ঢাকা ০৭:৩৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লজ্জাজনক’ কমিটি: ফরিদপুর বিএনপি নেতার পদত্যাগ

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১২:২৮:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫
  • / 1170

ফরিদপুর জেলা বিএনপি কর্তৃক সদ্য প্রকাশিত মধুখালী উপজেলা বিএনপির কমিটিতে আওয়ামী লীগ (আ. লীগ), বিএনএম (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন) এবং বিতর্কিত ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়ার অভিযোগে কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন দলের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ভিপি ইকবাল হোসেন। তিনি একইসঙ্গে মধুখালী উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়কের পদেও আছেন।

তাঁর অভিযোগ, কমিটিতে এমন লোকজনকে পদ দেওয়া হয়েছে, যারা বিগত দিনে বিএনপির কোনো মিছিল-মিটিংয়ে ছিলেন না এবং স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের আমলে নেতাকর্মীদের পুলিশ দিয়ে হয়রানি করেছেন ও মিথ্যা মামলায় আসামি বানিয়েছেন।

পদত্যাগ: ‘নীতিগত আদর্শিক’ অবস্থান

ভিপি ইকবাল হোসেন গত ২৪ অক্টোবর প্রকাশিত নতুন কমিটি থেকে পদত্যাগ করে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক/সদস্য সচিব বরাবর চিঠি দিয়েছেন।

তাঁর চিঠির মূল বক্তব্য তুলে ধরা হলো:

আলোচনা ছাড়া পদায়ন: তাঁর সঙ্গে কোনো রকম আলোচনা না করেই তাঁকে তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক পদে পদায়ন করা হয়েছে।

আদর্শিক বিচ্যুতি: কমিটি প্রকাশ হওয়ার পর তিনি দেখতে পান যে, “উক্ত কমিটিতে আওয়ামী লীগ, বিএনএম, ও ৫ জুলাই ২০২৪ তারিখ পরবর্তী সময়ের বিভিন্ন লোকজন, যারা বিগত দিনে কোনদিন বিএনপির মিছিল মিটিং এ ছিল না…” এমন বিতর্কিত ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়েছে।

হয়রানিকারী নেতাদের পদ: তাঁর অভিযোগ, কমিটিতে এমন লোকজন স্থান পেয়েছেন যারা সৈরাচার হাসিনা সরকারের আমলে বিএনপির নেতাকর্মীদের থানায় পুলিশ দিয়ে হয়রানি করেছেন, মিথ্যা মামলায় আসামি বানিয়েছেন এবং পুলিশকে নেতাকর্মীদের বাড়ি চিনিয়ে দিতে সহযোগিতা করেছেন।

লজ্জা ও কষ্টের কারণ: তিনি নীতিগত আদর্শিক দিক থেকে মনে করছেন, এই কমিটিতে থাকা তাঁর জন্য “অত্যান্ত কষ্টকর ও লজ্জাজনক”।

ভিপি ইকবাল হোসেন স্বেচ্ছায় পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণে জেলা নেতৃত্বকে অনুরোধ করেছেন।

কমিটি নিয়ে মধুখালী বিএনপিতে তোলপাড়

ভিপি ইকবাল হোসেনের পদত্যাগ মধুখালী উপজেলা বিএনপির নতুন কমিটিকে ঘিরে চলা বিতর্ককে আরও উসকে দিল। এর আগে ফরিদপুরের অন্যান্য উপজেলা (আলফাডাঙ্গা, বোয়ালমারী ও মধুখালী) কমিটিতেও আ. লীগ সংশ্লিষ্টদের পদায়নের অভিযোগ উঠেছিল।

স্থানীয় বিএনপির ত্যাগী ও নির্যাতিত কর্মীরা মনে করছেন, দলের দুঃসময়ের কর্মীদের বাদ দিয়ে সুযোগসন্ধানী ও সরকারদলীয় সুবিধাভোগীদের স্থান দেওয়ায় দলের আদর্শিক ভিত্তি দুর্বল হচ্ছে।

