প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ: ফরিদপুরে তিন সন্তানের জনক আটক
- আপডেট সময় : ১২:৩৩:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
- / 51
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় এক অসহায় বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে (১৫) ঘরে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর ও ন্যাক্কারজনক অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় জনতা অভিযুক্ত এক ব্যক্তিকে আপত্তিকর অবস্থায় হাতেনাতে আটক করে থানা পুলিশে সোপর্দ করেছে।
গত শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার গুনবহা ইউনিয়নের চন্দনী দক্ষিণপাড়া এলাকায় এই লম্পটবৃত্তির ঘটনাটি ঘটে। আটককৃত অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম ফয়জুল্লা এবং সে তিন সন্তানের জনক বলে স্থানীয় সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
আম দেওয়ার প্রলোভন ও বর্বরতা:
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে ওই বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরী বাড়ির বাইরে বের হলে লম্পট ফয়জুল্লা তাকে পাকা আম খাওয়ানোর প্রলোভন দেখায়। মেয়েটি সরল বিশ্বাসে এগিয়ে গেলে তাকে ফুসলিয়ে নিজের নির্জন ঘরে নিয়ে যায় সে। সেখানে দরজা বন্ধ করে কিশোরীর ওপর জোরপূর্বক পাশবিক নির্যাতন ও ধর্ষণ চালানো হয় বলে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন।
চিৎকার শুনে স্বজনদের উদ্ধার ও হাতেনাতে আটক:
ভুক্তভোগী কিশোরীর চাচি ও স্বজনরা জানান, হঠাৎ ঘর থেকে মেয়েটির বিকট চিৎকার ও কান্নাকাটি শুনে তাঁরা দ্রুত ওই বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযুক্ত ফয়জুল্লাকে অত্যন্ত আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান এবং কান্নারত অবস্থায় কিশোরীকে উদ্ধার করেন। ঘটনাটি তাৎক্ষণিক জানাজানি হলে আশেপাশের ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী এসে ঘর ঘেরাও করে লম্পট ফয়জুল্লাকে হাতেনাতে আটকে ফেলে।
নির্যাতনের শিকার ভুক্তভোগী কিশোরীও কান্নাজড়িত কণ্ঠে অভিযোগ করে জানায়, আম দেওয়ার কথা বলে তাকে ঘরে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক নির্যাতন করা হয়েছে। তবে থানায় আটকে থাকা অবস্থায় অভিযুক্ত ফয়জুল্লা চতুরতার আশ্রয় নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে।
আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে পুলিশ:
বিষয়টি নিশ্চিত করে বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, “ঘটনাটি জানার পরপরই পুলিশ টিম পাঠানো হয় এবং শুক্রবার সন্ধ্যায় অভিযুক্ত ফয়জুল্লাকে জনতা কর্তৃক আটক অবস্থায় আমাদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। একই সাথে ভুক্তভোগী কিশোরীকেও ডাক্তারি পরীক্ষা ও আইনি প্রক্রিয়ার জন্য থানা হেফাজতে আনা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে; অভিযোগ পাওয়া মাত্রই নিয়মিত মামলা রুজু করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে একজন অসহায় বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে প্রলোভন দেখিয়ে এমন বর্বরোচিত ধর্ষণের ঘটনায় পুরো গুনবহা ইউনিয়নে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। এলাকার সচেতন মহল ধৃত লম্পট ফয়জুল্লার দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


















