ঢাকা ০৩:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশ: গাজায় ‘কাজ শেষ করো, ওরা মরতে চায়’

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১২:৩৩:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ জুলাই ২০২৫
  • / 274

অবরুদ্ধ গাজায় সামরিক অভিযান আরও জোরদার করার জন্য ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সরাসরি নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) তিনি বলেছেন, “ফিনিশ দ্য জব, দে ওয়ান্ট টু ডাই” (কাজটা শেষ করো, ওরা মরতে চায়)। ট্রাম্পের এই নির্দেশ এমন এক সময়ে এলো, যখন কয়েক সপ্তাহ আগেও তিনি হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তির ‘অত্যন্ত কাছাকাছি’ থাকার কথা বলেছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানে নাটকীয় পরিবর্তন

মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের এই আকস্মিক পরিবর্তনকে একটি নাটকীয় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। স্কটল্যান্ড সফরে রওনা হওয়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইসরায়েলের এখন “কাজটা শেষ করে ফেলা উচিত।” কারণ তার মতে, হামাস “সৎভাবে আলোচনায় বসতে চায় না, তারা আসলে মরতে চায়।” ট্রাম্পের ভাষায়, “আমার মনে হয়, ওরা (হামাস) মরতে চায়, আর সেটা খুবই, খুবই দুঃখজনক। কাজটা শেষ করতেই হবে।”

মানবিক সংকট সত্ত্বেও সামরিক অভিযানে সমর্থন

ট্রাম্পের এই কঠোর মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ তীব্র হচ্ছে। জাতিসংঘ কর্মকর্তারা গাজাকে “জীবন্ত লাশে ভরা অঞ্চল” হিসেবে বর্ণনা করছেন এবং দুর্ভিক্ষের ব্যাপারে কঠোর সতর্কতা দিচ্ছেন। এসব সত্ত্বেও ট্রাম্পের বক্তব্য স্পষ্টভাবে ইসরায়েলের চলমান ২১ মাসব্যাপী সামরিক অভিযানে সমর্থন জোগাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

গত সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য দূত স্টিভ উইটকফ কাতারের দোহায় চলমান মার্কিন-মধ্যস্থতাকারী যুদ্ধবিরতি আলোচনা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। তিনি অভিযোগ করেন, “হামাসের মধ্যে আন্তরিকতা ও সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে” এবং এখন যুক্তরাষ্ট্র বিকল্প পথে জিম্মিদের মুক্তির চেষ্টা করবে।

কূটনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের এমন আকস্মিক অবস্থান পরিবর্তনে কাতার ও মিসরের কূটনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। এই দেশ দুটিই মূলত গাজা যুদ্ধবিরতির প্রধান মধ্যস্থতাকারী। দোহায় আলোচনার সঙ্গে যুক্ত একটি সূত্র এই পরিস্থিতিকে “ভূমিকম্প” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

তবে মিসর ও কাতারের কর্মকর্তারা আলোচনার এই অচলাবস্থাকে “এ ধরনের জটিল পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক” বলে অভিহিত করে গুরুত্ব কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। এক যৌথ বিবৃতিতে মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।

এদিকে ইসরায়েলের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সিএনএন-কে বলেছেন, আলোচনাগুলো “একেবারেই ভেঙে পড়েনি” এবং একটি নতুন চুক্তির জন্য এখনো পথ খোলা আছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, হামাস বাস্তবতায় ফিরে আসবে, যাতে বাকি ফারাকগুলো দূর করা যায়।

জিম্মিদের নিয়ে ট্রাম্পের অভিযোগ ও নেতানিয়াহুর প্রতি বিরক্তি

ট্রাম্প দাবি করেছেন, হামাসের হাতে থাকা অনেক জিম্মি ইতোমধ্যেই মুক্তি পেয়েছে বা নিহত হয়েছে, যার ফলে তারা আর আলোচনায় চাপ তৈরি করতে পারছে না। তিনি হামাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, “তারা চুক্তি করতে চায়নি।” ট্রাম্প আরও বলেন, “তাদের (ইসরায়েল) লড়াই চালিয়ে যেতে হবে, শেষ করতে হবে সবকিছু… তাদের সরিয়ে দাও।”

