গুলিতে ঝাঁঝরা ব্যবসায়ী: ফরিদপুরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা
- আপডেট সময় : ১২:২৯:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
- / 210
মফস্বলের বুক চিরে থাকা চেনা বাসস্ট্যান্ড এলাকাটি যে মুহূর্তের মধ্যে এভাবে রণক্ষেত্রে পরিণত হবে, তা কে জানত! একপক্ষে ছিটকে আসা বুলেটের শব্দ, অন্যপক্ষে বাঁচার আকুল আর্তনাদ। স্থানীয় আধিপত্য আর রাজনীতির ক্ষমতার দম্ভে বলি হতে হলো ২২ বছরের এক তরতাজা যুবককে। গত মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাতের সেই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর ফরিদপুরের ভাঙ্গায় এখন থমথমে আতঙ্ক। ফাস্টফুড ব্যবসায়ী সুমন শেখের বুক লক্ষ্য করে চলা শর্টগানের গুলি শুধু একটি প্রাণই কেড়ে নেয়নি, ওলটপালট করে দিয়েছে কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের এক নিঃস্ব পরিবারের সংসার।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অবশেষে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাতে ভাঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন নিহতের বাবা মিলন শেখ। মামলায় নাম উল্লেখ করা হয়েছে ১১ জনের, যার প্রধান আসামি স্বয়ং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব সজীব মাতুব্বর।
শর্টগানের ট্রিগার বনাম এক মায়ের আর্তনাদ
নিহত সুমন শেখ ভাঙা পৌরসভার কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের বাসিন্দা। এলাকায় শান্ত স্বভাবের ফাস্টফুড ব্যবসায়ী হিসেবেই পরিচিত ছিলেন তিনি। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মঙ্গলবার রাতে পূর্বশত্রুতার জেরে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় যখন দুই পক্ষ মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়ায়, তখন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সজীব মাতুব্বরের শর্টগান থেকে ছুটে আসা গুলিই কেড়ে নেয় সুমনের প্রাণ।
ছেলের অকালমৃত্যুতে পাথর হয়ে যাওয়া মা সামেলা বেগমের কান্নায় এখন ভারী এলাকার বাতাস। বুকে পাথর চেপে তিনি বিচার চেয়ে বলেন, “সজীব মাতুব্বরসহ যারা আমার ছেলে সুমনকে কোল খালি করে কেড়ে নিয়েছে, আমি তাদের ফাঁসি চাই। আর কোনো মাকে যেন আমার মতো সন্তান হারানোর এই নরকযন্ত্রণা সহ্য করতে না হয়।” সুমনের মৃত্যুর পর থেকেই এলাকায় দফায় দফায় বিক্ষোভ ও সজীবের গ্রেপ্তারের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজপথ।
খাঁ খাঁ করছে মহল্লা, ‘তদবির চলবে না’ কড়া হুঁশিয়ারি সাংসদের
মামলা হতেই গ্রেপ্তার এড়াতে নাটকীয় মোড় নিয়েছে এলাকার পরিস্থিতি। পুলিশের কড়া অভিযানের মুখে পৌরসভার হাশামদিয়া ও আতাদি মহল্লা এখন সম্পূর্ণ ‘পুরুষশূন্য’। কোনো কোনো ঘরের দরজায় ঝুলছে তালা। পরবর্তী কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত সহিংসতা এড়াতে পুরো এলাকায় পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান।
নেতা হলেও ছাড় নেই:
এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম বাবুল অত্যন্ত কড়া ও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “অপরাধী যত বড় নেতাই হোক না কেন, সুমন হত্যার বিচার আইন অনুযায়ীই হবে। এই মামলায় কোনো ধরনের তদবির বা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না। মামলার ১ নম্বর আসামি সজীব মাতুব্বরের বিরুদ্ধে আজই কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
মফস্বলের রাজনীতি আর আধিপত্যের এই রক্তাক্ত খেলা আর কত প্রাণ কাড়বে, তা নিয়ে জনমনে উঠছে প্রশ্ন। আইনের হাত এড়াতে পলাতক আসামিরা কতদিন গা ঢাকা দিয়ে থাকতে পারেন, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় ভাঙ্গার মানুষ।



















