ফ্ল্যাটে সাত দিন পড়ে রইল মায়ের পচাগলা লাশ
- আপডেট সময় : ১২:৩৫:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬
- / 168
বাইরে তাঁদের সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, উচ্চশিক্ষিত ও সমাজের তথাকথিত ‘প্রতিষ্ঠিত’ নাগরিকের তকমা। কেউ সরকারের নীতি নির্ধারণ করেন, কেউ দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে মেধার আলো ছড়ান। কিন্তু সেই উচ্চশিক্ষার আলো যে তাঁদের ঘরের অন্ধকার দূর করতে পারেনি, তার এক চরম মর্মান্তিক ও লজ্জাজনক দৃষ্টান্ত দেখল রাজধানী। মিরপুরের এক অভিজাত ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয়েছে ৭৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা নুরজাহান বেগমের পচাগলা মরদেহ। মৃত্যুর অন্তত সাত থেকে আট দিন পর ঘর থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
গত রবিবার (১ জুন) রাতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ আসা একটি ফোন কলের সূত্র ধরে মিরপুরের ৬ নম্বর সেকশনের সি ব্লকের একটি ফ্ল্যাট থেকে এই মরদেহ উদ্ধার করে পল্লবী থানা পুলিশ।
মেয়ের ফ্ল্যাটেই চরম অবহেলা ও নরকবাস!
পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান বাসির জানান, নুরজাহান বেগম মিরপুরে তাঁর মেয়ের বাসাতেই থাকতেন, তবে তিনি থাকতেন সম্পূর্ণ আলাদা একটি কক্ষে। টানা কয়েকদিন তাঁর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে অবশেষে মেয়ে একজন নার্সকে ডেকে আনেন। ওই নার্স ঘরে ঢুকে বৃদ্ধাকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।
পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পায়, দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় মরদেহে চরম পচন ধরেছে এবং পুরো ঘরে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। যে ঘরটিতে ওই বৃদ্ধা থাকতেন, সেটি ছিল অত্যন্ত অপরিচ্ছন্ন, অগোছালো ও আবর্জনায় ভরা। ঘরের এই নারকীয় ও জরাজীর্ণ অবস্থা দেখে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা—দীর্ঘদিন ধরে চরম অবহেলা, অযত্ন ও পরিচর্যার অভাবেই ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যু হয়েছে এই বৃদ্ধার।
সন্তানদের রাজকীয় পরিচয়, মায়ের কপালে নিথর অবহেলা:
পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে এই ঘটনার পেছনে যে পারিবারিক চিত্র উঠে এসেছে, তা দেখে খোদ তদন্তকারী কর্মকর্তারাই হতবাক। নিহত নুরজাহান বেগমের তিন ছেলেই সমাজে অত্যন্ত প্রভাবশালী ও সুপ্রতিষ্ঠিত। তাঁদের একজন সরকারের উচ্চপদস্থ যুগ্ম সচিব, একজন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক এবং অন্যজন কানাডাপ্রবাসী। এমনকি যে মেয়ের ফ্ল্যাটে তিনি থাকতেন, তাঁর স্বামীও একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। সন্তানদের এমন রাজকীয় সামাজিক অবস্থানের পরেও মায়ের কপালে কেন এই চরম অবহেলা জুটল, তা নিয়ে চারদিকে ছিঃ ছিঃ পড়ে গেছে।
ওসি আরও জানান, বৃদ্ধার মৃত্যুর সঠিক সময় ও কারণ সম্পর্কে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো সন্তোষজনক বা স্পষ্ট জবাব পাওয়া যায়নি। ফলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ আড়াল করার কোনো চেষ্টা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় পল্লবী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পর পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।



















