ঢাকা ১০:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংসদে মদ নিষিদ্ধের দাবি: দ্বিমুখী নীতি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৪:৫০:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬
  • / 153

জাতীয় সংসদে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের মদের লাইসেন্স বাতিলের দাবিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। নেটিজেন এবং বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টির গভীরতা ও আইনি কাঠামো না বুঝেই সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জনের উদ্দেশ্যে তিনি এই বক্তব্য দিয়েছেন।

মদের লাইসেন্স ও অতীত ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক:

অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের এই দাবির বিপরীতে সমালোচকরা বলছেন, বাংলাদেশে মদের লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়াটি নতুন কিছু নয়। এমনকি বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে, যখন জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামী বাণিজ্যমন্ত্রী ছিলেন, সে সময়ও মদের লাইসেন্স নবায়ন ও নতুন লাইসেন্স প্রদানের নজির রয়েছে। তৎকালীন সময়ে যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম বাবুল মদের অন্যতম বড় লাইসেন্স পেয়েছিলেন। ফলে বর্তমানে জামায়াত নেতার এই দাবিকে অনেকেই ‘দ্বিমুখী নীতি’ হিসেবে দেখছেন।

মদ ও মাদকের পার্থক্য এবং আইনি প্রেক্ষাপট:

অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বিগত সংসদ অধিবেশনে মদের লাইসেন্স বাতিলের দাবি জানিয়ে বলেন, “আল্লাহ তাআলা মদকে হারাম করেছেন। আমি সরকারকে অনুরোধ করব, দেশের যুবসমাজকে রক্ষা করতে অতিদ্রুত এই মদের লাইসেন্স বাতিল করা হোক।”

বিশ্লেষকদের মতে, তার বক্তব্যে সবচেয়ে বড় যে ত্রুটি ধরা পড়েছে, তা হলো মদ ও মাদকের মধ্যকার পার্থক্য গুলিয়ে ফেলা। মদ নির্দিষ্ট নিয়মে লাইসেন্সের মাধ্যমে বৈধতা পায়, অন্যদিকে ইয়াবা, আইস বা হেরোইনের মতো মারাত্মক মাদক সম্পূর্ণ অবৈধ। মাদক পরিস্থিতি নিয়ে জামায়াত এমপির কোনো জোরালো ভূমিকা না থাকা নিয়ে সচেতন নাগরিকরা প্রশ্ন তুলেছেন। ২০২৩ সালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে মাদকের কারণে প্রতিবছর প্রায় ৫ হাজার ১৪৭ কোটি টাকা পাচার হয়ে যায় এবং এই ঘটনায় বাংলাদেশ বিশ্বে অন্যতম শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে।

নেটিজেন ও বিশ্লেষকদের মতামত:

আশিকুর রহমান নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, “দেশে হাজার হাজার যুবক ইয়াবায় আসক্ত, তা নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই। জামায়াত এমপি এসেছেন সস্তা সেন্টিমেন্ট নিয়ে খেলতে।”

ফারিয়া আহমেদ বলেন, “মদ এবং মাদক এক নয়। মদ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত একটি বিষয়, যা লাইসেন্সধারী ব্যক্তিরা ব্যবহার করেন। কিন্তু মাদক পুরো দেশ ধ্বংস করছে।”

সুলাইমান কবির জানান, রাষ্ট্র পরিচালনা আর ফতোয়া এক কথা নয়। অনেক রক্ষণশীল মুসলিম দেশও বিদেশি পর্যটক ও অতিথিদের জন্য সীমিত পরিসরে মদের লাইসেন্স দিয়ে থাকে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণ:

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদে অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের দেওয়া বক্তব্যটি যৌক্তিক ভিত্তির চেয়ে আবেগের ওপর বেশি দাঁড়িয়ে ছিল। ইতিহাস, আইন এবং বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মদের লাইসেন্স একটি রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, যা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। দেশের সচেতন মানুষ এখন কেবল ধর্মীয় আবেগের বুলিতে বিভ্রান্ত না হয়ে, মাদকমুক্ত সুস্থ সমাজ গঠনের ওপর জোর দিচ্ছেন।

