ফরিদপুরে দালালি: এনসিপি নেতা আটকের পর রাজনৈতিক চাপ, ১ বছরের জেল
- আপডেট সময় : ১০:৪৫:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
- / 308
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা ভূমি অফিসে দালালির অভিযোগে মো. মিলন (২৯) নামে এক এনসিপি নেতাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। তবে এই আদালতের কার্যক্রম চলাকালেই অভিযুক্তকে ছাড়িয়ে নিতে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার ও খোদ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে ফোন করে তদবির করার এক বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে।
সাজা পাওয়া মিলন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আলফাডাঙ্গা উপজেলা আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব এবং আলফাডাঙ্গা পৌরসভার কুসুমদী গ্রামের বাসিন্দা। বুধবার (১ জুলাই) সন্ধ্যায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ কে এম রায়হানুর রহমান সাজা প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সতর্কবার্তা উপেক্ষা ও সাধারণ মানুষকে হয়রানি
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মিলন দীর্ঘদিন ধরে আলফাডাঙ্গা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের বাইরে একটি কম্পিউটারের দোকান খুলে বসেছিলেন। সেই দোকানের আড়ালে তিনি ভূমি অফিসের নামজারি, খাজনা ও বিবিধ কাজ দ্রুত করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিতেন।
দালালির উদ্দেশ্যে তিনি নিয়মিত উপজেলা ও পৌর ভূমি অফিসে ঘোরাঘুরি করতেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এর আগে তাকে একাধিকবার মৌখিকভাবে সতর্ক করা হলেও তিনি তা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে নিজের দালালি সিন্ডিকেট চালিয়ে যান। অবশেষে মঙ্গলবার বিকেলে তার প্রতিষ্ঠানে আকস্মিক অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত।
ম্যাজিস্ট্রেটকে ফোন: “ঠিক আছে, এমপি স্যারকে বলি”
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান ও সাজা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলাকালেই উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক আব্দুল জলিল নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে ফোন করেন। ফোনে তিনি বলেন, “মিলন আমাদের দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক। তাকে একবার শুধরে নেওয়ার সুযোগ দিন।” কিন্তু নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আইনের বাধ্যবাধকতার কথা জানিয়ে তদবির প্রত্যাখ্যান করেন।
ফোনালাপের গুঞ্জন: ম্যাজিস্ট্রেটের কঠোর অবস্থানের পর রাজনৈতিক নেতা আব্দুল জলিলকে ক্ষুব্ধ সুরে বলতে শোনা যায়, ‘ঠিক আছে, এমপি স্যারকে বলি।’ তার এই মন্তব্যটি অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও কর্মকর্তাদের মাঝে তীব্র চাঞ্চল্য ও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। অবশ্য পরবর্তীতে আব্দুল জলিল এই তদবিরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
অপরাধ স্বীকার ও বিচারকের বক্তব্য
অভিযানের সময় মিলন নিজের অপরাধের কথা আদালতের কাছে স্বীকার করেন। একই সাথে তার কম্পিউটার দোকানে সেবামূল্যের কোনো তালিকা না থাকায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৩৯ ধারায় তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
আলফাডাঙ্গা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ কে এম রায়হানুর রহমান বলেন, “অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন। তার দালালির বিরুদ্ধে আমাদের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য ও ভিডিও ফুটেজ রয়েছে। আইন অনুযায়ী তাকে সাজা দেওয়া হয়েছে। তবে এই ঘটনার পর থেকে বিভিন্ন মহল থেকে আমাকে নানাভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছে।”



















