ঢাকা ০২:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুবাইয়ে ধরা বেনজীর, তল্লাশিতেই মিলল ছদ্মবেশের ‘গুপ্তধন’?

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৪:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
  • / 61

তিনি আইনরক্ষক ছিলেন, নাকি নিজেই আইনের চোখে ধুলো দেওয়ার এক মায়াজাল বুনেছিলেন? বাংলাদেশের প্রাক্তন পুলিশপ্রধান (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের দুবাইয়ে গ্রেফতারির পর এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে আন্তর্জাতিক অলিন্দে。 মরুশহরে খাঁচাবন্দি হতেই খসে পড়ল তাঁর চেনা অবয়ব, আর তার নিচ থেকে বেরিয়ে এল ছদ্মবেশের এক হরেক কারবার!

রবিবার (১৪ জুন) দুবাইয়ের এক অতি বিশ্বস্ত কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, গ্রেফতারের পর তল্লাশি চালাতেই বেনজীর আহমেদের পকেট থেকে মিলেছে একাধিক দেশের গোপন পাসপোর্ট! ঢাকার পাসপোর্টের পাশাপাশি তাঁর কাছে পাওয়া গিয়েছে ইউরোপের দেশ পর্তুগালের বৈধ পাসপোর্ট。 শুধু তাই নয়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের বুকে দীর্ঘকাল আস্তানা গেড়ে থাকার জন্য তাঁর কাছে ছিল বিশেষ ‘রেসিডেন্স পারমিট’ বা বসবাসের অনুমতিপত্রও。 অর্থাৎ, বিপদে পড়লে কোন ডানায় ভর করে কোন আকাশে উড়াল দিতে হবে, তার সব বন্দোবস্তই আগেভাগে পাকা করে রেখেছিলেন এই প্রাক্তন শীর্ষ পুলিশকর্তা。

ইন্টারপোলের জাল এবং বেনজীরের পতন:

একটা সময় যাঁর প্রতাপে বাঘে-মহিষে এক ঘাটে জল খেত, তাঁর এই পতন কিন্তু আকস্মিক নয়。 দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা এক মেগা মামলার জেরে বিগত ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসেই বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ‘রেড নোটিশ’ জারি করেছিল ইন্টারপোল。 সেই আন্তর্জাতিক পরোয়ানা মাথায় নিয়েই ছদ্মবেশে ঘুরছিলেন তিনি。 কিন্তু গত ১২ জুন দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পা রাখামাত্রই নিয়তির ফেরে তিনি আটকে যান দুবাই পুলিশের জালে。 আপাতত মরুশহরের এক গোপন প্রকোষ্ঠে রেখে তাঁকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে。

ঢাকার সদর দপ্তরে রুদ্ধশ্বাস চিঠি:

রবিবার সকাল থেকেই ঢাকার সংবাদমাধ্যমে বেনজীরের গ্রেফতারির খবর চাউর হতেই শোরগোল পড়ে যায়。 পুলিশ সদর দপ্তরের দুই অতিরিক্ত আইজিপি এবং পদস্থ কর্তারা ঘরোয়া আলোচনায় গ্রেফতারির খবরটি কবুল করলেও, স্পর্শকাতর এই আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চাননি কেউ。

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শীর্ষ কর্তা কেবল এটুকু জানিয়েছেন, “১২ জুন দুবাই ইন্টারপোল শাখা থেকে একটি বিশেষ লাল চিঠি এসেছে ঢাকা পুলিশের সদর দপ্তরে。 সেখানেই সরকারিভাবে বেনজীরের গ্রেফতারির খবর জানানো হয়েছে।”

এবার ঘরের ছেলেকে ঘরে ফেরানোর পালা:

প্রাক্তন আইজিপির এই ‘পর্তুগিজ’ ও ