ফরিদপুরে ৫ শিক্ষককে ‘ডাকাত’ সাজিয়ে মামলা
- আপডেট সময় : ০৬:২৮:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
- / 97
শিক্ষাগুরুর গলায় চোর-ডাকাতের তকমা! তাও আবার খোদ বিদ্যাপীঠের প্রাক্তন প্রধানের হাত ধরে। ফরিদপুরের বোয়ালমারীর কাজী সিরাজুল ইসলাম মহিলা কলেজে এবার এমনই এক নজিরবিহীন ও বিস্ফোরককাণ্ড ঘটে গেল। ৫ জন শিক্ষক এবং ২ জন কর্মচারীর বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা’ চুরি ও ডাকাতির মামলা ঠুকে দেওয়ার অভিযোগে ফুঁসে উঠেছে গোটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। অন্যায়ের প্রতিবাদে এবং সহকর্মীদের সম্মান রক্ষায় এবার ক্লাসরুম ছেড়ে রাজপথে নামতে বাধ্য হলেন শিক্ষক, কর্মচারী ও সাধারণ ছাত্রীরা।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে কলেজের সামনের প্রধান সড়কে এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। প্ল্যাকার্ড হাতে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে ছাত্রীরা স্লোগান তোলেন এক ‘দলছুট’ ও বহিষ্কৃত অধ্যক্ষের প্রতিহিংসার বিরুদ্ধে।
নেপথ্যে বহিষ্কৃত অধ্যক্ষের ‘প্রতিহিংসা’
যাঁদের হাত ধরে হাজারো ছাত্রী আলোর দিশা পায়, তাঁদের রাতারাতি কীভাবে চোর-ডাকাত সাজানো হলো? কলেজের বর্তমান প্রশাসন ও শিক্ষকদের দাবি, এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার নেপথ্যে রয়েছেন কলেজেরই অনিয়ম ও দুর্নীতির দায়ে সাময়িক বহিষ্কৃত সাবেক অধ্যক্ষ মোঃ ফরিদ আহমেদ।
মানববন্ধন চলাকালীন ক্ষোভ উগরে দিয়ে কলেজের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. হোসনেয়ারা বেগম বলেন, “দুর্নীতির দায়ে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া ফ্যাসিবাদের দোসর এই ফরিদ আহমেদ এখন প্রতিহিংসার আগুনে জ্বলছেন। তিনি কলেজের নির্দোষ শিক্ষক-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করে তাঁদের হেনস্থা করছেন। এর ফলে কলেজের শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।”
‘গোপালগঞ্জের দাপট’ ও তহবিলের টাকা নয়ছয়!
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বক্তব্যে উঠে এসেছে বিগত আমলের ক্ষমতার অপব্যবহারের চাঞ্চল্যকর সব খতিয়ান। তিনি অভিযোগ করেন, বিগত আওয়ামী শাসনামলে এই ফরিদ আহমেদ নিজের জেলা গোপালগঞ্জের দাপট দেখাতেন। নিষিদ্ধ ঘোষিত দল আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কলেজে একচ্ছত্র একনায়কতন্ত্র কায়েম করেছিলেন তিনি।
দলীয় কর্মসূচিতে বাধ্য করা হতো ছাত্রীদের
ড. হোসনেয়ারা আরও অভিযোগ করেন, “কলেজের নিজস্ব তহবিলের অর্থ নিয়ম-বহির্ভূতভাবে তুলে তিনি আওয়ামী লীগের বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় অনুষ্ঠানে খরচ করতেন। এমনকি শিক্ষক ও ছাত্রীদের সেইসব রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে বাধ্য করা হতো।” এই বিপুল আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রমাণিত হওয়ার পরেই তাঁকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। কিছুদিন আত্মগোপনে থাকার পর, পরিস্থিতি শান্ত হতেই তিনি ফিরে এসে এই ‘মিথ্যা মামলার খেলা’ শুরু করেছেন।
মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন কলেজের প্রভাষক সৈয়দা দিল আশরাফি, সহযোগী অধ্যাপক মোঃ আ: মান্নান এবং আজাহার আলীসহ আরও অনেকে। বক্তাদের একটাই দাবি— অবিলম্বে শিক্ষকদের ওপর থেকে এই কাল্পনিক ও হয়রানিমূলক ডাকাতি মামলা প্রত্যাহার করতে হবে এবং দুর্নীতিবাজ প্রাক্তন অধ্যক্ষকে আইনের আওতায় আনতে হবে।
আইন আর আক্রোশের এই নোংরা লড়াইয়ে বোয়ালমারীর এই ঐতিহ্যবাহী নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ যাতে খাদের কিনারে না চলে যায়, এখন সেই দিকেই তাকিয়ে আছেন ফরিদপুরের সচেতন মহল।



















