ঢাকা ০৯:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অক্সিজেন নেই: ফরিদপুরে সাপের কামড়ে গৃহবধূর মৃত্যু

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৯:১৭:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫
  • / 397

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় বিষধর সাপের কামড়ে তাসলিমা বেগম (৪০) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপের বিষের প্রতিষেধক অ্যান্টিভেনম মজুত থাকলেও, প্রয়োজনীয় অক্সিজেন বা অন্যান্য সাপোর্টিং সরঞ্জাম না থাকায় তাঁকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তাঁর মৃত্যু ঘটে।

এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল সোমবার (১৩ অক্টোবর) রাতের দিকে উপজেলার শেখর ইউনিয়নের চরশেখর গ্রামে। নিহত তাসলিমা বেগম ওই গ্রামের আনসার শেখের স্ত্রী এবং তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের জননী ছিলেন।

মুরগির খোপে সাপের ছোবল, হাসপাতালে করুণ পরিস্থিতি

স্থানীয় ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যায় তাসলিমা বেগম মুরগির খোপে মুরগি ঢুকেছে কিনা দেখতে যান। তখনই খোপের ভেতরে থাকা একটি বিষধর সাপ তাঁকে ছোবল দেয়।

হাসপাতালে নেওয়া: পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাঁকে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা নিশ্চিত হন যে তিনি বিষধর সাপে আক্রান্ত হয়েছেন।

চিকিৎসার ঘাটতি: চিকিৎসকরা জানান, রোগীকে অ্যান্টিভেনম দেওয়ার আগে অক্সিজেনের প্রয়োজন হতে পারে, কিন্তু হাসপাতালে সেই অত্যাবশ্যক সুবিধা নেই। এই কথা শুনে স্বজনরা ঝুঁকি না নিয়ে দ্রুত রোগীকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু পথেই তাঁর মৃত্যু হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বক্তব্য

বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাজমুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, “সন্ধ্যার পর সাপে কামড়ানো এক নারীকে হাসপাতালে আনা হয়। আমি নিজে উপস্থিত থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করি এবং বুঝতে পারি এটি বিষধর সাপের কামড়। আমরা ভ্যাকসিন দিতে প্রস্তুত ছিলাম, কিন্তু অ্যান্টিভেনম দেওয়ার আগে স্বজনদের জানানো হয়েছিল যে, প্রয়োজনে অক্সিজেন লাগতে পারে—যা আমাদের হাসপাতালে নেই। তারা দ্রুত রোগীকে ফরিদপুর মেডিকেলে নিয়ে যায় এবং পরে আমরা তাঁর মৃত্যুর খবর পাই।”

স্থানীয়দের ক্ষোভ

স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে সাপে কামড়ের চিকিৎসার জন্য অ্যান্টিভেনম সরবরাহ করা হলেও, আনুষঙ্গিক ও জীবন রক্ষাকারী প্রয়োজনীয় সাপোর্টিং সরঞ্জাম বা ভেন্টিলেটর না থাকায় এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা প্রায়ই ঘটছে।

অক্সিজেন নেই: ফরিদপুরে সাপের কামড়ে গৃহবধূর মৃত্যু

আপডেট সময় : ০৯:১৭:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় বিষধর সাপের কামড়ে তাসলিমা বেগম (৪০) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপের বিষের প্রতিষেধক অ্যান্টিভেনম মজুত থাকলেও, প্রয়োজনীয় অক্সিজেন বা অন্যান্য সাপোর্টিং সরঞ্জাম না থাকায় তাঁকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তাঁর মৃত্যু ঘটে।

এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল সোমবার (১৩ অক্টোবর) রাতের দিকে উপজেলার শেখর ইউনিয়নের চরশেখর গ্রামে। নিহত তাসলিমা বেগম ওই গ্রামের আনসার শেখের স্ত্রী এবং তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের জননী ছিলেন।

মুরগির খোপে সাপের ছোবল, হাসপাতালে করুণ পরিস্থিতি

স্থানীয় ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যায় তাসলিমা বেগম মুরগির খোপে মুরগি ঢুকেছে কিনা দেখতে যান। তখনই খোপের ভেতরে থাকা একটি বিষধর সাপ তাঁকে ছোবল দেয়।

হাসপাতালে নেওয়া: পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাঁকে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা নিশ্চিত হন যে তিনি বিষধর সাপে আক্রান্ত হয়েছেন।

চিকিৎসার ঘাটতি: চিকিৎসকরা জানান, রোগীকে অ্যান্টিভেনম দেওয়ার আগে অক্সিজেনের প্রয়োজন হতে পারে, কিন্তু হাসপাতালে সেই অত্যাবশ্যক সুবিধা নেই। এই কথা শুনে স্বজনরা ঝুঁকি না নিয়ে দ্রুত রোগীকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু পথেই তাঁর মৃত্যু হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বক্তব্য

বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাজমুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, “সন্ধ্যার পর সাপে কামড়ানো এক নারীকে হাসপাতালে আনা হয়। আমি নিজে উপস্থিত থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করি এবং বুঝতে পারি এটি বিষধর সাপের কামড়। আমরা ভ্যাকসিন দিতে প্রস্তুত ছিলাম, কিন্তু অ্যান্টিভেনম দেওয়ার আগে স্বজনদের জানানো হয়েছিল যে, প্রয়োজনে অক্সিজেন লাগতে পারে—যা আমাদের হাসপাতালে নেই। তারা দ্রুত রোগীকে ফরিদপুর মেডিকেলে নিয়ে যায় এবং পরে আমরা তাঁর মৃত্যুর খবর পাই।”

স্থানীয়দের ক্ষোভ

স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে সাপে কামড়ের চিকিৎসার জন্য অ্যান্টিভেনম সরবরাহ করা হলেও, আনুষঙ্গিক ও জীবন রক্ষাকারী প্রয়োজনীয় সাপোর্টিং সরঞ্জাম বা ভেন্টিলেটর না থাকায় এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা প্রায়ই ঘটছে।