ট্রাম্পের বক্তব্যে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি তার বিরক্তিও ইঙ্গিত মিলেছে। প্রেসিডেন্ট বলেন, নেতানিয়াহুর সঙ্গে সাম্প্রতিক কথোপকথন ছিল “হতাশাজনক,” যদিও তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি। মাসখানেক আগেও ট্রাম্প গাজায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে “এক সপ্তাহের মধ্যেই চুক্তি হতে পারে” বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন।

যুদ্ধের ভবিষ্যৎ ও কূটনীতির অনিশ্চয়তা

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ট্যামি ব্রুস সিএনএন-কে বলেছেন, ট্রাম্প ও উইটকফ “অনেক কৌশল” জানেন এবং তারা খুবই “চালাক।” তারা এই খেলায় জড়িত সব পক্ষকে ভালো করেই চেনেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, কিছু সফলতা আসবে, যদিও নির্দিষ্ট সময়ের তথ্য দিতে তিনি অস্বীকৃতি জানান।

এদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইতোমধ্যেই জানিয়েছেন যে, ইসরায়েল “বিকল্প” কৌশল নিয়ে ভাবছে—যার লক্ষ্য হলো জিম্মিদের মুক্তি ও হামাসের শাসনের অবসান। তিনি বিস্তারিত কিছু না বললেও গাজায় আবারও সামরিক অভিযানের প্রতি তার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

বর্তমানে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ ও যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা পরিণত হয়েছে ধ্বংসপ্রাপ্ত অবকাঠামো, গৃহহীনতা ও খাদ্য-নিরাপত্তাহীনতার এক বিপর্যস্ত জনপদে। মানবাধিকার সংস্থা ও দাতা সংস্থাগুলোর জোর দাবির পরও ওয়াশিংটন ও তেলআবিবের রাজনৈতিক বার্তাগুলো যুদ্ধের কৌশলকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সবশেষ বক্তব্য কৌশলগতভাবে হামাসকে চাপ দেওয়ার জন্য হতে পারে—তবে এটাও হতে পারে যে, কূটনীতি এখন সেনাবাহিনীর পেছনে পড়ে গেছে। (সূত্র: পলিটিকো ও সিএনএন)

ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশ: গাজায় ‘কাজ শেষ করো, ওরা মরতে চায়’

আপডেট সময় : ১২:৩৩:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ জুলাই ২০২৫

অবরুদ্ধ গাজায় সামরিক অভিযান আরও জোরদার করার জন্য ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সরাসরি নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) তিনি বলেছেন, “ফিনিশ দ্য জব, দে ওয়ান্ট টু ডাই” (কাজটা শেষ করো, ওরা মরতে চায়)। ট্রাম্পের এই নির্দেশ এমন এক সময়ে এলো, যখন কয়েক সপ্তাহ আগেও তিনি হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তির ‘অত্যন্ত কাছাকাছি’ থাকার কথা বলেছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানে নাটকীয় পরিবর্তন

মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের এই আকস্মিক পরিবর্তনকে একটি নাটকীয় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। স্কটল্যান্ড সফরে রওনা হওয়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইসরায়েলের এখন “কাজটা শেষ করে ফেলা উচিত।” কারণ তার মতে, হামাস “সৎভাবে আলোচনায় বসতে চায় না, তারা আসলে মরতে চায়।” ট্রাম্পের ভাষায়, “আমার মনে হয়, ওরা (হামাস) মরতে চায়, আর সেটা খুবই, খুবই দুঃখজনক। কাজটা শেষ করতেই হবে।”

মানবিক সংকট সত্ত্বেও সামরিক অভিযানে সমর্থন

ট্রাম্পের এই কঠোর মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ তীব্র হচ্ছে। জাতিসংঘ কর্মকর্তারা গাজাকে “জীবন্ত লাশে ভরা অঞ্চল” হিসেবে বর্ণনা করছেন এবং দুর্ভিক্ষের ব্যাপারে কঠোর সতর্কতা দিচ্ছেন। এসব সত্ত্বেও ট্রাম্পের বক্তব্য স্পষ্টভাবে ইসরায়েলের চলমান ২১ মাসব্যাপী সামরিক অভিযানে সমর্থন জোগাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

