বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ কোনোভাবেই মানতে না পেরে বাবাকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন কলেজ শিক্ষার্থী জামিউল হক খান জিসান (২৩)। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেছেন যে, বাবাকে অতিমাত্রায় ঘুমের ওষুধ খাইয়ে হত্যা করেন এবং লাশ গুম করার জন্য তিন দিন আগে বাড়ির পাশে গর্তও খুঁড়ে রেখেছিলেন।
নিহত রাশিদুল হক খান সুমন (৪৭) ঘাটাইল উপজেলার সন্ধানপুর ইউনিয়নের চকপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। বুধবার রাতে সুমনের বাবা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল হক খান (৮২) এই ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
যেভাবে ঘটল ঘটনা
সুমন ছিলেন একজন ওষুধ ব্যবসায়ী। প্রায় এক বছর আগে তার স্ত্রী জুলিয়া খানমের সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়। বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ মেনে নিতে পারছিলেন না জিসান। মায়ের সঙ্গে বাবার সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে অনেক চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। এর জের ধরে গত ২০ আগস্ট মায়ের ঘরে ফিরে আসার বিষয়ে বাবার সঙ্গে তার তীব্র ঝগড়া হয় এবং একপর্যায়ে বাবার মারধরের শিকার হন তিনি।
জিসান তার বাবাকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে হত্যার পরিকল্পনা করেন। এজন্য তিনি আগেই ফার্মেসি থেকে ২০টি ঘুমের ট্যাবলেট এনে রাখেন এবং ঘরের পাশে একটি নির্জন স্থানে লাশ গুমের জন্য গর্ত খুঁড়ে রাখেন।
ওই রাতে মারধরের শিকার হয়েও জিসান বাবার সঙ্গে একই ঘরে ঘুমান। রাত পৌনে ১২টার দিকে বাবা সুমনের গ্যাস নিরাময়ের ওষুধ চাইলে জিসান সেই ওষুধের সঙ্গে ২০টি ঘুমের ট্যাবলেট মেশানো পানি দেন। এই পানি পান করার পর সুমন ঘুমিয়ে পড়েন এবং চিরঘুমে চলে যান।
যেমন করে ধরা পড়লেন জিসান
পরদিন দুপুরেও ঘুম থেকে না ওঠায় প্রতিবেশীরা গিয়ে সুমনের মৃত্যু নিশ্চিত হন। সবাই তার স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে ভেবে দাফন সম্পন্ন করেন। তবে জিসানের অস্বাভাবিক আচরণে সন্দেহ হয় তার দাদা নুরুল হক খানের।
গত ২৭ আগস্ট বিকেলে নুরুল হক খান জিসানকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে বাবাকে হত্যার কথা স্বীকার করে। পরে তিনি বিষয়টি স্থানীয়দের জানালে তারা জিসানকে আটক করে পুলিশকে খবর দেন।
ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মোশাররফ বলেন, “প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জিসান বাবাকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।”