ঢাকা ১০:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে কালেমা খচিত সাদা পতাকার বিশাল মিছিল

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৬:২৯:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
  • / 70

দেশের চলমান ধর্মীয় ও সামাজিক আবহের মাঝেই এক অনন্য ও সুশৃঙ্খল ধর্মীয় সমাবেশের সাক্ষী থাকল ফরিদপুরের সদরপুর। কোনো রাজনৈতিক রঙ নয়, কোনো উগ্রতা নয়—নিছকই হৃদয়ের গভীর বিশ্বাস আর ইসলামী চেতনাকে উজ্জীবিত করতে রাজপথে নামলেন হাজারো ধর্মপ্রাণ মানুষ। হাতে কালেমা খচিত শুভ্র সাদা পতাকা, মুখে ধর্মীয় স্লোগান। ইসলামের মূল বাণীকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরে এই মিছিল যেমন একতার বার্তা দিল, তেমনই দেশের মাটিতে কালিমার অবমাননা নিয়ে নিজেদের তীব্র ক্ষোভ ও হুঁশিয়ারিও স্পষ্ট করে দিল সদরপুরের মুসলিম জনতা।

শুক্রবার (৩ জুলাই) জুমার নামাজ শেষে দুপুর আড়াইটার দিকে ‘সদরপুর সর্বস্তরের মুসলিম জনতা’র ব্যানারে এই ব্যতিক্রমী কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়।

বিশ্বজাকের মঞ্জিল মাঠ থেকে সদর বাজার: রাজপথে শুভ্রতার ঢল

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরের তীব্র রোদ উপেক্ষা করে উপজেলা সদরের ঐতিহাসিক বিশ্বজাকের মঞ্জিল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন বয়সী ধর্মপ্রাণ মানুষ। সেখান থেকেই শুরু হয় মূল মিছিলটি। সাদা পতাকার সেই দীর্ঘ মিছিলটি সদর বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করার সময় এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা হয়। পুরো বাজার এলাকা যেন এক শান্ত অথচ দৃঢ় ধর্মীয় আবেগে ভেসে যায়। পরবর্তীতে মিছিলটি উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে শেষ হয় এবং ভবনের সামনেই একটি সংক্ষিপ্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়।

‘কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়, লক্ষ্য শুধু ইসলামের মূল শিক্ষা’

উপজেলা পরিষদ ভবনের সামনে আয়োজিত সভায় স্পষ্ট ও কড়া বার্তা দেন বিশিষ্ট আলেমরা। সভার প্রধান বক্তা তথা উপজেলা পরিষদের পেশ ইমাম মাওলানা আমির হোসেন তাঁর বক্তব্যে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় পবিত্র কালিমার পতাকার অবমাননা লক্ষ্য করা গেছে। আমরা খুব স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিতে চাই, কোনোভাবেই এই কালিমার পতাকার অবমাননা বাংলার মুসলমান বরদাস্ত করবে না।”

আয়োজকদের বার্তা

কর্মসূচির মূল আয়োজক মুফতি মোহাম্মদ জাকির হুসাইন ফরিদী অবশ্য পুরো বিষয়টিকেই একটি ইতিবাচক সংস্কার হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “এই আয়োজনের উদ্দেশ্য কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া নয়। মানুষের মধ্যে ইসলামের মৌলিক শিক্ষা, প্রকৃত ধর্মীয় মূল্যবোধ ও কালেমার আসল গুরুত্ব তুলে ধরাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। আমরা বিশ্বাস করি, এ ধরনের উদ্যোগ সাধারণ মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসকে আরও পরিশুদ্ধ ও উজ্জীবিত করবে।”

কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ছাড়াই অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে এই বিশাল সমাবেশ শেষ হওয়ায় স্বস্তিতে স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ নাগরিক মহল। রাজনৈতিক অস্থিরতার ঊর্ধ্বে উঠে কেবলই বিশ্বাসের টানে সাধারণ মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ মফস্বলের ধর্মীয় আবেগকে আরও একবার নতুন করে চিনিয়ে দিল।

