ঢাকা ১০:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘বললে কাপড় থাকবে না’ নিলোফার মনির মন্তব্যে ফুঁসে উঠল ছাত্রদল

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৮:১১:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
  • / 107

জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান এবং সেই সময়কার রক্তের দাগ কি তবে এক অলিখিত ‘ডিজাইনে’র অংশ? আন্দোলনকারীদের গায়ে লাগা গুলি কি চেনা শত্রুর নাকি অচেনা বন্ধুর?— দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় গণজাগরণ নিয়ে এবার এমনই এক ঝাঁঝালো এবং চরম বিতর্কিত প্রশ্ন তুলে দিলেন বিএনপির স্বনির্ভর বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনি। একটি টেলিভিশন টকশোতে তাঁর করা বিস্ফোরক মন্তব্য ঘিরে এখন খোদ তাঁর নিজের দলের ছাত্রসংগঠন থেকে শুরু করে নেটপাড়ায় চলছে তীব্র সমালোচনা ও তোলপাড়।

বিপ্লবের নেতৃত্ব আর হত্যাকাণ্ডের ধরন নিয়ে প্রশ্ন তুলে নিলোফার চৌধুরী মনি যেভাবে সংশয়ের জাল বুনেছেন, তাকে ‘অযাচিত’ ও ‘মর্মান্তিক’ আখ্যা দিয়ে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে ছাত্রদল।

‘কাপড়-চোপড় ঠিক থাকবে না’— অন্দরের রহস্যের ইঙ্গিত?

সম্প্রতি একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের টকশোতে হাজির হয়ে নিলোফার চৌধুরী মনি যেন এক রাজনৈতিক বারুদে দেশলাই ঠুকে দেন। আন্দোলনের অন্তরালের গল্প নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করে তিনি বলেন, “জুলাই আন্দোলনে স্নাইপার চালিয়েছিলেন কারা? অনেক কিছুই আমি বলতে চেয়েও বলতে পারি না। কারণ, অনেক কিছু বললে অনেকের কাপড়-চোপড় ঠিক থাকবে না। যারা আজ কথা বলে, তারা কখন কোথায় কীভাবে সেনাবাহিনীর সঙ্গে দেখা করে এই কাজগুলো করেছিল, তাদের কতটা ভূমিকা ছিল?”

আন্দোলনের নেতৃত্ব নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করতে ছাড়েননি এই বিএনপি নেত্রী। তিনি দাবি করেন, এই আন্দোলনে আসলে কারা ‘মেইন’ বা প্রধান ছিল, তা কেউ জানে না। তাঁর ভাষায়, “গুলির কোনো শব্দ হয় নাই, এটা স্নাইপারের গুলি ছিল। গুলিটা সামনে থেকে আসছে না পেছন থেকে আসছে, সেটাও কেউ জানে না। সামনে কোনো পুলিশও ছিল না। হতে পারে কোনো বাসা থেকে টার্গেট করে, ওপরতলা থেকে টার্গেট করে হয়তো গুলি করা হয়েছে।” সঞ্চালক যখন প্রশ্ন করেন, তবে কি এটি কোনো নকশা বা ষড়যন্ত্র ছিল? মনি সটান জবাব দেন, “ডিজাইন তো অবশ্যই ছিল, ষড়যন্ত্র কি না আমি বলতে পারব না।”

‘গিনিপিগ’ মন্তব্যের পর নতুন বিতর্ক

নিলোফার চৌধুরী মনির এমন মন্তব্যে পুরোনো ক্ষোভের আগুন যেন নতুন করে জ্বলে উঠেছে। এর আগে নিহত ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদিকে নিয়ে করা তাঁর একটি মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল ভাইরাল হয়েছিল।

সে সময় হাদি প্রসঙ্গে তিনি বলেছিলেন, “হাদিকে আমার কাছে এই মুহূর্তে একটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ গিনিপিগ ছাড়া আর কিছুই মনে হয় নাই। ডাক্তাররা যেমন তেলাপোকা বা ব্যাঙ কেটে সেলাই করে ছেড়ে দেয়, হাদি হয়তো সেলাই করে ছেড়ে দেওয়ার পর চলতে পারে নাই।” একজন শহীদ বা নিহত মানুষকে নিয়ে এমন ‘নিষ্ঠুর’ উপমা দেওয়ায় এমনিতেই ব্যাকফুটে ছিলেন তিনি, তার ওপর এই নতুন বয়ান যেন আগুনে ঘি ঢেলেছে।

ধৈর্যের বাঁধ ভাঙল ছাত্রদলের

ঘরের ভেতরের নেত্রীর এমন লাগামছাড়া মন্তব্যে আর চুপ থাকতে পারেনি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ফেসবুকে লিখেছেন, “সম্প্রতি টেলিভিশন টকশোতে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান নিয়ে আপনার অযাচিত বক্তব্যে আমরা অত্যন্ত মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ। আপনার বক্তব্য আমরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করলাম।” একই সঙ্গে ভবিষ্যতে জুলাইয়ের চেতনা নিয়ে কথা বলার সময় তাঁকে আরও সংযত ও শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ছাত্রদল সভাপতি।

রক্তক্ষয়ী এক গণঅভ্যুত্থান, যার রেশ এখনো কাটেনি, তা নিয়ে খোদ বিরোধী শিবিরের হেভিওয়েট নেত্রীর এমন ‘তাত্ত্বিক’ ও ‘সংশয়বাদী’ মন্তব্য আগামী দিনে বিএনপির ভেতরের ও বাইরের রাজনীতিকে কতটা উত্তপ্ত করে, এখন সেটাই দেখার।

