ঢাকা ০৩:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাবার হেনস্তার প্রতিবাদ: ফরিদপুরে ঢাবি ছাত্রকে রক্তাক্ত করল দুর্বৃত্তরা

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০১:৩৩:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
  • / 241

ফরিদপুরের নগরকান্দায় বাবার সঙ্গে দুর্ব্যবহারের প্রতিবাদ করায় মলয় কান্তি বিশ্বাস নিশান (২৬) নামের এক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীকে মাঝরাস্তায় পথরোধ করে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও বিচার দাবি করে আহত শিক্ষার্থী বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে নগরকান্দা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।

আহত মলয় কান্তি বিশ্বাস নিশান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের প্রাচ্যকলা বিভাগের মাস্টার্স প্রথম পর্বের শিক্ষার্থী। তিনি নগরকান্দা পৌরসভার মধ্যজগদিয়া এলাকার বাসিন্দা ও সোনালী ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা নলিনী কান্তি বিশ্বাসের ছেলে।

তাল পাড়া নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত:

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ মে এলাকার এক প্রতিবেশীর তালগাছ থেকে তাল পাড়াকে কেন্দ্র করে নিশানের বাবা নলিনী কান্তি বিশ্বাসের সঙ্গে নগরকান্দা পৌরসভার জুঙ্গুরদী এলাকার বাসিন্দা আরমান হোসেনের তীব্র বাগবিতণ্ডা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় প্রবীণ নলিনী কান্তিকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও হেনস্তা করা হয়। বিষয়টি দেখে ছেলে মলয় কান্তি তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানালে আরমান তাকে ভবিষ্যতে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে চলে যান।

মাইক্রোবাস দিয়ে পথরোধ ও হামলা:

থানায় দেওয়া অভিযোগ অনুযায়ী, গত বুধবার (৩ জুন) সন্ধ্যায় মলয় কান্তি তাঁর দুই বন্ধুকে নিয়ে মোটরসাইকেলে বাইরে বের হন। এ সময় বাড়ির সামনের প্রধান সড়কে একটি হাইয়েস মাইক্রোবাস দিয়ে আচমকা তাঁদের পথরোধ করা হয়। গাড়ি থেকে নেমে আরমান ও তার সহযোগীরা মলয় কান্তিকে লক্ষ্য করে বাঁশ দিয়ে বেধড়ক মারধর শুরু করেন। সন্ত্রাসীদের হামলায় নিশানের মাথা ফেটে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা বন্ধু বিকাশ পালও হামলার শিকার হন।

মাথায় তিন সেলাই:

নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. তাসমিমা আক্তার জানান, রোগীর মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মাথায় গভীর আঘাতজনিত ক্ষতস্থানে তিনটি সেলাই দিতে হয়েছে। চিকিৎসকরা তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি থাকার পরামর্শ দিলেও তিনি নিরাপত্তার স্বার্থে বর্তমানে বাসায় থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছেন।

আহত ঢাবি শিক্ষার্থী মলয় কান্তি বলেন, ‘বাবার সঙ্গে অন্যায়ভাবে দুর্ব্যবহার করা হয়েছিল, সন্তান হিসেবে আমি শুধু তার প্রতিবাদ করেছিলাম। সেই ঘটনার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাসী কায়দায় আমার পথরোধ করে হামলা করা হয়েছে। আমি এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’ তবে হামলার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আরমান হোসেন গণমাধ্যমকে এড়িয়ে গিয়ে বলেন, ‘আপনি আমার সামনে এসে বক্তব্য নিয়ে যান।’

আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস:

অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রসুল সামদানি আজাদ বলেন, ‘ভুক্তভোগী প্রথমে মৌখিক এবং পরে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার ছবি ও ভিডিও চিত্র আমরা নিখুঁতভাবে যাচাই করছি। অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এদিকে সামান্য বিরোধের জেরে প্রকাশ্যে একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর ওপর এমন বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার সচেতন মহল ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।

