ঢাকা ০১:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে অধরা ‘মাদক সম্রাট’ লাভলু: চালানের দায়ে জেলে অন্যের স্বামী

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৮:০৪:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
  • / 372

আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ জীবনযাপন। চলাফেরায় বোঝার উপায় নেই তিনি আড়ালে বসে নিয়ন্ত্রণ করছেন কোটি টাকার মাদকের সাম্রাজ্য। তিনি আর কেউ নন, ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার মাদক চক্রের অন্যতম গডফাদার লাভলু শরীফ (৪৫)। নিজে লোকচক্ষুর অন্তরালে থেকে সাধারণ মানুষকে লোভের ফাঁদে ফেলে কক্সবাজার থেকে ইয়াবার বড় বড় চালান দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করাই তার মূল আয়ের উৎস।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, লাভলু শরীফ ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া ইউনিয়নের জুঙ্গুরদি গ্রামের দুলাল শরীফের ছেলে। কক্সবাজার থেকে ইয়াবা এনে তিনি দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের দিনাজপুর, রংপুর, কুষ্টিয়া, নাটোর এবং রাজশাহীসহ বেশ কয়েকটি জেলায় সরবরাহ করে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে।

১০ হাজার পিস ইয়াবাসহ দুই সহযোগী গ্রেফতার:

অনুসন্ধানে জানা যায়, লাভলু শরীফের ইয়াবার চালান পৌঁছে দিতে গিয়ে গত ১৯শে ফেব্রুয়ারি (২০২৬) রংপুরে র‍্যাব-১৩ এর একটি বিশেষ অভিযানে ১০,০০০ (দশ হাজার) পিস ইয়াবাসহ হাতেনাতে গ্রেফতার হন দুই যুবক। গ্রেফতারকৃতরা হলেন—নগরকান্দার জুঙ্গুরদি গ্রামের বালা মাতুব্বরের ছেলে মাহমুদুল হাসান এবং বিল গোবিন্দপুর গ্রামের আলম প্রামানিকের ছেলে রাজু প্রামানিক।

গ্রেফতারের পর র‍্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাজু প্রামানিক স্পষ্টভাবে স্বীকার করেন, উদ্ধারকৃত বিশাল ইয়াবার চালানটি সম্পূর্ণ লস্করদিয়ার লাভলু শরীফের। তিনিই তাদের মোটা অঙ্কের টাকার প্রলোভন দেখিয়ে ডেলিভারি দেওয়ার জন্য ভাড়া করেছিলেন।

নেপথ্যের মূল হোতা অধরাই, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী:

র‍্যাবের অভিযানে মূল হোতা হিসেবে লাভলু শরীফের নাম আসার পরও এক অদৃশ্য কারণে তিনি মামলার এজাহার থেকে বাদ পড়ে যান। চিরিরবন্দর থানায় দায়েরকৃত মাদক মামলায় (মামলা নং-১১, জি আর নং-৩৩/২০২৬) কেবল বহনকারী মাহমুদুল ও রাজু প্রামানিককে আসামি করে দিনাজপুর জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। ফলে ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যান আসল অপরাধী লাভলু শরীফ।

স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, লাভলুর বাবা দুলাল শরীফ ছেলের এই অন্ধকার জগতের সমস্ত অপরাধের কথা জানার পরেও তাকে নানাভাবে সহযোগিতা ও আশ্রয় দিয়ে আসছেন। সহযোগীরা গ্রেফতার হলেও লাভলু তার সিন্ডিকেটের অন্যান্য সদস্যদের দিয়ে এখনো বহাল তবিয়তে মাদকের কারবার চালিয়ে যাচ্ছেন।

কান্নায় ভেঙে পড়া ভুক্তভোগী পরিবারের আকুতি:

গ্রেফতারকৃত রাজু প্রামানিকের স্ত্রী সাংবাদিকদের কাছে কান্নাভেজা কণ্ঠে আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, “লাভলুর ইয়াবার চালান দিতে গিয়ে আমার স্বামী প্রশাসনের হাতে ধরা পড়েছে। আমার স্বামী অপরাধ করেছে, তার শাস্তি হচ্ছে। কিন্তু যার মালের জন্য আজকে আমার পরিবার ধ্বংস হলো, সেই মূল হোতা লাভলু শরীফ আজও খোলা আকাশে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে কেন?”

