দুর্বল বাছুর, উপকারভোগীরা ক্ষুব্ধ

বেশ কয়েকজন প্রকল্পভুক্ত জেলে জানান, বিতরণ করা বাছুরগুলো ছিল অত্যন্ত রোগা ও দুর্বল। এসব পশু লালন-পালনে অতিরিক্ত খরচ ও সময় লাগবে বলে মনে করছেন তারা। এ ছাড়া প্রকৃত ইলিশজেলে নয়, এমন কিছু ব্যক্তিকেও বাছুর দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

এক জেলে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই বাছুর বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছাবে কি না জানি না। রোগাক্রান্ত বাছুর এই বর্ষায় কিভাবে বাঁচিয়ে রাখব?”

বাজেট অনুযায়ী মানের ঘাটতি

জেলেরা জানান, প্রতিটি বাছুরের জন্য ৩০ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও বিতরণ করা বাছুরগুলোর বাজারমূল্য ১২-১৫ হাজার টাকার বেশি নয়। এর ফলে প্রকল্পের বরাদ্দ তছরুপ হয়েছে বলেই তাদের আশঙ্কা।

এক উপকারভোগী জেলের স্ত্রী বলেন, “এ বাছুরের যে অবস্থা, তাতে আমার ছোট বাচ্চা লালন-পালন করব নাকি এই বাছুর? এ গুলো না দিলেই ভালো হতো।”

মৎস্য কর্মকর্তার ব্যাখ্যা

সদরপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মেহেদি হাসান জানান, এসব বাছুর ঠিকাদারের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “ঈদের সময় বাজেটের মধ্যে এর চেয়ে ভালো বাছুর পাওয়া কঠিন। কিছু কিছু বাছুর নিয়ে আমরাও হতাশ।”

ইউএনও’র প্রতিক্রিয়া

এ বিষয়ে সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকিয়া সুলতানা বলেন, “রোগাক্রান্ত বাছুর বিতরণের বিষয়টি আমি শুনেছি। কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।”

প্রকল্পের উদ্দেশ্য ও প্রশ্ন

প্রতিবছর ইলিশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে সরকার ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এই সময়ে জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থান ও সহায়তা দিতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে থাকে। এরই অংশ হিসেবে বাছুর বিতরণ করা হয়। তবে অনিয়মের অভিযোগ প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

দাবি উঠেছে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের

স্থানীয় সচেতন মহল এবং জেলেরা প্রকৃত উপকারভোগীদের চিহ্নিত করে মানসম্মত সহায়তা প্রদানের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

ফরিদপুরে ৩০ হাজার টাকার বদলে ১৫ হাজার টাকার বাছুর! প্রকল্পে অনিয়ম

আপডেট সময় : ০৭:২১:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ জুন ২০২৫

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ১২টি বকনা বাছুর বিতরণ করা হয়। কিন্তু রোববার (১ জুন) সকাল ১১টায় উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত এ বিতরণ কার্যক্রমে জেলেরা অভিযোগ তোলেন দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে।

রোগা ও দুর্বল বাছুর, উপকারভোগীরা ক্ষুব্ধ

বেশ কয়েকজন প্রকল্পভুক্ত জেলে জানান, বিতরণ করা বাছুরগুলো ছিল অত্যন্ত রোগা ও দুর্বল। এসব পশু লালন-পালনে অতিরিক্ত খরচ ও সময় লাগবে বলে মনে করছেন তারা। এ ছাড়া প্রকৃত ইলিশজেলে নয়, এমন কিছু ব্যক্তিকেও বাছুর দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

এক জেলে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই বাছুর বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছাবে কি না জানি না। রোগাক্রান্ত বাছুর এই বর্ষায় কিভাবে বাঁচিয়ে রাখব?”

বাজেট অনুযায়ী মানের ঘাটতি

জেলেরা জানান, প্রতিটি বাছুরের জন্য ৩০ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও বিতরণ করা বাছুরগুলোর বাজারমূল্য ১২-১৫ হাজার টাকার বেশি নয়। এর ফলে প্রকল্পের বরাদ্দ তছরুপ হয়েছে বলেই তাদের আশঙ্কা।

এক উপকারভোগী জেলের স্ত্রী বলেন, “এ বাছুরের যে অবস্থা, তাতে আমার ছোট বাচ্চা লালন-পালন করব নাকি এই বাছুর? এ গুলো না দিলেই ভালো হতো।”

মৎস্য কর্মকর্তার ব্যাখ্যা

সদরপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মেহেদি হাসান জানান, এসব বাছুর ঠিকাদারের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “ঈদের সময় বাজেটের মধ্যে এর চেয়ে ভালো বাছুর পাওয়া কঠিন। কিছু কিছু বাছুর নিয়ে আমরাও হতাশ।”

ইউএনও’র প্রতিক্রিয়া

এ বিষয়ে সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকিয়া সুলতানা বলেন, “রোগাক্রান্ত বাছুর বিতরণের বিষয়টি আমি শুনেছি। কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।”

প্রকল্পের উদ্দেশ্য ও প্রশ্ন

প্রতিবছর ইলিশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে সরকার ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এই সময়ে জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থান ও সহায়তা দিতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে থাকে। এরই অংশ হিসেবে বাছুর বিতরণ করা হয়। তবে অনিয়মের অভিযোগ প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

দাবি উঠেছে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের

স্থানীয় সচেতন মহল এবং জেলেরা প্রকৃত উপকারভোগীদের চিহ্নিত করে মানসম্মত সহায়তা প্রদানের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।