ঢাকা ১০:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে নীল-সাদার জোয়ার: মেসির সমর্থনে রাজপথে শত শত বাইক

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৭:৩০:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
  • / 73

লাতিন আমেরিকার ফুটবলীয় জাদুতে আরও একবার বুঁদ হতে চলেছে বাঙালি। ভোর চারটের কনকনে ঠাণ্ডা কিংবা ঘুম জড়ানো চোখ—ফুটবল-পাগল এই জনপদের উন্মাদনার কাছে যে কোনো বাধাই টিকতে পারে না, তা আরও একবার প্রমাণ করল ফরিদপুর। নীল-সাদা জার্সি, হাতে আকাশী-সাদা পতাকা, আর মুখে শুধুই ‘মেসি মেসি’ গর্জন। আসন্ন মহাযুদ্ধের আগে প্রিয় দলের সমর্থনে রাজপথে কার্যত সুনামি বইয়ে দিল শত শত আর্জেন্টিনা সমর্থক। যেন ফরিদপুরের বুক চিরে এক টুকরো বুয়েনস আইরেস নেমে এসেছে বাংলার মাটিতে।

শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেল ৪টায় শহরের ঐতিহ্যবাহী সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের সামনে থেকে ‘আর্জেন্টিনা সমর্থক গোষ্ঠী’র উদ্যোগে বের করা হয় এই মেগা শোভাযাত্রা।

রাজেন্দ্র কলেজ থেকে রাজপথ: শ’য়ে শ’য়ে বাইকের নীল-সাদা মিছিল

ফুটবলকে ঘিরে বাঙালির এই চিরকালীন আবেগ নতুন কিছু নয়, তবে শুক্রবারের আয়োজন যেন সবকিছুকে ছাড়িয়ে গেল। শতাধিক মোটরসাইকেল আর সারিবদ্ধ প্রাইভেটকারের এক বিশাল বহর যখন রাজেন্দ্র কলেজের সামনে থেকে স্টার্ট নিলো, মুহূর্তেই বদলে গেল চেনা শহরের চেহারা।

ছোট থেকে বুড়ো—সবার গায়েই শোভা পাচ্ছিল তিন তারকার সেই বিখ্যাত জার্সি। হর্ন আর স্লোগানের যুগলবন্দীতে মুখরিত হয়ে উঠল শহরের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। গত বিশ্বকাপের সেই সোনাঝরা সোনালী ট্রফি জয়ের সোনালী স্মৃতি বুকে নিয়েই সমর্থকদের এই স্বতঃস্ফূর্ত পথচলা।

হারলেও আর্জেন্টিনা, জিতলেও আর্জেন্টিনা’

মিছিলে অংশ নেওয়া সমর্থকদের চোখ জুড়ে এখন কেবলই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন। ফুটবলীয় এই উন্মাদনা নিয়ে আর্জেন্টিনা সমর্থক সানি যুবায়ের নিজের আবেগ ধরে রাখতে না পেরে বলেন, “আমরা সব ফুটবল দলকে সম্মান করি। তবে আর্জেন্টিনা সমর্থকেরা বরাবরই একটু বেশি ভদ্র ও রুচিশীল হয়। ভোর চারটায় খেলা অনুষ্ঠিত হবে, তাও আমাদের এই উন্মাদনা থামবে না। ছোটবেলা থেকেই নীল-সাদার ভক্ত। সোজা কথা—হারলেও আর্জেন্টিনা, জিতলেও আর্জেন্টিনা।”

চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের ফাইনাল দেখার খাহেশ

শোভাযাত্রার অন্যতম প্রধান আয়োজক আরেফিন মাহমুদ কায়েস ইতিমধ্যেই কষে ফেলেছেন আগামীর সমীকরণ। তিনি বলেন, “এবারও আর্জেন্টিনা শিরোপা জিতবে, এটাই আমাদের একমাত্র প্রত্যাশা। তবে আমরা চাই ফাইনালে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হিসেবে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের মধ্যকার একটি ব্লকবাস্টার ম্যাচ হোক। ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয় লড়াই তো এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলেরই ফাইনাল!”