তিনি আরও বলেন, “আমার চার বছরের শিশু সন্তানটি প্রতিদিন ‘বাবা কোথায়’ বলে কান্নাকাটি করে। পরিবার নিয়ে আমরা চরম কষ্টে, অনাহারে দিন কাটাচ্ছি। বাংলাদেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে প্রশাসনের কাছে আমার প্রশ্ন—ইয়াবার গডফাদার লাভলুর কি কোনো বিচার হবে না? তাকে এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক যেন আর কোনো গরিব মানুষকে কেউ এভাবে মাদকের বাহক হিসেবে ব্যবহার করার সাহস না পায়।”

নগরকান্দার সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী পরিবার এই ‘মাদক সম্রাট’ লাভলু শরীফকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ফরিদপুরে অধরা ‘মাদক সম্রাট’ লাভলু: চালানের দায়ে জেলে অন্যের স্বামী

আপডেট সময় : ০৮:০৪:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ জীবনযাপন। চলাফেরায় বোঝার উপায় নেই তিনি আড়ালে বসে নিয়ন্ত্রণ করছেন কোটি টাকার মাদকের সাম্রাজ্য। তিনি আর কেউ নন, ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার মাদক চক্রের অন্যতম গডফাদার লাভলু শরীফ (৪৫)। নিজে লোকচক্ষুর অন্তরালে থেকে সাধারণ মানুষকে লোভের ফাঁদে ফেলে কক্সবাজার থেকে ইয়াবার বড় বড় চালান দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করাই তার মূল আয়ের উৎস।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, লাভলু শরীফ ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া ইউনিয়নের জুঙ্গুরদি গ্রামের দুলাল শরীফের ছেলে। কক্সবাজার থেকে ইয়াবা এনে তিনি দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের দিনাজপুর, রংপুর, কুষ্টিয়া, নাটোর এবং রাজশাহীসহ বেশ কয়েকটি জেলায় সরবরাহ করে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে।

১০ হাজার পিস ইয়াবাসহ দুই সহযোগী গ্রেফতার:

অনুসন্ধানে জানা যায়, লাভলু শরীফের ইয়াবার চালান পৌঁছে দিতে গিয়ে গত ১৯শে ফেব্রুয়ারি (২০২৬) রংপুরে র‍্যাব-১৩ এর একটি বিশেষ অভিযানে ১০,০০০ (দশ হাজার) পিস ইয়াবাসহ হাতেনাতে গ্রেফতার হন দুই যুবক। গ্রেফতারকৃতরা হলেন—নগরকান্দার জুঙ্গুরদি গ্রামের বালা মাতুব্বরের ছেলে মাহমুদুল হাসান এবং বিল গোবিন্দপুর গ্রামের আলম প্রামানিকের ছেলে রাজু প্রামানিক।

গ্রেফতারের পর র‍্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাজু প্রামানিক স্পষ্টভাবে স্বীকার করেন, উদ্ধারকৃত বিশাল ইয়াবার চালানটি সম্পূর্ণ লস্করদিয়ার লাভলু শরীফের। তিনিই তাদের মোটা অঙ্কের টাকার প্রলোভন দেখিয়ে ডেলিভারি দেওয়ার জন্য ভাড়া করেছিলেন।

নেপথ্যের মূল হোতা অধরাই, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী:

র‍্যাবের অভিযানে মূল হোতা হিসেবে লাভলু শরীফের নাম আসার পরও এক অদৃশ্য কারণে তিনি মামলার এজাহার থেকে বাদ পড়ে যান। চিরিরবন্দর থানায় দায়েরকৃত মাদক মামলায় (মামলা নং-১১, জি আর নং-৩৩/২০২৬) কেবল বহনকারী মাহমুদুল ও রাজু প্রামানিককে আসামি করে দিনাজপুর জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। ফলে ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যান আসল অপরাধী লাভলু শরীফ।

স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, লাভলুর বাবা দুলাল শরীফ ছেলের এই অন্ধকার জগতের সমস্ত অপরাধের কথা জানার পরেও তাকে নানাভাবে সহযোগিতা ও আশ্রয় দিয়ে আসছেন। সহযোগীরা গ্রেফতার হলেও লাভলু তার সিন্ডিকেটের অন্যান্য সদস্যদের দিয়ে এখনো বহাল তবিয়তে মাদকের কারবার চালিয়ে যাচ্ছেন।

কান্নায় ভেঙে পড়া ভুক্তভোগী পরিবারের আকুতি:

গ্রেফতারকৃত রাজু প্রামানিকের স্ত্রী সাংবাদিকদের কাছে কান্নাভেজা কণ্ঠে আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, “লাভলুর ইয়াবার চালান দিতে গিয়ে আমার স্বামী প্রশাসনের হাতে ধরা পড়েছে। আমার স্বামী অপরাধ করেছে, তার শাস্তি হচ্ছে। কিন্তু যার মালের জন্য আজকে আমার পরিবার ধ্বংস হলো, সেই মূল হোতা লাভলু শরীফ আজও খোলা আকাশে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে কেন?”

তিনি আরও বলেন, “আমার চার বছরের শিশু সন্তানটি প্রতিদিন ‘বাবা কোথায়’ বলে কান্নাকাটি করে। পরিবার নিয়ে আমরা চরম কষ্টে, অনাহারে দিন কাটাচ্ছি। বাংলাদেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে প্রশাসনের কাছে আমার প্রশ্ন—ইয়াবার গডফাদার লাভলুর কি কোনো বিচার হবে না? তাকে এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক যেন আর কোনো গরিব মানুষকে কেউ এভাবে মাদকের বাহক হিসেবে ব্যবহার করার সাহস না পায়।”

নগরকান্দার সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী পরিবার এই ‘মাদক সম্রাট’ লাভলু শরীফকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।