ঢাকা ০৯:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘স্বপ্নে জীবিত’ থাকার দাবি: দাফনের ১৮ দিন পর তরুণীর কবর খুঁড়লেন স্বজনরা

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৭:২৪:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
  • / 86

ভোলার সদর উপজেলায় দাফন করার দীর্ঘ ১৮ দিন পর মরিয়ম (২০) নামের এক তরুণীর কবর খুঁড়েছেন তাঁর নিজের স্বজনরা। স্বজনদের দাবি, ওই তরুণী স্বপ্নে নিজেকে কবরের ভেতর জীবিত আছেন বলে জানিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে উপজেলার ভেলুমিয়া ইউনিয়নের চর রমেশ গ্রামে এই অদ্ভুত ও চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো জেলাজুড়ে ব্যাপক কৌতুহল ও আলোড়নের সৃষ্টি হয়েছে।

মৃত মরিয়ম চর রমেশ গ্রামের দিনমজুর খলিল লাহারির মেয়ে। তিনি চট্টগ্রামে একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন।

ছুটিতে এসে মৃত্যু ও সুগন্ধির গুজব:

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ জুলাই ঈদুল আজহার ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে আসার পর মরিয়ম গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। চিকিৎসা চলাকালীন গত ২৮ জুন ঈদের দিন ভোরে তিনি মারা যান। ওই দিনই পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।

দাফনের ১৫ দিন পর হঠাৎ এলাকায় গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, মরিয়মের কবর থেকে অলৌকিক সুগন্ধি বের হচ্ছে। এর কিছুদিন পর মরিয়মের এক ভাই ও এক বোন রাতে স্বপ্নে দেখেন যে, মরিয়ম কবরের ভেতর জীবিত আছেন এবং তাকে যেন দ্রুত উদ্ধার করা হয়। এই স্বপ্নের কথা জানাজানি হলে প্রতিদিন শত শত উৎসুক মানুষ কবরটি দেখতে ভিড় জমাতে শুরু করেন।

আলেম ও পুলিশের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা:

বিষয়টি নিয়ে পরিবার স্থানীয় আলেম-ওলামাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাঁরা এটিকে সম্পূর্ণ অবাস্তব বলে উড়িয়ে দেন এবং বিভ্রান্ত না হওয়ার পরামর্শ দেন। স্থানীয় মসজিদের ইমাম আবুল কাশেম বলেন, “আমি নিজেই মরিয়মের জানাজা পড়িয়েছি। ইসলামে দাফনের পর এভাবে বিনা কারণে কবর খোঁড়ার কোনো সুযোগ নেই।”

অন্যদিকে ভোলা সদর মডেল থানার পুলিশও পরিবারটিকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল যে, আইন অনুযায়ী কবর খুঁড়তে হলে আদালতের পূর্বানুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। তবে সব আইনি ও ধর্মীয় পরামর্শ উপেক্ষা করে গতকাল বিকেলে প্রায় দুই শতাধিক মানুষের উপস্থিতিতে কোদাল নিয়ে কবরটি খুঁড়ে ফেলেন স্বজনরা।

কবর খোঁড়ার পর ভুল ভাঙল স্বজনদের:

কবর খোঁড়ার কাজে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দা মো. কালু জানান, স্বজনদের মনের তীব্র সন্দেহ ও আকুলতা দূর করার জন্যই মূলত কবরটি খোঁড়া হয়েছিল। তবে কবর খোঁড়ার পর সেখানে মৃতদেহের স্বাভাবিক অবক্ষয়ের অবস্থা দেখে স্বজনদের সেই অলৌকিক বিভ্রান্তি ও ভুল ভেঙে যায়।

ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম জানান, আইন না মেনে কবর খোঁড়ার এই বিষয়টি পুলিশকে আগে জানানো হয়নি, তবে ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

‘স্বপ্নে জীবিত’ থাকার দাবি: দাফনের ১৮ দিন পর তরুণীর কবর খুঁড়লেন স্বজনরা

আপডেট সময় : ০৭:২৪:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

ভোলার সদর উপজেলায় দাফন করার দীর্ঘ ১৮ দিন পর মরিয়ম (২০) নামের এক তরুণীর কবর খুঁড়েছেন তাঁর নিজের স্বজনরা। স্বজনদের দাবি, ওই তরুণী স্বপ্নে নিজেকে কবরের ভেতর জীবিত আছেন বলে জানিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে উপজেলার ভেলুমিয়া ইউনিয়নের চর রমেশ গ্রামে এই অদ্ভুত ও চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো জেলাজুড়ে ব্যাপক কৌতুহল ও আলোড়নের সৃষ্টি হয়েছে।

মৃত মরিয়ম চর রমেশ গ্রামের দিনমজুর খলিল লাহারির মেয়ে। তিনি চট্টগ্রামে একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন।

ছুটিতে এসে মৃত্যু ও সুগন্ধির গুজব:

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ জুলাই ঈদুল আজহার ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে আসার পর মরিয়ম গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। চিকিৎসা চলাকালীন গত ২৮ জুন ঈদের দিন ভোরে তিনি মারা যান। ওই দিনই পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।

দাফনের ১৫ দিন পর হঠাৎ এলাকায় গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, মরিয়মের কবর থেকে অলৌকিক সুগন্ধি বের হচ্ছে। এর কিছুদিন পর মরিয়মের এক ভাই ও এক বোন রাতে স্বপ্নে দেখেন যে, মরিয়ম কবরের ভেতর জীবিত আছেন এবং তাকে যেন দ্রুত উদ্ধার করা হয়। এই স্বপ্নের কথা জানাজানি হলে প্রতিদিন শত শত উৎসুক মানুষ কবরটি দেখতে ভিড় জমাতে শুরু করেন।

আলেম ও পুলিশের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা:

বিষয়টি নিয়ে পরিবার স্থানীয় আলেম-ওলামাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাঁরা এটিকে সম্পূর্ণ অবাস্তব বলে উড়িয়ে দেন এবং বিভ্রান্ত না হওয়ার পরামর্শ দেন। স্থানীয় মসজিদের ইমাম আবুল কাশেম বলেন, “আমি নিজেই মরিয়মের জানাজা পড়িয়েছি। ইসলামে দাফনের পর এভাবে বিনা কারণে কবর খোঁড়ার কোনো সুযোগ নেই।”

অন্যদিকে ভোলা সদর মডেল থানার পুলিশও পরিবারটিকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল যে, আইন অনুযায়ী কবর খুঁড়তে হলে আদালতের পূর্বানুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। তবে সব আইনি ও ধর্মীয় পরামর্শ উপেক্ষা করে গতকাল বিকেলে প্রায় দুই শতাধিক মানুষের উপস্থিতিতে কোদাল নিয়ে কবরটি খুঁড়ে ফেলেন স্বজনরা।

কবর খোঁড়ার পর ভুল ভাঙল স্বজনদের:

কবর খোঁড়ার কাজে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দা মো. কালু জানান, স্বজনদের মনের তীব্র সন্দেহ ও আকুলতা দূর করার জন্যই মূলত কবরটি খোঁড়া হয়েছিল। তবে কবর খোঁড়ার পর সেখানে মৃতদেহের স্বাভাবিক অবক্ষয়ের অবস্থা দেখে স্বজনদের সেই অলৌকিক বিভ্রান্তি ও ভুল ভেঙে যায়।

ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম জানান, আইন না মেনে কবর খোঁড়ার এই বিষয়টি পুলিশকে আগে জানানো হয়নি, তবে ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।