ফরিদপুরে কালেমা খচিত সাদা পতাকার বিশাল মিছিল

আপডেট সময় : ০৬:২৯:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

দেশের চলমান ধর্মীয় ও সামাজিক আবহের মাঝেই এক অনন্য ও সুশৃঙ্খল ধর্মীয় সমাবেশের সাক্ষী থাকল ফরিদপুরের সদরপুর। কোনো রাজনৈতিক রঙ নয়, কোনো উগ্রতা নয়—নিছকই হৃদয়ের গভীর বিশ্বাস আর ইসলামী চেতনাকে উজ্জীবিত করতে রাজপথে নামলেন হাজারো ধর্মপ্রাণ মানুষ। হাতে কালেমা খচিত শুভ্র সাদা পতাকা, মুখে ধর্মীয় স্লোগান। ইসলামের মূল বাণীকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরে এই মিছিল যেমন একতার বার্তা দিল, তেমনই দেশের মাটিতে কালিমার অবমাননা নিয়ে নিজেদের তীব্র ক্ষোভ ও হুঁশিয়ারিও স্পষ্ট করে দিল সদরপুরের মুসলিম জনতা।

শুক্রবার (৩ জুলাই) জুমার নামাজ শেষে দুপুর আড়াইটার দিকে ‘সদরপুর সর্বস্তরের মুসলিম জনতা’র ব্যানারে এই ব্যতিক্রমী কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়।

বিশ্বজাকের মঞ্জিল মাঠ থেকে সদর বাজার: রাজপথে শুভ্রতার ঢল

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরের তীব্র রোদ উপেক্ষা করে উপজেলা সদরের ঐতিহাসিক বিশ্বজাকের মঞ্জিল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন বয়সী ধর্মপ্রাণ মানুষ। সেখান থেকেই শুরু হয় মূল মিছিলটি। সাদা পতাকার সেই দীর্ঘ মিছিলটি সদর বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করার সময় এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা হয়। পুরো বাজার এলাকা যেন এক শান্ত অথচ দৃঢ় ধর্মীয় আবেগে ভেসে যায়। পরবর্তীতে মিছিলটি উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে শেষ হয় এবং ভবনের সামনেই একটি সংক্ষিপ্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়।

‘কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়, লক্ষ্য শুধু ইসলামের মূল শিক্ষা’

উপজেলা পরিষদ ভবনের সামনে আয়োজিত সভায় স্পষ্ট ও কড়া বার্তা দেন বিশিষ্ট আলেমরা। সভার প্রধান বক্তা তথা উপজেলা পরিষদের পেশ ইমাম মাওলানা আমির হোসেন তাঁর বক্তব্যে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় পবিত্র কালিমার পতাকার অবমাননা লক্ষ্য করা গেছে। আমরা খুব স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিতে চাই, কোনোভাবেই এই কালিমার পতাকার অবমাননা বাংলার মুসলমান বরদাস্ত করবে না।”

আয়োজকদের বার্তা

কর্মসূচির মূল আয়োজক মুফতি মোহাম্মদ জাকির হুসাইন ফরিদী অবশ্য পুরো বিষয়টিকেই একটি ইতিবাচক সংস্কার হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “এই আয়োজনের উদ্দেশ্য কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া নয়। মানুষের মধ্যে ইসলামের মৌলিক শিক্ষা, প্রকৃত ধর্মীয় মূল্যবোধ ও কালেমার আসল গুরুত্ব তুলে ধরাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। আমরা বিশ্বাস করি, এ ধরনের উদ্যোগ সাধারণ মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসকে আরও পরিশুদ্ধ ও উজ্জীবিত করবে।”

কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ছাড়াই অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে এই বিশাল সমাবেশ শেষ হওয়ায় স্বস্তিতে স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ নাগরিক মহল। রাজনৈতিক অস্থিরতার ঊর্ধ্বে উঠে কেবলই বিশ্বাসের টানে সাধারণ মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ মফস্বলের ধর্মীয় আবেগকে আরও একবার নতুন করে চিনিয়ে দিল।