সংসদে মদ নিষিদ্ধের দাবি: দ্বিমুখী নীতি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন

আপডেট সময় : ০৪:৫০:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

জাতীয় সংসদে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের মদের লাইসেন্স বাতিলের দাবিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। নেটিজেন এবং বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টির গভীরতা ও আইনি কাঠামো না বুঝেই সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জনের উদ্দেশ্যে তিনি এই বক্তব্য দিয়েছেন।

মদের লাইসেন্স ও অতীত ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক:

অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের এই দাবির বিপরীতে সমালোচকরা বলছেন, বাংলাদেশে মদের লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়াটি নতুন কিছু নয়। এমনকি বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে, যখন জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামী বাণিজ্যমন্ত্রী ছিলেন, সে সময়ও মদের লাইসেন্স নবায়ন ও নতুন লাইসেন্স প্রদানের নজির রয়েছে। তৎকালীন সময়ে যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম বাবুল মদের অন্যতম বড় লাইসেন্স পেয়েছিলেন। ফলে বর্তমানে জামায়াত নেতার এই দাবিকে অনেকেই ‘দ্বিমুখী নীতি’ হিসেবে দেখছেন।

মদ ও মাদকের পার্থক্য এবং আইনি প্রেক্ষাপট:

অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বিগত সংসদ অধিবেশনে মদের লাইসেন্স বাতিলের দাবি জানিয়ে বলেন, “আল্লাহ তাআলা মদকে হারাম করেছেন। আমি সরকারকে অনুরোধ করব, দেশের যুবসমাজকে রক্ষা করতে অতিদ্রুত এই মদের লাইসেন্স বাতিল করা হোক।”

বিশ্লেষকদের মতে, তার বক্তব্যে সবচেয়ে বড় যে ত্রুটি ধরা পড়েছে, তা হলো মদ ও মাদকের মধ্যকার পার্থক্য গুলিয়ে ফেলা। মদ নির্দিষ্ট নিয়মে লাইসেন্সের মাধ্যমে বৈধতা পায়, অন্যদিকে ইয়াবা, আইস বা হেরোইনের মতো মারাত্মক মাদক সম্পূর্ণ অবৈধ। মাদক পরিস্থিতি নিয়ে জামায়াত এমপির কোনো জোরালো ভূমিকা না থাকা নিয়ে সচেতন নাগরিকরা প্রশ্ন তুলেছেন। ২০২৩ সালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে মাদকের কারণে প্রতিবছর প্রায় ৫ হাজার ১৪৭ কোটি টাকা পাচার হয়ে যায় এবং এই ঘটনায় বাংলাদেশ বিশ্বে অন্যতম শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে।

নেটিজেন ও বিশ্লেষকদের মতামত:

আশিকুর রহমান নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, “দেশে হাজার হাজার যুবক ইয়াবায় আসক্ত, তা নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই। জামায়াত এমপি এসেছেন সস্তা সেন্টিমেন্ট নিয়ে খেলতে।”

ফারিয়া আহমেদ বলেন, “মদ এবং মাদক এক নয়। মদ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত একটি বিষয়, যা লাইসেন্সধারী ব্যক্তিরা ব্যবহার করেন। কিন্তু মাদক পুরো দেশ ধ্বংস করছে।”

সুলাইমান কবির জানান, রাষ্ট্র পরিচালনা আর ফতোয়া এক কথা নয়। অনেক রক্ষণশীল মুসলিম দেশও বিদেশি পর্যটক ও অতিথিদের জন্য সীমিত পরিসরে মদের লাইসেন্স দিয়ে থাকে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণ:

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদে অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের দেওয়া বক্তব্যটি যৌক্তিক ভিত্তির চেয়ে আবেগের ওপর বেশি দাঁড়িয়ে ছিল। ইতিহাস, আইন এবং বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মদের লাইসেন্স একটি রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, যা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। দেশের সচেতন মানুষ এখন কেবল ধর্মীয় আবেগের বুলিতে বিভ্রান্ত না হয়ে, মাদকমুক্ত সুস্থ সমাজ গঠনের ওপর জোর দিচ্ছেন।