গত সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য দূত স্টিভ উইটকফ কাতারের দোহায় চলমান মার্কিন-মধ্যস্থতাকারী যুদ্ধবিরতি আলোচনা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। তিনি অভিযোগ করেন, “হামাসের মধ্যে আন্তরিকতা ও সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে” এবং এখন যুক্তরাষ্ট্র বিকল্প পথে জিম্মিদের মুক্তির চেষ্টা করবে।

কূটনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের এমন আকস্মিক অবস্থান পরিবর্তনে কাতার ও মিসরের কূটনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। এই দেশ দুটিই মূলত গাজা যুদ্ধবিরতির প্রধান মধ্যস্থতাকারী। দোহায় আলোচনার সঙ্গে যুক্ত একটি সূত্র এই পরিস্থিতিকে “ভূমিকম্প” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

তবে মিসর ও কাতারের কর্মকর্তারা আলোচনার এই অচলাবস্থাকে “এ ধরনের জটিল পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক” বলে অভিহিত করে গুরুত্ব কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। এক যৌথ বিবৃতিতে মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।

এদিকে ইসরায়েলের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সিএনএন-কে বলেছেন, আলোচনাগুলো “একেবারেই ভেঙে পড়েনি” এবং একটি নতুন চুক্তির জন্য এখনো পথ খোলা আছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, হামাস বাস্তবতায় ফিরে আসবে, যাতে বাকি ফারাকগুলো দূর করা যায়।

জিম্মিদের নিয়ে ট্রাম্পের অভিযোগ ও নেতানিয়াহুর প্রতি বিরক্তি

ট্রাম্প দাবি করেছেন, হামাসের হাতে থাকা অনেক জিম্মি ইতোমধ্যেই মুক্তি পেয়েছে বা নিহত হয়েছে, যার ফলে তারা আর আলোচনায় চাপ তৈরি করতে পারছে না। তিনি হামাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, “তারা চুক্তি করতে চায়নি।” ট্রাম্প আরও বলেন, “তাদের (ইসরায়েল) লড়াই চালিয়ে যেতে হবে, শেষ করতে হবে সবকিছু… তাদের সরিয়ে দাও।”

ট্রাম্পের বক্তব্যে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি তার বিরক্তিও ইঙ্গিত মিলেছে। প্রেসিডেন্ট বলেন, নেতানিয়াহুর সঙ্গে সাম্প্রতিক কথোপকথন ছিল “হতাশাজনক,” যদিও তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি। মাসখানেক আগেও ট্রাম্প গাজায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে “এক সপ্তাহের মধ্যেই চুক্তি হতে পারে” বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন।

যুদ্ধের ভবিষ্যৎ ও কূটনীতির অনিশ্চয়তা

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ট্যামি ব্রুস সিএনএন-কে বলেছেন, ট্রাম্প ও উইটকফ “অনেক কৌশল” জানেন এবং তারা খুবই “চালাক।” তারা এই খেলায় জড়িত সব পক্ষকে ভালো করেই চেনেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, কিছু সফলতা আসবে, যদিও নির্দিষ্ট সময়ের তথ্য দিতে তিনি অস্বীকৃতি জানান।

এদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইতোমধ্যেই জানিয়েছেন যে, ইসরায়েল “বিকল্প” কৌশল নিয়ে ভাবছে—যার লক্ষ্য হলো জিম্মিদের মুক্তি ও হামাসের শাসনের অবসান। তিনি বিস্তারিত কিছু না বললেও গাজায় আবারও সামরিক অভিযানের প্রতি তার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

বর্তমানে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ ও যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা পরিণত হয়েছে ধ্বংসপ্রাপ্ত অবকাঠামো, গৃহহীনতা ও খাদ্য-নিরাপত্তাহীনতার এক বিপর্যস্ত জনপদে। মানবাধিকার সংস্থা ও দাতা সংস্থাগুলোর জোর দাবির পরও ওয়াশিংটন ও তেলআবিবের রাজনৈতিক বার্তাগুলো যুদ্ধের কৌশলকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সবশেষ বক্তব্য কৌশলগতভাবে হামাসকে চাপ দেওয়ার জন্য হতে পারে—তবে এটাও হতে পারে যে, কূটনীতি এখন সেনাবাহিনীর পেছনে পড়ে গেছে। (সূত্র: পলিটিকো ও সিএনএন)