বাড়ি ফেরার পথে অস্ত্রের কোপ, ফরিদপুরে লাখ লাখ টাকা লুট
- আপডেট সময় : ০৬:০২:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
- / 111
দিনভর হাড়ভাঙা খাটুনি শেষে তখন বাড়ি ফেরার তাড়া। ঘড়ির কাঁটায় রাত সোয়া দশটা। কিন্তু অন্ধকার ফুঁড়ে ওত পেতে থাকা একদল হিংস্র হায়েনার থাবা যে তাঁর পথ আটকে দাঁড়াবে, তা হয়তো দুঃস্বপ্নেও ভাবেননি যুবক রনি শেখ। বাধা দিতেই অন্ধকারের বুকে ঝিলিক দিয়ে উঠল ধারালো অস্ত্র। কোপের পর কোপে রক্তাক্ত, ক্ষতবিক্ষত শরীরটা যখন নিস্তেজ হয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়ল, তখন তাঁর উপার্জনের সবটুকু কেড়ে নিয়ে চম্পট দিল দুর্বৃত্তরা।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাতে ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কোরকদী বাজার সংলগ্ন এলাকায় ঘটে যাওয়া এই নৃশংস ছিনতাইয়ের ঘটনাটি স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
বাধা দিতেই নেমে এল অস্ত্রের কোপ, এক লহমায় সর্বস্বান্ত
আহত রনি শেখ (৩০) কোরকদী গ্রামের খালেক শেখের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে কোরকদী বাজারে সততার সঙ্গে বিকাশ, নগদ ও কসমেটিক্সের ব্যবসা করে আসছিলেন তিনি। প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার রাতেও দোকান বন্ধ করে উপার্জিত টাকা নিয়ে বাড়ির পথ ধরেছিলেন রনি। কিন্তু গোসাই চন্দ্র সরকারের বাড়ির পাশের নির্জন সড়কে আসতেই তাঁর গতিরোধ করে একদল সশস্ত্র দুষ্কৃতী।
টাকা ও মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করতেই সাহসের সঙ্গে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন রনি। আর সেই বাধাই কাল হলো। ক্ষিপ্ত দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করে। মাথা ও শরীরে গুরুতর জখম করে তাঁর কাছে থাকা ১ লাখ ৯২ হাজার টাকা এবং দুটি দামী মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় তারা। এরপর চলন্ত লাশের মতো রনিকে সড়কের পাশে ফেলে রেখে অন্ধকারের মাঝেই মিলিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা।
রক্তাক্ত রাস্তায় আর্তনাদ ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ
ঘটনার প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা পর, রাত ১১টার দিকে পথচারীরা রক্তাক্ত অবস্থায় রনিকে গোঙাতে দেখে স্থানীয়দের খবর দেন। উদ্ধার করে দ্রুত তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। বর্তমানে হাসপাতালের বিছানায় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন এই তরুণ ব্যবসায়ী। স্বজনদের বুকে এখন শুধু কান্নার রোল আর একটাই প্রার্থনা—রনি যেন সুস্থ হয়ে ফিরে আসেন।
বিপন্ন নিরাপত্তা, টহলের দাবি
আক্রান্ত ব্যবসায়ীর ভাই মিরাজ শেখ ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার চাই। বাজারে আমাদের কোনো নিরাপত্তা নেই। ব্যবসায়ীদের জীবন ও মালপত্রের সুরক্ষায় রাতের বেলা পুলিশের টহল জোরদার করা এখন সময়ের দাবি।”
এদিকে প্রশাসনের গাফিলতি নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকদেব দায় জানিয়েছেন, এই ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে একের পর এক এমন ঘটনায় মফস্বলের রাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা যে কতটা আলগা, তা আবারও আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল এই রক্তক্ষয়ী রাত।



















