ঢাকা ১০:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজনৈতিক চাল নাকি গ্যাংয়ের বিরোধ: ফরিদপুরে কার গুলিতে সুমন নিহত? আটক ১৭

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৫:২৪:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
  • / 178

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই মহল্লাবাসীর মধ্যে এক ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষ চলাকালীন ভাঙ্গা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সজীব মাতুব্বরের ছোঁড়া গুলিতে সুমন শেখ (২৩) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। নিহত সুমন কাপুড়িয়া সদরদী মহল্লার মিলন শেখের (মিলন বাবুর্চি) ছেলে এবং তিনি ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি ফুডকার্ট পরিচালনা করতেন।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সন্ধ্যা ৭টা থেকে শুরু হয়ে রাত ১০টা পর্যন্ত দফায় দফায় এই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ চলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের (টিয়ারশেল) সেল নিক্ষেপ করে। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এখন পর্যন্ত ১৭ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

কিশোরদের বিরোধ থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত

এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভাঙ্গা বাজার থেকে শরীয়তুল্লাহ নামে এক কিশোরকে ধরে নিয়ে মারধর করে হাসামদিয়া মহল্লার ফয়সাল মাতুব্বর ও তার লোকজন। পরবর্তীতে শরীয়তুল্লাহকে ছাড়িয়ে আনতে গেলে ভাঙ্গা পৌরসভার পূর্ব হাসামদিয়া ও কাপুড়িয়া সদরদী মহল্লার কিশোরদের মধ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

এরই জের ধরে রাত পৌনে ৮টার দিকে দুই পক্ষের শত শত মানুষ ঢাল, সড়কি, রামদা ও ইটপাটকেল নিয়ে কুমার নদের দুই পাড়ে অবস্থান নেয়। শুরু হয় দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। এ সময় ভাঙ্গা বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বেশ কয়েকটি দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে।

যেভাবে গুলিবিদ্ধ হলেন সুমন

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ফায়জুর জানান, দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলাকালীন হঠাৎ করেই সজীব মাতব্বর পিস্তল উঁচিয়ে গুলি করতে শুরু করেন। প্রথমে দুটি ফাঁকা গুলি ওপরের দিকে ছুড়লেও, পরের দুটি গুলি সরাসরি সুমনের দিকে লক্ষ্য করে ছোঁড়া হয়। এর মধ্যে একটি গুলি সুমনের মুখে (চোয়ালে) গিয়ে বিদ্ধ হয়।

গুলিবিদ্ধ সুমনকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা তানসিভ জুবায়ের বলেন, “আহত সুমনের চোয়ালে গুলির গভীর ক্ষত ছিল। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল।”

হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মৃত্যু, মহাসড়ক অবরুদ্ধ

সুমনের বন্ধু ও প্রতিবেশী হাবিবুর রহমান জানান, সুমনকে নিয়ে তার পরিবারের সদস্যরা রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছালে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে আনার আগেই সুমনের মৃত্যু হয়েছে। আজ বুধবার (১ জুলাই) ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার কথা রয়েছে।

এদিকে এই সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণের ঘটনার জেরে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে রাত ৮টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত প্রায় দেড় ঘণ্টা যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, “সংঘর্ষের কারণে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছিল। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়।”

১৭ জন আটক, মামলার প্রস্তুতি

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই মহল্লাবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে আহত সুমন শেখ মারা গেছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ইতিমধ্যে ১৭ জনকে আটক করা হয়েছে এবং নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

রাজনৈতিক চাল নাকি গ্যাংয়ের বিরোধ: ফরিদপুরে কার গুলিতে সুমন নিহত? আটক ১৭

আপডেট সময় : ০৫:২৪:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই মহল্লাবাসীর মধ্যে এক ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষ চলাকালীন ভাঙ্গা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সজীব মাতুব্বরের ছোঁড়া গুলিতে সুমন শেখ (২৩) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। নিহত সুমন কাপুড়িয়া সদরদী মহল্লার মিলন শেখের (মিলন বাবুর্চি) ছেলে এবং তিনি ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি ফুডকার্ট পরিচালনা করতেন।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সন্ধ্যা ৭টা থেকে শুরু হয়ে রাত ১০টা পর্যন্ত দফায় দফায় এই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ চলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের (টিয়ারশেল) সেল নিক্ষেপ করে। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এখন পর্যন্ত ১৭ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

কিশোরদের বিরোধ থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত

এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভাঙ্গা বাজার থেকে শরীয়তুল্লাহ নামে এক কিশোরকে ধরে নিয়ে মারধর করে হাসামদিয়া মহল্লার ফয়সাল মাতুব্বর ও তার লোকজন। পরবর্তীতে শরীয়তুল্লাহকে ছাড়িয়ে আনতে গেলে ভাঙ্গা পৌরসভার পূর্ব হাসামদিয়া ও কাপুড়িয়া সদরদী মহল্লার কিশোরদের মধ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

এরই জের ধরে রাত পৌনে ৮টার দিকে দুই পক্ষের শত শত মানুষ ঢাল, সড়কি, রামদা ও ইটপাটকেল নিয়ে কুমার নদের দুই পাড়ে অবস্থান নেয়। শুরু হয় দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। এ সময় ভাঙ্গা বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বেশ কয়েকটি দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে।

যেভাবে গুলিবিদ্ধ হলেন সুমন

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ফায়জুর জানান, দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলাকালীন হঠাৎ করেই সজীব মাতব্বর পিস্তল উঁচিয়ে গুলি করতে শুরু করেন। প্রথমে দুটি ফাঁকা গুলি ওপরের দিকে ছুড়লেও, পরের দুটি গুলি সরাসরি সুমনের দিকে লক্ষ্য করে ছোঁড়া হয়। এর মধ্যে একটি গুলি সুমনের মুখে (চোয়ালে) গিয়ে বিদ্ধ হয়।

গুলিবিদ্ধ সুমনকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা তানসিভ জুবায়ের বলেন, “আহত সুমনের চোয়ালে গুলির গভীর ক্ষত ছিল। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল।”

হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মৃত্যু, মহাসড়ক অবরুদ্ধ

সুমনের বন্ধু ও প্রতিবেশী হাবিবুর রহমান জানান, সুমনকে নিয়ে তার পরিবারের সদস্যরা রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছালে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে আনার আগেই সুমনের মৃত্যু হয়েছে। আজ বুধবার (১ জুলাই) ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার কথা রয়েছে।

এদিকে এই সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণের ঘটনার জেরে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে রাত ৮টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত প্রায় দেড় ঘণ্টা যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, “সংঘর্ষের কারণে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছিল। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়।”

১৭ জন আটক, মামলার প্রস্তুতি

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই মহল্লাবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে আহত সুমন শেখ মারা গেছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ইতিমধ্যে ১৭ জনকে আটক করা হয়েছে এবং নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে।