অনলাইনে অস্ত্র বিক্রির তথ্য র্যাবের হাতে
সীমান্তে অস্ত্র-বিস্ফোরকের ছড়াছড়ি: নির্বাচন সামনে রেখে চরম ঝুঁকিতে বাংলাদেশ
- আপডেট সময় : ০১:১৮:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫
- / 291
দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত সিলেট বিভাগ নির্বাচনকে সামনে রেখে এক চরম নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে রয়েছে। ভূ-প্রকৃতিগত কারণে তিন দিকে ভারত সীমান্ত (আসাম, ত্রিপুরা ও মেঘালয়) দ্বারা বেষ্টিত এই অঞ্চলে উগ্রবাদী তৎপরতা ও চোরাই পথে অস্ত্র-বিস্ফোরকের প্রবেশ বহুল পরিচিত। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ৫ আগস্ট অভ্যুত্থানের সময় থানা থেকে লুট হওয়া বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র।
এই পরিস্থিতিতে সর্বস্তরের রাজনীতিক, সচেতন মহল এবং খোদ প্রশাসনও জননিরাপত্তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার পর মাঠে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের তৎপরতা বাড়ায় বড় ধরনের অঘটন ঘটার আশঙ্কা করছেন পর্যবেক্ষকরা।
ভয়াবহ তথ্য: লুটের ১৮ অস্ত্র ও ৫১৯৯ গুলি নিখোঁজ
২০২৫ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর সিলেট মহানগরীর ছয়টি থানা ও কয়েকটি ফাঁড়িতে হামলা চালিয়ে দুর্বৃত্তরা বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গুলি লুট করে।
লুটের পরিমাণ: পুলিশের তথ্যমতে, মোট ১০১টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৫৭৪০ রাউন্ড গুলি লুট হয়।
নিখোঁজ: এর মধ্যে এখনো ১৮টি অস্ত্র ও ৫১৯৯ রাউন্ড গুলির কোনো হদিস নেই।
এছাড়াও ২০২৪ সালের মাঝামাঝি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনগুলোর (যুবলীগ ও ছাত্রলীগ) একাংশ নগরীর আখালিয়া, কোর্ট পয়েন্ট, জিন্দাবাজার ও চৌহাট্টা এলাকায় আধুনিক পিস্তল, রাইফেল ও স্নাইপারগান নিয়ে প্রকাশ্যে সশস্ত্র মহড়া দিয়েছিল।
ভারতীয় সীমান্ত দিয়ে বিস্ফোরক ও অস্ত্রের চোরাচালান
সিলেট সীমান্ত দিয়ে উগ্রবাদী সংগঠনগুলোর হাত ধরে অস্ত্র ও বিস্ফোরকের চালান অহরহ ঢুকছে।
প্রবেশপথ: সিলেটের কানাইঘাট, জৈন্তাপুর এবং সুনামগঞ্জের সীমান্তপথ দিয়ে নিয়মিত অস্ত্র ও বিস্ফোরক আসছে।
বিস্ফোরকের উৎস: গোয়েন্দা তথ্যমতে, ভারতীয় ‘আমিন এক্সপ্লোসিভ প্রাইভেট লিমিটেড’ কোম্পানিতে তৈরি নিওজেল-৯০ বিস্ফোরক ও ডেটোনেটরসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম চোরাইপথে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে।
বিজিবির তৎপরতা: ২ নভেম্বর ছাতক উপজেলার ছনবাড়ী সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ৪৮ বিজিবি উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন ২৫০ গ্রাম বিস্ফোরক, দুটি ডেটোনেটর ও একটি বিদেশি রিভলভার উদ্ধার করে। বিজিবি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল জানিয়েছেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে অস্ত্র চোরাচালানকারীরা সীমান্ত পথ সক্রিয় করার চেষ্টা করছে।
নেতাদের উদ্বেগ ও প্রশাসনের প্রস্তুতি
নির্বাচনী প্রচারণায় নেমে আসা প্রার্থীরা তাদের ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
নেতার বক্তব্য মূল উদ্বেগ
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির (বিএনপি প্রার্থী) অবৈধ অস্ত্র ও সন্ত্রাস সব সময়ই সমাজের জন্য হুমকি। অপ্রীতিকর ঘটনার আগে অস্ত্রধারী-সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে বিশেষ অভিযান জরুরি।
ফখরুল ইসলাম (জামায়াত আমির) নির্বাচনি প্রচারণায় এখনই বাধা ও হুমকি-ধমকি শুরু হয়েছে। লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার না হলে প্রশাসনকে ব্যর্থতার দায় নিতে হবে।
আনিসুল হক (বিএনপি প্রার্থী, সুনামগঞ্জ-১) প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক লড়াইয়ে প্রার্থী ও কর্মীদের নিরাপত্তা দেওয়া কঠিন। সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারীদের আইনের আওতায় না নিলে জনমনে সংশয় থেকেই যাবে।
পুলিশ কমিশনারের আশ্বাস: সিলেটের পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী বলেন, নির্বাচন সামনে রেখেই তিনি জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলছেন। তিনি সব প্রার্থী ও দলকে স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠনের পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, অস্ত্র উদ্ধার ও অপরাধী গ্রেফতারে অভিযান চলছে এবং তা আরও জোরদারের প্রস্তুতি রয়েছে।


























