ঢাকা ০৪:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাড়িতে ঢুকে পিটিয়ে হত্যার শিকার স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১১:৪৯:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 420

মুন্সীগঞ্জ মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার চরাঞ্চলে নির্বাচনী বিরোধের জেরে জসিম উদ্দিন (৩০) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে আধারা ইউনিয়নের চর আবদুল্লাহ গ্রামে বাড়িতে ঢুকে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর এই বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়। সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার বিবরণ

নিহত জসিম উদ্দিন নায়েব চর আবদুল্লাহ গ্রামের মাফিক নায়েবের ছেলে। তিনি মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী (ফুটবল প্রতীক) মো. মহিউদ্দিনের সমর্থক ছিলেন। নিহতের পরিবারের দাবি, নির্বাচনের দিন থেকেই ধানের শীষের সমর্থকদের সাথে তাদের উত্তেজনা চলছিল।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে ধানের শীষের সমর্থক নাসির দেওয়ান ও তার ছেলে সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শাকিল দেওয়ানের নেতৃত্বে ৫০-৬০ জন জসিমদের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলায় জসিম, তার বাবা এবং দুই ভাই গুরুতর আহত হন। পরে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সন্ধ্যা ৭টার দিকে জসিম প্রাণ হারান।

পরিবারের আর্তনাদ

নিহতের বড় ভাই মসিউর নায়েব কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন:

“আমরা ফুটবলের (প্রতীক) নির্বাচন করেছিলাম, এটাই ছিল আমাদের একমাত্র দোষ। আমাদের কোনো শত্রুতা ছিল না। নাসির ডাক্তার ও তার ছেলে শাকিলরা আমার ভাইকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। আমরা এর বিচার চাই।”

অভিযুক্তের সাফাই অভিযোগের বিষয়ে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা শাকিল দেওয়ান জানান, তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না। তার দাবি, সকালে জসিমদের পক্ষ থেকে তাদের ওপর হামলা হয়েছিল এবং পরে এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে জসিমদের মারধর করেছে।
পুলিশের বক্তব্য

মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিনুল ইসলাম জানান:

“পূর্ববিরোধ এবং নির্বাচনী দ্বন্দ্বের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। এলাকায় পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান চলছে।”

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জয়ী হয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মো. কামরুজ্জামান। অন্যদিকে, দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়েছিলেন জেলা বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা মো. মহিউদ্দিন। এই দুই পক্ষের অভ্যন্তরীণ কোন্দলই শেষ পর্যন্ত প্রাণঘাতী সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাড়িতে ঢুকে পিটিয়ে হত্যার শিকার স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক

আপডেট সময় : ১১:৪৯:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মুন্সীগঞ্জ মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার চরাঞ্চলে নির্বাচনী বিরোধের জেরে জসিম উদ্দিন (৩০) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে আধারা ইউনিয়নের চর আবদুল্লাহ গ্রামে বাড়িতে ঢুকে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর এই বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়। সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার বিবরণ

নিহত জসিম উদ্দিন নায়েব চর আবদুল্লাহ গ্রামের মাফিক নায়েবের ছেলে। তিনি মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী (ফুটবল প্রতীক) মো. মহিউদ্দিনের সমর্থক ছিলেন। নিহতের পরিবারের দাবি, নির্বাচনের দিন থেকেই ধানের শীষের সমর্থকদের সাথে তাদের উত্তেজনা চলছিল।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে ধানের শীষের সমর্থক নাসির দেওয়ান ও তার ছেলে সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শাকিল দেওয়ানের নেতৃত্বে ৫০-৬০ জন জসিমদের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলায় জসিম, তার বাবা এবং দুই ভাই গুরুতর আহত হন। পরে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সন্ধ্যা ৭টার দিকে জসিম প্রাণ হারান।

পরিবারের আর্তনাদ

নিহতের বড় ভাই মসিউর নায়েব কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন:

“আমরা ফুটবলের (প্রতীক) নির্বাচন করেছিলাম, এটাই ছিল আমাদের একমাত্র দোষ। আমাদের কোনো শত্রুতা ছিল না। নাসির ডাক্তার ও তার ছেলে শাকিলরা আমার ভাইকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। আমরা এর বিচার চাই।”

অভিযুক্তের সাফাই অভিযোগের বিষয়ে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা শাকিল দেওয়ান জানান, তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না। তার দাবি, সকালে জসিমদের পক্ষ থেকে তাদের ওপর হামলা হয়েছিল এবং পরে এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে জসিমদের মারধর করেছে।
পুলিশের বক্তব্য

মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিনুল ইসলাম জানান:

“পূর্ববিরোধ এবং নির্বাচনী দ্বন্দ্বের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। এলাকায় পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান চলছে।”

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জয়ী হয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মো. কামরুজ্জামান। অন্যদিকে, দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়েছিলেন জেলা বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা মো. মহিউদ্দিন। এই দুই পক্ষের অভ্যন্তরীণ কোন্দলই শেষ পর্যন্ত প্রাণঘাতী সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।