ঢাকা ১০:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে ঈদের দিন ইজ্জল হত্যাকাণ্ড, দশদিনেও গ্রেপ্তার শূন্য

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১১:৫৭:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ জুন ২০২৫
  • / 437

ফরিদপুরের কানাইপুরের হোগলাকান্দি গ্রামে ঈদুল আযহার দিন সংঘটিত ইজ্জল শেখ হত্যাকাণ্ডের ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও কেউ গ্রেফতার হয়নি। পুলিশ বলছে, তদন্ত চলছে; তবে এখনো কাউকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্যও আটক করা হয়নি।

পুলিশ সূত্র জানায়, বিষক্রিয়াজনিত মৃত্যুর প্রাথমিক রিপোর্টের ভিত্তিতে ঘটনাটি আপাতত অপমৃত্যু হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে (অ.মৃ. মা. নং ৫৭, তারিখ: ৭ জুন)। তবে নিহতের পরিবার এবং স্থানীয়দের দাবি, ইজ্জলকে সংঘবদ্ধভাবে মারধর, নদীতে চুবানো, বিষ খাওয়ানো ও গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, জুয়ায় হেরে একটি মোবাইল চুরির অপবাদ দিয়েই ইজ্জলের ওপর চলে মব নিপীড়ন। মামা মাসুদ ব্যাপারী জানান, ঘটনার দিন দীর্ঘ সময় ইজ্জলকে হাসপাতালে না নিয়ে ফেলে রাখা হয়।

অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় বিষয়টি ধামাচাপার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। জানা গেছে, একটি মহল নিহতের পরিবারকে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে ঘটনা মীমাংসার চেষ্টা করছে।

এ নিয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ওসি মো. আসাদ উজ্জামান বলেন, “মৃত্যুর পেছনে হত্যা ও আত্মহত্যা দুই ধরনের অভিযোগ থাকায় বিষয়টি গভীর তদন্তের দাবি রাখে।”

ঘটনার পর ‘বাইদ্যা পাড়া’ নামে পরিচিত এলাকাটির নাম ছড়িয়ে পড়েছে— যেখানে ইজ্জলকে একাধিক দফায় মারধর করা হয়। স্থানীয়রা বলছেন, কমপক্ষে ১২-১৫ জন ব্যক্তি এ ঘটনায় সরাসরি অংশ নেন। তাদের মধ্যে অধিকাংশই পলাতক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের চেয়ারপার্সন শাহরিয়া আফরিন বলেন, “মোব নিপীড়ন বা হত্যার মতো ঘটনা অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে মীমাংসা করা হলে, তা অপরাধীদের আরও উৎসাহিত করবে।”

তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধীদের শাস্তির মাধ্যমেই কেবল সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব।”

বর্তমান বাস্তবতা:
নিহত ইজ্জলের পরিবার অত্যন্ত হতদরিদ্র হওয়ায় তারা চাপ ও প্রলোভনের মুখে সমঝোতার পথে হাঁটবেন কিনা, সেই প্রশ্ন এখন অনেকের মনেই। বিধবা নবিরন বেগম গণমাধ্যমে বললেও— “আমরা কোনো টাকা চাই না, যারা আমার স্বামীকে মেরে ফেলেছে তাদের ফাঁসি চাই।” তবে পরিবারকে রাজি করাতে একাধিক মহল চাপ প্রয়োগ করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে, স্থানীয় সচেতন মহল আশঙ্কা করছে— ইজ্জল শেখের মতো আরেকটি নাম হয়তো প্রভাবশালীদের ছায়ায় ন্যায়ের বদলে টাকার জলে ভেসে যাবে!

ফরিদপুরে ঈদের দিন ইজ্জল হত্যাকাণ্ড, দশদিনেও গ্রেপ্তার শূন্য

আপডেট সময় : ১১:৫৭:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ জুন ২০২৫

ফরিদপুরের কানাইপুরের হোগলাকান্দি গ্রামে ঈদুল আযহার দিন সংঘটিত ইজ্জল শেখ হত্যাকাণ্ডের ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও কেউ গ্রেফতার হয়নি। পুলিশ বলছে, তদন্ত চলছে; তবে এখনো কাউকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্যও আটক করা হয়নি।

পুলিশ সূত্র জানায়, বিষক্রিয়াজনিত মৃত্যুর প্রাথমিক রিপোর্টের ভিত্তিতে ঘটনাটি আপাতত অপমৃত্যু হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে (অ.মৃ. মা. নং ৫৭, তারিখ: ৭ জুন)। তবে নিহতের পরিবার এবং স্থানীয়দের দাবি, ইজ্জলকে সংঘবদ্ধভাবে মারধর, নদীতে চুবানো, বিষ খাওয়ানো ও গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, জুয়ায় হেরে একটি মোবাইল চুরির অপবাদ দিয়েই ইজ্জলের ওপর চলে মব নিপীড়ন। মামা মাসুদ ব্যাপারী জানান, ঘটনার দিন দীর্ঘ সময় ইজ্জলকে হাসপাতালে না নিয়ে ফেলে রাখা হয়।

অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় বিষয়টি ধামাচাপার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। জানা গেছে, একটি মহল নিহতের পরিবারকে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে ঘটনা মীমাংসার চেষ্টা করছে।

এ নিয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ওসি মো. আসাদ উজ্জামান বলেন, “মৃত্যুর পেছনে হত্যা ও আত্মহত্যা দুই ধরনের অভিযোগ থাকায় বিষয়টি গভীর তদন্তের দাবি রাখে।”

ঘটনার পর ‘বাইদ্যা পাড়া’ নামে পরিচিত এলাকাটির নাম ছড়িয়ে পড়েছে— যেখানে ইজ্জলকে একাধিক দফায় মারধর করা হয়। স্থানীয়রা বলছেন, কমপক্ষে ১২-১৫ জন ব্যক্তি এ ঘটনায় সরাসরি অংশ নেন। তাদের মধ্যে অধিকাংশই পলাতক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের চেয়ারপার্সন শাহরিয়া আফরিন বলেন, “মোব নিপীড়ন বা হত্যার মতো ঘটনা অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে মীমাংসা করা হলে, তা অপরাধীদের আরও উৎসাহিত করবে।”

তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধীদের শাস্তির মাধ্যমেই কেবল সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব।”

বর্তমান বাস্তবতা:
নিহত ইজ্জলের পরিবার অত্যন্ত হতদরিদ্র হওয়ায় তারা চাপ ও প্রলোভনের মুখে সমঝোতার পথে হাঁটবেন কিনা, সেই প্রশ্ন এখন অনেকের মনেই। বিধবা নবিরন বেগম গণমাধ্যমে বললেও— “আমরা কোনো টাকা চাই না, যারা আমার স্বামীকে মেরে ফেলেছে তাদের ফাঁসি চাই।” তবে পরিবারকে রাজি করাতে একাধিক মহল চাপ প্রয়োগ করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে, স্থানীয় সচেতন মহল আশঙ্কা করছে— ইজ্জল শেখের মতো আরেকটি নাম হয়তো প্রভাবশালীদের ছায়ায় ন্যায়ের বদলে টাকার জলে ভেসে যাবে!