ঢাকা ০৩:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পিলখানা হত্যাকাণ্ড ছিল সার্বভৌমত্ব নস্যাতের অপচেষ্টা: প্রধানমন্ত্রী 

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৯:১৯:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 75

২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে নস্যাৎ করার একটি গভীর অপপ্রয়াস বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সেনানিবাসের মাল্টি পারপাস হলে ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত:

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সেনাবাহিনী আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রতীক। পিলখানার ওই মর্মান্তিক ঘটনা ছিল আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর দুর্বলতা ফুটিয়ে তোলার একটি চক্রান্ত। এই ঘটনার পরিক্রমায় স্পষ্ট হয়েছে যে, বহির্বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, সময়োপযোগী ও শক্তিশালী করা এখন সময়ের দাবি।”

শহীদ পরিবারগুলোর প্রতি অঙ্গীকার:

একজন সেনা পরিবারের সদস্য হিসেবে আবেগপ্লুত কণ্ঠে তারেক রহমান বলেন, “আমি কেবল প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়, একজন সহযোদ্ধার সন্তান হিসেবে আপনাদের সামনে দাঁড়িয়েছি। পিলখানায় ৫৭ জন মেধাবী সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন শহীদের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। গত ১৭ বছর আপনারা যে বিচারহীনতার নিদারুণ যন্ত্রণা ভোগ করেছেন, তা আমি গভীরভাবে উপলব্ধি করি।”

তিনি আরও জানান, শহীদ পরিবারের সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য বর্তমান সরকার দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলবে।

রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির ঘোষণা:

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, পিলখানা ট্র্যাজেডিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ করা একটি জাতীয় দায়িত্ব। তিনি বলেন, “২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির ঘটনাকে ইতিহাসে সঠিক রাষ্ট্রীয় মর্যাদা না দিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। এই স্মৃতিকে অম্লান রাখতে সেনাবাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে সরকার।”

সীমান্ত রক্ষা বাহিনীকে আধুনিকায়নের প্রতিশ্রুতি:

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা ঘোষণা থেকে শুরু করে সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর প্রতিটি ধাপে সেনাবাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রয়েছে। সীমান্ত বাহিনীকে আরও আধুনিক ও সুসংহত করতে প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ শুরু করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

বক্তব্যের শেষে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ, ৯০-এর গণআন্দোলন এবং ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে শাহাদাতবরণকারী সকল ছাত্র-জনতার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

পিলখানা হত্যাকাণ্ড ছিল সার্বভৌমত্ব নস্যাতের অপচেষ্টা: প্রধানমন্ত্রী 

আপডেট সময় : ০৯:১৯:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে নস্যাৎ করার একটি গভীর অপপ্রয়াস বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সেনানিবাসের মাল্টি পারপাস হলে ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত:

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সেনাবাহিনী আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রতীক। পিলখানার ওই মর্মান্তিক ঘটনা ছিল আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর দুর্বলতা ফুটিয়ে তোলার একটি চক্রান্ত। এই ঘটনার পরিক্রমায় স্পষ্ট হয়েছে যে, বহির্বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, সময়োপযোগী ও শক্তিশালী করা এখন সময়ের দাবি।”

শহীদ পরিবারগুলোর প্রতি অঙ্গীকার:

একজন সেনা পরিবারের সদস্য হিসেবে আবেগপ্লুত কণ্ঠে তারেক রহমান বলেন, “আমি কেবল প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়, একজন সহযোদ্ধার সন্তান হিসেবে আপনাদের সামনে দাঁড়িয়েছি। পিলখানায় ৫৭ জন মেধাবী সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন শহীদের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। গত ১৭ বছর আপনারা যে বিচারহীনতার নিদারুণ যন্ত্রণা ভোগ করেছেন, তা আমি গভীরভাবে উপলব্ধি করি।”

তিনি আরও জানান, শহীদ পরিবারের সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য বর্তমান সরকার দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলবে।

রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির ঘোষণা:

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, পিলখানা ট্র্যাজেডিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ করা একটি জাতীয় দায়িত্ব। তিনি বলেন, “২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির ঘটনাকে ইতিহাসে সঠিক রাষ্ট্রীয় মর্যাদা না দিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। এই স্মৃতিকে অম্লান রাখতে সেনাবাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে সরকার।”

সীমান্ত রক্ষা বাহিনীকে আধুনিকায়নের প্রতিশ্রুতি:

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা ঘোষণা থেকে শুরু করে সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর প্রতিটি ধাপে সেনাবাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রয়েছে। সীমান্ত বাহিনীকে আরও আধুনিক ও সুসংহত করতে প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ শুরু করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

বক্তব্যের শেষে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ, ৯০-এর গণআন্দোলন এবং ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে শাহাদাতবরণকারী সকল ছাত্র-জনতার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।