এক গর্ভে ৫ সন্তান: ফরিদপুর মেডিকেলে বিরল প্রসবের পরেই বিষাদের সুর
- আপডেট সময় : ১০:২০:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
- / 149
চিকিৎসাবিজ্ঞানের এক বিরল ও অবিশ্বাস্য ঘটনার সাক্ষী থাকল ফরিদপুর। কোনো অস্ত্রোপচার নয়, কোনো জটিলতা নয়, সম্পূর্ণ স্বাভাবিক প্রসবের (নরমাল ডেলিভারি) মাধ্যমে এক সঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম দিলেন এক প্রসূতি মা! তিন ছেলে আর দুই মেয়ে—এক লহমায় ভরে উঠেছিল মায়ের কোল। কিন্তু এই মহাসূচনার আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই নিয়তির নিষ্ঠুর থাবা। জন্মের কিছুক্ষণের মধ্যেই নিভে গেল একটি নবজাতকের জীবনপ্রদীপ। বাকি চার সন্তানকে বুকে জড়িয়ে এখন হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে এক লড়াকু মা।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডে অলৌকিক ও রোমাঞ্চকর এই প্রসবের ঘটনাটি ঘটে। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই হাসপাতাল চত্বরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
আড়াই ঘণ্টার উৎকণ্ঠা ও বিরল প্রসব
হাসপাতাল ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার ভবকদিয়া গ্রামের বাসিন্দা মোছা. চাঁদনী আক্তার ও তাঁর স্বামী মো. হাসান শেখের সংসারে এই নতুন অতিথিদের আগমন। বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে তীব্র প্রসব বেদনা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন চাঁদনী। চিকিৎসকদের কপালেও তখন ছিল চিন্তার ভাঁজ।
কিন্তু সবাইকে চমকে দিয়ে, ভর্তির মাত্র তিন ঘণ্টার মাথায় বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে লেবার ওয়ার্ডের চিকিৎসকদের দক্ষতায় একে একে পৃথিবীর আলো দেখে পাঁচ-পাঁচটি নবজাতক। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, বর্তমান যুগে একসঙ্গে এতগুলো সন্তানের স্বাভাবিক প্রসব হওয়া অত্যন্ত বিরল।
চার সন্তানকে নিয়ে বাঁচানোর লড়াই
পাঁচটি প্রাণের একসঙ্গে পৃথিবীতে আসার আনন্দে মুহূর্তেই যেন কিছুটা মেঘ নেমে আসে। চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে জন্মের পরপরই একটি নবজাতক মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। তবে বাকি চার সন্তানকে বাঁচিয়ে রাখতে কোনো খামতি রাখছে না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
নিবিড় পর্যবেক্ষণে মা ও শিশুরা: জীবিত চার নবজাতককে দ্রুত হাসপাতালের ৯ম তলার শিশু ওয়ার্ডে (এনআইসিইউ/বিশেষ পর্যবেক্ষণ) ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মা এবং বেঁচে থাকা ৪ নবজাতক বর্তমানে চিকিৎসকদের কড়া ও নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। তাদের প্রয়োজনীয় সমস্ত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বিশেষ মেডিকেল টিম কাজ করছে।
একদিকে এক সঙ্গে চার সন্তানের মাতৃত্বের স্বাদ, অন্যদিকে একটি সন্তানকে হারানোর গভীর ক্ষত— আনন্দ আর বেদনার এক অদ্ভুত টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে কাটছে হাসান-চাঁদনী দম্পতির প্রতিটা মুহূর্ত। এখন চার সন্তানকে সুস্থ শরীরে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়াই তাদের এবং চিকিৎসকদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।



















