‘কারও দাদাগিরি চলবে না’: বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে চীনের কড়া বার্তা
- আপডেট সময় : ১২:২৭:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
- / 70
ভূ-রাজনৈতিক দাবার বোর্ডে দক্ষিণ এশিয়াকে নিয়ে যখন নিত্যনতুন চাল চালছে মহাশক্তিধর রাষ্ট্রগুলো, ঠিক তখনই ঢাকার মাটিতে দাঁড়িয়ে বেইজিংয়ের এক চরম ও নজিরবিহীন বার্তা। সাফ কথা—বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো বিদেশি শক্তির ‘নাক গলানো’ বা হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করবে না চীন। শুধু মুখের কথা নয়, যেকোনো বিদেশি অপশক্তির আগ্রাসন ঠেকাতে বেইজিং যে দিল্লির সমান্তরালে ঢাকার পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়াতে প্রস্তুত, সেই বার্তাও অত্যন্ত চড়া সুরে দিয়ে রাখলেন ঢাকায় নিযুক্ত চিনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে রাজধানীর বারিধারায় চিনা দূতাবাসে আয়োজিত এক বিশেষ প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এই বিস্ফোরক ও তাৎপর্যপূর্ণ কূটনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করেন রাষ্ট্রদূত। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক বেইজিং সফর ও দুই দেশের যৌথ ইশতেহারের ভেতরের রসায়ন বুঝাতেই মূলত এই ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়েছিল।
‘আমরাও ভুক্তভোগী, ঢাকার যন্ত্রণা বুঝি’
প্রধানমন্ত্রীর বেইজিং সফরের পর প্রকাশিত যৌথ ইশতেহারে স্পষ্ট বলা হয়েছে—বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যেকোনো ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করবে চীন। এই শব্দের অন্তরালে লুকিয়ে থাকা আসল বার্তাটি কী?
কূটনৈতিক চালের পর্দা ফাঁস করে ইয়াও ওয়েন বলেন, “শুধু বাংলাদেশ নয়, চিনের বিদেশনীতিই হলো আমরা যেকোনো দেশে যেকোনো বিদেশি হস্তক্ষেপের ঘোর বিরোধী। চিন নিজেও আজ একই ধরনের পরিস্থিতির সম্মুখীন। অনেক বিদেশি অপশক্তি চিনের ঘরের বিষয়েও নাক গলাতে চায়।”
একটু থেমে চিনা রাষ্ট্রদূত আরও যোগ করেন, “এমনকি এখনো আমরা কিছু মহলের দ্বারা একই ধরনের অপচেষ্টার মুখোমুখি হচ্ছি। আপনাদের এটি বুঝতে হবে। তাই বাংলাদেশ বর্তমানে যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে, তা আমরা পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারি। কাজেই ঢাকার কাছে বেইজিংয়ের এই বার্তা অত্যন্ত স্পষ্ট—যেকোনো বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করতে চিন বাংলাদেশের পাশে আছে। গত ৫০ বছর ধরে এটাই আমাদের অপরিবর্তিত নীতি।”
জে-১০সি যুদ্ধবিমান কেনার জল্পনা ও বেইজিংয়ের রহস্যময় নীরবতা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই মেগা সফর ঘিরে সামরিক মহলে একটি গুঞ্জন বেশ ডালপালা মেলেছে—বেইজিংয়ের আকাশ কাঁপানো ‘জে-১০সি’ যুদ্ধবিমান কি তবে কিনতে চলেছে বাংলাদেশ?
এই কোটি টাকার সওয়াল চিনা রাষ্ট্রদূতের কোর্টে ফেলা হলে তিনি চতুর কূটনৈতিক হাসিতে রহস্য বজায় রাখলেন। কোনো সরাসরি মন্তব্য না করে ইয়াও ওয়েন বলেন, “যৌথ ইশতেহারে উভয় দেশ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়ে একমত হয়েছে। এর মধ্যে আলোচনা, সফর ও সামরিক প্রশিক্ষণ রয়েছে। তবে কোনো সুনির্দিষ্ট সামরিক কেনাকাটার বিষয়ে এই মুহূর্তে তথ্য দেওয়ার মতো অবস্থানে আমি নেই।”
প্রতিরক্ষায় নতুন সমীকরণ
যুদ্ধবিমান নিয়ে সুনির্দিষ্ট মুখ না খুললেও রাষ্ট্রদূত স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, চীন ও বাংলাদেশের সম্পর্ক এখন এক অভূতপূর্ব নতুন পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। যার ধারাবাহিকতায় আগামী দিনে প্রতিরক্ষাসহ সব ক্ষেত্রে বেইজিং-ঢাকা পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বহুদূর এগিয়ে যাবে।
দিল্লি নাকি ওয়াশিংটন—কাকে লক্ষ্য করে বেইজিংয়ের এই ‘বিদেশি হস্তক্ষেপ’ প্রতিরোধী হুঙ্কার, তা নিয়ে এখন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে।