লজ্জাজনক’ কমিটি: ফরিদপুর বিএনপি নেতার পদত্যাগ

আপডেট সময় : ১২:২৮:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫

ফরিদপুর জেলা বিএনপি কর্তৃক সদ্য প্রকাশিত মধুখালী উপজেলা বিএনপির কমিটিতে আওয়ামী লীগ (আ. লীগ), বিএনএম (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন) এবং বিতর্কিত ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়ার অভিযোগে কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন দলের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ভিপি ইকবাল হোসেন। তিনি একইসঙ্গে মধুখালী উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়কের পদেও আছেন।

তাঁর অভিযোগ, কমিটিতে এমন লোকজনকে পদ দেওয়া হয়েছে, যারা বিগত দিনে বিএনপির কোনো মিছিল-মিটিংয়ে ছিলেন না এবং স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের আমলে নেতাকর্মীদের পুলিশ দিয়ে হয়রানি করেছেন ও মিথ্যা মামলায় আসামি বানিয়েছেন।

পদত্যাগ: ‘নীতিগত আদর্শিক’ অবস্থান

ভিপি ইকবাল হোসেন গত ২৪ অক্টোবর প্রকাশিত নতুন কমিটি থেকে পদত্যাগ করে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক/সদস্য সচিব বরাবর চিঠি দিয়েছেন।

তাঁর চিঠির মূল বক্তব্য তুলে ধরা হলো:

আলোচনা ছাড়া পদায়ন: তাঁর সঙ্গে কোনো রকম আলোচনা না করেই তাঁকে তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক পদে পদায়ন করা হয়েছে।

আদর্শিক বিচ্যুতি: কমিটি প্রকাশ হওয়ার পর তিনি দেখতে পান যে, “উক্ত কমিটিতে আওয়ামী লীগ, বিএনএম, ও ৫ জুলাই ২০২৪ তারিখ পরবর্তী সময়ের বিভিন্ন লোকজন, যারা বিগত দিনে কোনদিন বিএনপির মিছিল মিটিং এ ছিল না…” এমন বিতর্কিত ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়েছে।

হয়রানিকারী নেতাদের পদ: তাঁর অভিযোগ, কমিটিতে এমন লোকজন স্থান পেয়েছেন যারা সৈরাচার হাসিনা সরকারের আমলে বিএনপির নেতাকর্মীদের থানায় পুলিশ দিয়ে হয়রানি করেছেন, মিথ্যা মামলায় আসামি বানিয়েছেন এবং পুলিশকে নেতাকর্মীদের বাড়ি চিনিয়ে দিতে সহযোগিতা করেছেন।

লজ্জা ও কষ্টের কারণ: তিনি নীতিগত আদর্শিক দিক থেকে মনে করছেন, এই কমিটিতে থাকা তাঁর জন্য “অত্যান্ত কষ্টকর ও লজ্জাজনক”।

ভিপি ইকবাল হোসেন স্বেচ্ছায় পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণে জেলা নেতৃত্বকে অনুরোধ করেছেন।

কমিটি নিয়ে মধুখালী বিএনপিতে তোলপাড়

ভিপি ইকবাল হোসেনের পদত্যাগ মধুখালী উপজেলা বিএনপির নতুন কমিটিকে ঘিরে চলা বিতর্ককে আরও উসকে দিল। এর আগে ফরিদপুরের অন্যান্য উপজেলা (আলফাডাঙ্গা, বোয়ালমারী ও মধুখালী) কমিটিতেও আ. লীগ সংশ্লিষ্টদের পদায়নের অভিযোগ উঠেছিল।

স্থানীয় বিএনপির ত্যাগী ও নির্যাতিত কর্মীরা মনে করছেন, দলের দুঃসময়ের কর্মীদের বাদ দিয়ে সুযোগসন্ধানী ও সরকারদলীয় সুবিধাভোগীদের স্থান দেওয়ায় দলের আদর্শিক ভিত্তি দুর্বল হচ্ছে।