‘বললে কাপড় থাকবে না’ নিলোফার মনির মন্তব্যে ফুঁসে উঠল ছাত্রদল

আপডেট সময় : ০৮:১১:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান এবং সেই সময়কার রক্তের দাগ কি তবে এক অলিখিত ‘ডিজাইনে’র অংশ? আন্দোলনকারীদের গায়ে লাগা গুলি কি চেনা শত্রুর নাকি অচেনা বন্ধুর?— দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় গণজাগরণ নিয়ে এবার এমনই এক ঝাঁঝালো এবং চরম বিতর্কিত প্রশ্ন তুলে দিলেন বিএনপির স্বনির্ভর বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনি। একটি টেলিভিশন টকশোতে তাঁর করা বিস্ফোরক মন্তব্য ঘিরে এখন খোদ তাঁর নিজের দলের ছাত্রসংগঠন থেকে শুরু করে নেটপাড়ায় চলছে তীব্র সমালোচনা ও তোলপাড়।

বিপ্লবের নেতৃত্ব আর হত্যাকাণ্ডের ধরন নিয়ে প্রশ্ন তুলে নিলোফার চৌধুরী মনি যেভাবে সংশয়ের জাল বুনেছেন, তাকে ‘অযাচিত’ ও ‘মর্মান্তিক’ আখ্যা দিয়ে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে ছাত্রদল।

‘কাপড়-চোপড় ঠিক থাকবে না’— অন্দরের রহস্যের ইঙ্গিত?

সম্প্রতি একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের টকশোতে হাজির হয়ে নিলোফার চৌধুরী মনি যেন এক রাজনৈতিক বারুদে দেশলাই ঠুকে দেন। আন্দোলনের অন্তরালের গল্প নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করে তিনি বলেন, “জুলাই আন্দোলনে স্নাইপার চালিয়েছিলেন কারা? অনেক কিছুই আমি বলতে চেয়েও বলতে পারি না। কারণ, অনেক কিছু বললে অনেকের কাপড়-চোপড় ঠিক থাকবে না। যারা আজ কথা বলে, তারা কখন কোথায় কীভাবে সেনাবাহিনীর সঙ্গে দেখা করে এই কাজগুলো করেছিল, তাদের কতটা ভূমিকা ছিল?”

আন্দোলনের নেতৃত্ব নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করতে ছাড়েননি এই বিএনপি নেত্রী। তিনি দাবি করেন, এই আন্দোলনে আসলে কারা ‘মেইন’ বা প্রধান ছিল, তা কেউ জানে না। তাঁর ভাষায়, “গুলির কোনো শব্দ হয় নাই, এটা স্নাইপারের গুলি ছিল। গুলিটা সামনে থেকে আসছে না পেছন থেকে আসছে, সেটাও কেউ জানে না। সামনে কোনো পুলিশও ছিল না। হতে পারে কোনো বাসা থেকে টার্গেট করে, ওপরতলা থেকে টার্গেট করে হয়তো গুলি করা হয়েছে।” সঞ্চালক যখন প্রশ্ন করেন, তবে কি এটি কোনো নকশা বা ষড়যন্ত্র ছিল? মনি সটান জবাব দেন, “ডিজাইন তো অবশ্যই ছিল, ষড়যন্ত্র কি না আমি বলতে পারব না।”

‘গিনিপিগ’ মন্তব্যের পর নতুন বিতর্ক

নিলোফার চৌধুরী মনির এমন মন্তব্যে পুরোনো ক্ষোভের আগুন যেন নতুন করে জ্বলে উঠেছে। এর আগে নিহত ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদিকে নিয়ে করা তাঁর একটি মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল ভাইরাল হয়েছিল।

সে সময় হাদি প্রসঙ্গে তিনি বলেছিলেন, “হাদিকে আমার কাছে এই মুহূর্তে একটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ গিনিপিগ ছাড়া আর কিছুই মনে হয় নাই। ডাক্তাররা যেমন তেলাপোকা বা ব্যাঙ কেটে সেলাই করে ছেড়ে দেয়, হাদি হয়তো সেলাই করে ছেড়ে দেওয়ার পর চলতে পারে নাই।” একজন শহীদ বা নিহত মানুষকে নিয়ে এমন ‘নিষ্ঠুর’ উপমা দেওয়ায় এমনিতেই ব্যাকফুটে ছিলেন তিনি, তার ওপর এই নতুন বয়ান যেন আগুনে ঘি ঢেলেছে।

ধৈর্যের বাঁধ ভাঙল ছাত্রদলের

ঘরের ভেতরের নেত্রীর এমন লাগামছাড়া মন্তব্যে আর চুপ থাকতে পারেনি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ফেসবুকে লিখেছেন, “সম্প্রতি টেলিভিশন টকশোতে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান নিয়ে আপনার অযাচিত বক্তব্যে আমরা অত্যন্ত মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ। আপনার বক্তব্য আমরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করলাম।” একই সঙ্গে ভবিষ্যতে জুলাইয়ের চেতনা নিয়ে কথা বলার সময় তাঁকে আরও সংযত ও শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ছাত্রদল সভাপতি।

রক্তক্ষয়ী এক গণঅভ্যুত্থান, যার রেশ এখনো কাটেনি, তা নিয়ে খোদ বিরোধী শিবিরের হেভিওয়েট নেত্রীর এমন ‘তাত্ত্বিক’ ও ‘সংশয়বাদী’ মন্তব্য আগামী দিনে বিএনপির ভেতরের ও বাইরের রাজনীতিকে কতটা উত্তপ্ত করে, এখন সেটাই দেখার।