ভোররাতের সেই মহারণের আগে ফরিদপুরের রাজপথের এই নীল-সাদা মহড়া যেন জানান দিয়ে গেল—লাতিন ফুটবলের রাজপুত্রদের জন্য বাংলার এই প্রান্তিক শহরের হৃদয় কতটা জুড়ে আছে। এখন দেখার, মাঠের লড়াইতে প্রিয় দল ভক্তদের এই আকাশচুম্বী প্রত্যাশা কতটা পূরণ করতে পারে।

ফরিদপুরে নীল-সাদার জোয়ার: মেসির সমর্থনে রাজপথে শত শত বাইক

আপডেট সময় : ০৭:৩০:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

লাতিন আমেরিকার ফুটবলীয় জাদুতে আরও একবার বুঁদ হতে চলেছে বাঙালি। ভোর চারটের কনকনে ঠাণ্ডা কিংবা ঘুম জড়ানো চোখ—ফুটবল-পাগল এই জনপদের উন্মাদনার কাছে যে কোনো বাধাই টিকতে পারে না, তা আরও একবার প্রমাণ করল ফরিদপুর। নীল-সাদা জার্সি, হাতে আকাশী-সাদা পতাকা, আর মুখে শুধুই ‘মেসি মেসি’ গর্জন। আসন্ন মহাযুদ্ধের আগে প্রিয় দলের সমর্থনে রাজপথে কার্যত সুনামি বইয়ে দিল শত শত আর্জেন্টিনা সমর্থক। যেন ফরিদপুরের বুক চিরে এক টুকরো বুয়েনস আইরেস নেমে এসেছে বাংলার মাটিতে।

শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেল ৪টায় শহরের ঐতিহ্যবাহী সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের সামনে থেকে ‘আর্জেন্টিনা সমর্থক গোষ্ঠী’র উদ্যোগে বের করা হয় এই মেগা শোভাযাত্রা।

রাজেন্দ্র কলেজ থেকে রাজপথ: শ’য়ে শ’য়ে বাইকের নীল-সাদা মিছিল

ফুটবলকে ঘিরে বাঙালির এই চিরকালীন আবেগ নতুন কিছু নয়, তবে শুক্রবারের আয়োজন যেন সবকিছুকে ছাড়িয়ে গেল। শতাধিক মোটরসাইকেল আর সারিবদ্ধ প্রাইভেটকারের এক বিশাল বহর যখন রাজেন্দ্র কলেজের সামনে থেকে স্টার্ট নিলো, মুহূর্তেই বদলে গেল চেনা শহরের চেহারা।

ছোট থেকে বুড়ো—সবার গায়েই শোভা পাচ্ছিল তিন তারকার সেই বিখ্যাত জার্সি। হর্ন আর স্লোগানের যুগলবন্দীতে মুখরিত হয়ে উঠল শহরের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। গত বিশ্বকাপের সেই সোনাঝরা সোনালী ট্রফি জয়ের সোনালী স্মৃতি বুকে নিয়েই সমর্থকদের এই স্বতঃস্ফূর্ত পথচলা।

হারলেও আর্জেন্টিনা, জিতলেও আর্জেন্টিনা’

মিছিলে অংশ নেওয়া সমর্থকদের চোখ জুড়ে এখন কেবলই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন। ফুটবলীয় এই উন্মাদনা নিয়ে আর্জেন্টিনা সমর্থক সানি যুবায়ের নিজের আবেগ ধরে রাখতে না পেরে বলেন, “আমরা সব ফুটবল দলকে সম্মান করি। তবে আর্জেন্টিনা সমর্থকেরা বরাবরই একটু বেশি ভদ্র ও রুচিশীল হয়। ভোর চারটায় খেলা অনুষ্ঠিত হবে, তাও আমাদের এই উন্মাদনা থামবে না। ছোটবেলা থেকেই নীল-সাদার ভক্ত। সোজা কথা—হারলেও আর্জেন্টিনা, জিতলেও আর্জেন্টিনা।”

চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের ফাইনাল দেখার খাহেশ

শোভাযাত্রার অন্যতম প্রধান আয়োজক আরেফিন মাহমুদ কায়েস ইতিমধ্যেই কষে ফেলেছেন আগামীর সমীকরণ। তিনি বলেন, “এবারও আর্জেন্টিনা শিরোপা জিতবে, এটাই আমাদের একমাত্র প্রত্যাশা। তবে আমরা চাই ফাইনালে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হিসেবে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের মধ্যকার একটি ব্লকবাস্টার ম্যাচ হোক। ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয় লড়াই তো এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলেরই ফাইনাল!”

ভোররাতের সেই মহারণের আগে ফরিদপুরের রাজপথের এই নীল-সাদা মহড়া যেন জানান দিয়ে গেল—লাতিন ফুটবলের রাজপুত্রদের জন্য বাংলার এই প্রান্তিক শহরের হৃদয় কতটা জুড়ে আছে। এখন দেখার, মাঠের লড়াইতে প্রিয় দল ভক্তদের এই আকাশচুম্বী প্রত্যাশা কতটা পূরণ করতে পারে।