সাপের কামড়ে সাপুড়ের মৃত্যু: সেই কিং কোবরা চিবিয়ে খেলেন আরেক সাপুড়ে
- আপডেট সময় : ১১:৪৯:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ জুলাই ২০২৫
- / 533
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার বল্লভের খাষ ইউনিয়নে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। সাপ ধরতে গিয়ে কিং কোবরার ছোবলে প্রাণ হারিয়েছেন সাপুড়ে বয়েজ উদ্দিন (৫০)। আরও বিস্ময়কর ঘটনা হলো, তার মৃত্যুর পর সেই বিষধর সাপটি কাঁচাই চিবিয়ে খেয়ে নিলেন আরেক সাপুড়ে মোজাহার!
সাপ ধরতে গিয়ে মর্মান্তিক পরিণতি
আজ বুধবার (৩০ জুলাই) সকালে বল্লভের খাষ ইউনিয়নের ডাক্তারপাড়ার বাসিন্দা সাপুড়ে বয়েজ উদ্দিন পাশের কালীগঞ্জ ইউনিয়নের কাপালিপাড়ার ইমরান আলীর বাড়িতে সাপ ধরতে যান। ইমরান আলীর বাড়ির রান্নাঘরের একটি ইঁদুরের গর্তে একটি কিং কোবরা সাপ তার ১৫-১৬টি বাচ্চাসহ বাসা বেঁধেছিল।
বয়েজ উদ্দিন খাল খুঁড়ে প্রথমে সাপের বাচ্চাগুলো ধরেন, এরপর বড় সাপটি হাতে ধরেন। কিন্তু সাপটিকে বস্তায় ঢোকানোর আগেই সেটি বয়েজ উদ্দিনের হাতে ছোবল দেয়। প্রাথমিকভাবে সাপের বিষে তেমন কিছু না হলেও, বাড়িতে ফিরে তিনি নিস্তেজ হতে শুরু করেন। দ্রুত তাকে ভূরুঙ্গামারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঝাড়ফুঁক ও মোজাহারের বিস্ময়কর কাণ্ড
বয়েজ উদ্দিনের মরদেহ বাড়িতে আনার পর একে একে কয়েকজন ওঝা ও সাপুড়ে আসেন। তারাও এসে বয়েজ উদ্দিনকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর মোজাহার নামের একজন ওঝা বড় সাপসহ বাচ্চাগুলো নিজের কাছে নেন। পরবর্তীতে, তিনি গাবতলা বাজারে এসে সেই বিষধর কিং কোবরা সাপটি কাঁচাই চিবিয়ে খান! এ সময় মোজাহারের সাপ খাওয়ার দৃশ্য দেখতে বাজারে প্রচুর উৎসুক জনতা ভিড় জমায়।
ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের বলদিয়া বাজার এলাকার বাসিন্দা মোজাহার, যিনি ‘সাপ খাওয়া মোজাহার’ নামেই পরিচিত, নিজেও সাপ ধরেন এবং সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসা দিয়ে থাকেন।
মোজাহার জানান, বয়েজ উদ্দিনকে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তিনি সাপের পরিচয় পেয়েছিলেন এবং তখনই বলেছিলেন বয়েজ উদ্দিন বাঁচবেন না। হাসপাতাল থেকে মরদেহ ফেরত আনার পর বয়েজ উদ্দিনের স্বজনরা মোজাহারকে ফোনে ডেকে আনেন। মোজাহার এসে বয়েজ উদ্দিন মারা গেছেন বলে জানান। পরে বয়েজ উদ্দিনের ধরা সাপের বাচ্চা ও বড় সাপটি তার কাছে তুলে দেওয়া হয়। মোজাহার বলেন, “এগুলো নিয়ে এসে এই বাজারে বড় সাপটি মেরে রক্ত-মাংস খাই। আর ছোট বাচ্চাগুলো ছেড়ে দেব।” তিনি আরও জানান, কাঁচা সাপ খাওয়া তার পুরোনো অভ্যাস।
এদিকে, চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করার পরও বয়েজ উদ্দিন বেঁচে আছেন সন্দেহে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঝাড়ফুঁক চলছিল বলে জানা যায়।
চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য বিভাগের সতর্কতা
এ বিষয়ে ভূরুঙ্গামারী স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এসএম আবু সায়েম জানান, “সাপে কাটলে ঝাড়ফুঁকে কোনো কাজ হওয়ার কথা না। সাপে কাটার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে আনতে হবে। আমাদের কাছে অ্যান্টিভেনম মজুত আছে। লোকজনকে আরও সচেতন হতে হবে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে সাপের উপদ্রব বেশি।”





















