মাঠের বাইরে আসল তারকা:
নেইমারের জাদুতে মুগ্ধ ফরিদপুরের আইন শিক্ষার্থী সুমা
- আপডেট সময় : ০২:৫৫:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
- / 105
ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই কোটি ভক্তের বিনিদ্র রজনী, চায়ের কাপে আড্ডার ঝড় আর প্রিয় দলের জয়ে বাঁধভাঙা উল্লাস। মাঠের এগারো জন খেলোয়াড়ের জন্য গ্যালারি কিংবা টিভির ওপার থেকে যে কোটি কোটি প্রাণ স্পন্দিত হয়, তাদের আবেগ নিয়েই ‘দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ’-এর বিশেষ আয়োজন—’মাঠের বাইরে আসল তারকা’। আজ আমাদের এই আয়োজনে আমরা কথা বলেছি ফরিদপুর সদরের বাসিন্দা এবং আইন বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী সুমা-র সাথে, যিনি সেলেসাওদের একনিষ্ঠ ভক্ত।
সুমার ফুটবলপ্রেমের গল্পটা শুরু হয়েছিল আজ থেকে এক যুগ আগে, ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে। সেই আসরেই ব্রাজিলের হলুদ-সবুজ জার্সিতে কোটি ফুটবলপ্রেমীর নয়নের মণি লিওনার্দো দে সিলভা সান্তোস জুনিয়র—অর্থাৎ আমাদের সবার পরিচিত নেইমারের জাদুকরী ফুটবল শৈলী দেখে মুগ্ধ হন সুমা। নেইমারের সেই গতি, ড্রিবলিং আর মাঠে বল পায়ে শিল্পের ছোঁয়াই সুমাকে ব্রাজিলের একজন নিবেদিতপ্রাণ সমর্থক বানিয়ে তোলে।
ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের মূল দর্শন “জোগো বনিতো” বা সুন্দর খেলা কেন এত প্রিয়—এমন প্রশ্নে আইনের এই শিক্ষার্থী খুব চমৎকারভাবে ব্যাখ্যা করলেন। তিনি মনে করেন, “জোগো বনিতো” শুধু একটা খেলার কৌশল নয়; এটি তার অনন্য সৃজনশীলতা, খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত দক্ষতা এবং নিখাদ আক্রমণাত্মক সৌন্দর্যের জন্য বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত। আর এই শৈল্পিক ফুটবলই মাঠের ৯০ মিনিটকে এক টুকরো শিল্পে রূপান্তর করে, যা সুমার মতো কোটি ভক্তের মন ছুঁয়ে যায়।
বাঙালি ফুটবল ভক্তদের মতো সুমার কাছেও বিশ্বকাপ মানেই এক নস্টালজিয়া। ফুটবলকে ঘিরে তার সবচেয়ে মধুর ও আবেগঘন স্মৃতিগুলো জমে আছে বন্ধুদের আড্ডায়। তিনি জানান, বিশ্বকাপ এলেই বন্ধুদের সাথে দলবেঁধে রাত জেগে প্রিয় দলের খেলা দেখা, প্রতিটি গোল আর জয়ের পর একসাথে উল্লাস করা এবং ফুটবল নিয়ে খুনসুটিতে মেতে থাকার মাঝেই লুকিয়ে থাকে জীবনের আসল আনন্দ। বন্ধুদের সাথে কাটানো এই বিনিদ্র রজনীগুলোই তার ফুটবল জীবনের শ্রেষ্ঠ স্মৃতি।
আসন্ন বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বহুল প্রতীক্ষিত ‘হেক্সা’ বা ষষ্ঠ শিরোপা জয়ের মিশন নিয়ে সুমা বেশ আশাবাদী। তিনি মনে করেন, এবার বিশ্বজয়ের মুকুট মাথায় তুলতে হলে ব্রাজিলের আক্রমণভাগের দুই সেরা তারকা—নেইমার এবং তরুণ তুর্কি ভিনিসিয়ুস জুনিয়র (ভিনি)-কে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে হবে। এই দুই তারকার আগুনে ফর্ম ও মাঠের বোঝাপড়া ব্রাজিলকে হেক্সা জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেবে বলে বিশ্বাস সুমার।
আইনের মারপ্যাঁচ আর পড়াশোনার ব্যস্ততার মাঝেও সুমার এই ফুটবল উন্মাদনা প্রমাণ করে, ফুটবল কীভাবে মানুষের মনকে সতেজ ও আনন্দিত রাখে। সুমার মতো ফুটবলপ্রেমীদের এই নিখাদ ভালোবাসাই বিশ্বকাপের আসল সৌন্দর্য। ‘দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ’-এর পক্ষ থেকে সুমার জন্য রইল আন্তরিক শুভকামনা।


















