ঢাকা ১০:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে গাঁজার আসরে টাস্কফোর্সের হানা: আটক ৭

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৯:৫১:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
  • / 249

শহরের বুক চিরে তখন পড়ন্ত বিকেলের আলো। ঠিক সেই মুহূর্তেই গুহলক্ষ্মীপুরের এক গোপন ডেরায় হানা দিল জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিশেষ দল। আসর তখন পুরোদমে জমজমাট, ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন চারপাশ। কিন্তু সেই নেশার আমেজ কেটে যেতে সময় লাগল না কয়েক সেকেন্ড। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো এই ঝটিকা অভিযানে প্রকাশ্যে গাঁজা সেবন ও বহনের অভিযোগে হাতেনাতে পাকড়াও করা হলো ৭ জনকে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে ফরিদপুর শহরের গুহলক্ষ্মীপুর এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর অভিযানটি চালানো হয়। শুধু আটক করেই ক্ষান্ত হয়নি প্রশাসন, হাতেনাতে ধরার পর ধৃতদের পিঠে তৎক্ষণাৎ পড়ল আইনের কড়া চাবুক।

আসর থেকে সরাসরি জেলের খাঁচায়

আইনের ফাঁক গলে পালানোর কোনো সুযোগই পাননি মাদকাসক্তরা। আটকের পরপরই তাঁদের হাজির করা হয় বিশেষ ভ্রাম্যমাণ আদালতে। যেখানে ফরিদপুর জেলার দুই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেব কুমার পাল এবং ইনসানা তানজিম ইকো তৎক্ষণাৎ এজলাস বসিয়ে রায় ঘোষণা করেন। অপরাধের গুরুত্ব এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ধারা মেপে আটক ৭ জনকে বিভিন্ন মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং আর্থিক জরিমানা করা হয়। দণ্ডাদেশ কার্যকর করতে কালবিলম্ব না করে তাঁদের দ্রুত সাজা খাটার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’

ফরিদপুরকে মাদকের থাবা থেকে মুক্ত করতে প্রশাসন যে কতটা মরিয়া, এই অভিযান তারই আরও একটি প্রমাণ। জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শিরিন আক্তার অত্যন্ত কড়া ভাষায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন তাঁদের অবস্থান।

প্রশাসনের সাফ বার্তা

উপ-পরিচালক শিরিন আক্তার বলেন, “মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে ফরিদপুর জেলাজুড়ে আমাদের এই বিশেষ ও নিয়মিত অভিযান চলবেই। মাদক সেবন, বহন, ক্রয়-বিক্রয় কিংবা সংরক্ষণের সঙ্গে জড়িত কাউকেই বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি মেনে এই লড়াই আগামী দিনে আরও জোরদার হবে। এর পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে এই মরণনেশার ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করার কাজও আমরা চালিয়ে যাচ্ছি।”

তবে এই সামাজিক ব্যাধি উপড়ে ফেলতে শুধু খাঁকি উর্দির ওপর ভরসা রাখলে চলবে না, প্রয়োজন সাধারণ নাগরিকের সজাগ চোখ। অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ফরিদপুরবাসীর কাছে আহ্বান জানানো হয়েছে— নিজের এলাকায় মাদক সংক্রান্ত যেকোনো গোপন তথ্য পেলেই তা যেন অবিলম্বে প্রশাসনকে জানানো হয়। তথ্যের গোপনীয়তা বজায় রেখে সমাজকে এই বিষাক্ত ধোঁয়া থেকে মুক্ত করতে আমজনতার সহযোগিতাই এখন সবচেয়ে বড় অস্ত্র।

ফরিদপুরে গাঁজার আসরে টাস্কফোর্সের হানা: আটক ৭

আপডেট সময় : ০৯:৫১:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

শহরের বুক চিরে তখন পড়ন্ত বিকেলের আলো। ঠিক সেই মুহূর্তেই গুহলক্ষ্মীপুরের এক গোপন ডেরায় হানা দিল জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিশেষ দল। আসর তখন পুরোদমে জমজমাট, ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন চারপাশ। কিন্তু সেই নেশার আমেজ কেটে যেতে সময় লাগল না কয়েক সেকেন্ড। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো এই ঝটিকা অভিযানে প্রকাশ্যে গাঁজা সেবন ও বহনের অভিযোগে হাতেনাতে পাকড়াও করা হলো ৭ জনকে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে ফরিদপুর শহরের গুহলক্ষ্মীপুর এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর অভিযানটি চালানো হয়। শুধু আটক করেই ক্ষান্ত হয়নি প্রশাসন, হাতেনাতে ধরার পর ধৃতদের পিঠে তৎক্ষণাৎ পড়ল আইনের কড়া চাবুক।

আসর থেকে সরাসরি জেলের খাঁচায়

আইনের ফাঁক গলে পালানোর কোনো সুযোগই পাননি মাদকাসক্তরা। আটকের পরপরই তাঁদের হাজির করা হয় বিশেষ ভ্রাম্যমাণ আদালতে। যেখানে ফরিদপুর জেলার দুই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেব কুমার পাল এবং ইনসানা তানজিম ইকো তৎক্ষণাৎ এজলাস বসিয়ে রায় ঘোষণা করেন। অপরাধের গুরুত্ব এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ধারা মেপে আটক ৭ জনকে বিভিন্ন মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং আর্থিক জরিমানা করা হয়। দণ্ডাদেশ কার্যকর করতে কালবিলম্ব না করে তাঁদের দ্রুত সাজা খাটার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’

ফরিদপুরকে মাদকের থাবা থেকে মুক্ত করতে প্রশাসন যে কতটা মরিয়া, এই অভিযান তারই আরও একটি প্রমাণ। জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শিরিন আক্তার অত্যন্ত কড়া ভাষায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন তাঁদের অবস্থান।

প্রশাসনের সাফ বার্তা

উপ-পরিচালক শিরিন আক্তার বলেন, “মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে ফরিদপুর জেলাজুড়ে আমাদের এই বিশেষ ও নিয়মিত অভিযান চলবেই। মাদক সেবন, বহন, ক্রয়-বিক্রয় কিংবা সংরক্ষণের সঙ্গে জড়িত কাউকেই বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি মেনে এই লড়াই আগামী দিনে আরও জোরদার হবে। এর পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে এই মরণনেশার ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করার কাজও আমরা চালিয়ে যাচ্ছি।”

তবে এই সামাজিক ব্যাধি উপড়ে ফেলতে শুধু খাঁকি উর্দির ওপর ভরসা রাখলে চলবে না, প্রয়োজন সাধারণ নাগরিকের সজাগ চোখ। অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ফরিদপুরবাসীর কাছে আহ্বান জানানো হয়েছে— নিজের এলাকায় মাদক সংক্রান্ত যেকোনো গোপন তথ্য পেলেই তা যেন অবিলম্বে প্রশাসনকে জানানো হয়। তথ্যের গোপনীয়তা বজায় রেখে সমাজকে এই বিষাক্ত ধোঁয়া থেকে মুক্ত করতে আমজনতার সহযোগিতাই এখন সবচেয়ে বড় অস্ত্র।