ফরিদপুরে ১৩ বছরের কিশোরী অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০২:০৯:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন ২০২৫
- / 544
ফরিদপুরের মধুখালি উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের মাঝকান্দি গ্রামে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে গভীর রাতে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে আপন খান (১৬) নামের এক কিশোরের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (১৭ জুন) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত আপন খান স্থানীয় বহরপুর এলাকার ফারুক খানের ছেলে।
ঘটনার খবর পেয়ে বুধবার (১৮ জুন) দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন মধুখালি সার্কেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. ইমরুল হাসান এবং মধুখালি থানার ওসি এস এম নুরুজ্জামান। পুলিশ ভুক্তভোগী কিশোরী ও অভিযুক্ত আপন খানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যায়।
তবে ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেন এএসপি ইমরুল হাসান। পরিচয় গোপন থাকায় শুরুতে এক সাংবাদিককে ভুক্তভোগীর আত্মীয় ভেবে তিনি বলেন, “এ ধরণের অপরাধীদের শাস্তি হওয়া উচিত, না হলে অপরাধ বাড়বে।” পরে অবশ্য সাংবাদিকদের ঘটনাস্থল থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং তথ্য সংগ্রহে বাধা দেওয়া হয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে কী বলা হচ্ছে:
মধুখালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম নুরুজ্জামান জানান, কিশোরীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। অভিযুক্ত আপন খানকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
ভিডিওর ভাষ্যে স্বীকারোক্তি:
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরীর প্রবাসী বাবা একটি ভিডিও পাঠিয়েছেন। সেখানে দেখা যায়, একটি ঘরে বসে একজন ব্যক্তি আপন খানকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। আপন খান স্বীকার করেন, রাত ২টার সময় কিশোরীকে ঘর থেকে বের করে অন্য একটি রুমে নিয়ে যান এবং সেখানে তারা এক ঘণ্টার মতো সময় কাটান।
জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত কিশোর সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি। বরং চুপ থাকেন ও মোবাইলে ব্যস্ত থাকেন।
এলাকাবাসীর বক্তব্য ও সামাজিক প্রেক্ষাপট:
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ও ভুক্তভোগী মাঝে মাঝে রাস্তায় কথা বলতেন, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল বলেও কেউ কেউ দাবি করেছেন। তবে প্রেমের সম্পর্ক ছিল কি না, তা কেউ নিশ্চিতভাবে বলতে পারেননি।
ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ:
এলাকাবাসীর দাবি, একটি প্রভাবশালী মহল ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। এমনকি পুলিশের পাহারায় ঘটনাস্থল থেকে কিশোরী ও অভিযুক্তকে থানায় নেওয়ার সময় সাংবাদিকদের কোনো তথ্য সংগ্রহের সুযোগ দেওয়া হয়নি। দুজনেই অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় পুলিশের অনুরোধে তাদের অভিভাবকদেরও থানায় যেতে দেখা গেছে।





