বাবার হেনস্তার প্রতিবাদ: ফরিদপুরে ঢাবি ছাত্রকে রক্তাক্ত করল দুর্বৃত্তরা

আপডেট সময় : ০১:৩৩:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

ফরিদপুরের নগরকান্দায় বাবার সঙ্গে দুর্ব্যবহারের প্রতিবাদ করায় মলয় কান্তি বিশ্বাস নিশান (২৬) নামের এক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীকে মাঝরাস্তায় পথরোধ করে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও বিচার দাবি করে আহত শিক্ষার্থী বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে নগরকান্দা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।

আহত মলয় কান্তি বিশ্বাস নিশান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের প্রাচ্যকলা বিভাগের মাস্টার্স প্রথম পর্বের শিক্ষার্থী। তিনি নগরকান্দা পৌরসভার মধ্যজগদিয়া এলাকার বাসিন্দা ও সোনালী ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা নলিনী কান্তি বিশ্বাসের ছেলে।

তাল পাড়া নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত:

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ মে এলাকার এক প্রতিবেশীর তালগাছ থেকে তাল পাড়াকে কেন্দ্র করে নিশানের বাবা নলিনী কান্তি বিশ্বাসের সঙ্গে নগরকান্দা পৌরসভার জুঙ্গুরদী এলাকার বাসিন্দা আরমান হোসেনের তীব্র বাগবিতণ্ডা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় প্রবীণ নলিনী কান্তিকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও হেনস্তা করা হয়। বিষয়টি দেখে ছেলে মলয় কান্তি তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানালে আরমান তাকে ভবিষ্যতে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে চলে যান।

মাইক্রোবাস দিয়ে পথরোধ ও হামলা:

থানায় দেওয়া অভিযোগ অনুযায়ী, গত বুধবার (৩ জুন) সন্ধ্যায় মলয় কান্তি তাঁর দুই বন্ধুকে নিয়ে মোটরসাইকেলে বাইরে বের হন। এ সময় বাড়ির সামনের প্রধান সড়কে একটি হাইয়েস মাইক্রোবাস দিয়ে আচমকা তাঁদের পথরোধ করা হয়। গাড়ি থেকে নেমে আরমান ও তার সহযোগীরা মলয় কান্তিকে লক্ষ্য করে বাঁশ দিয়ে বেধড়ক মারধর শুরু করেন। সন্ত্রাসীদের হামলায় নিশানের মাথা ফেটে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা বন্ধু বিকাশ পালও হামলার শিকার হন।

মাথায় তিন সেলাই:

নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. তাসমিমা আক্তার জানান, রোগীর মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মাথায় গভীর আঘাতজনিত ক্ষতস্থানে তিনটি সেলাই দিতে হয়েছে। চিকিৎসকরা তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি থাকার পরামর্শ দিলেও তিনি নিরাপত্তার স্বার্থে বর্তমানে বাসায় থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছেন।

আহত ঢাবি শিক্ষার্থী মলয় কান্তি বলেন, ‘বাবার সঙ্গে অন্যায়ভাবে দুর্ব্যবহার করা হয়েছিল, সন্তান হিসেবে আমি শুধু তার প্রতিবাদ করেছিলাম। সেই ঘটনার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাসী কায়দায় আমার পথরোধ করে হামলা করা হয়েছে। আমি এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’ তবে হামলার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আরমান হোসেন গণমাধ্যমকে এড়িয়ে গিয়ে বলেন, ‘আপনি আমার সামনে এসে বক্তব্য নিয়ে যান।’

আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস:

অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রসুল সামদানি আজাদ বলেন, ‘ভুক্তভোগী প্রথমে মৌখিক এবং পরে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার ছবি ও ভিডিও চিত্র আমরা নিখুঁতভাবে যাচাই করছি। অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এদিকে সামান্য বিরোধের জেরে প্রকাশ্যে একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর ওপর এমন বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার সচেতন মহল ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।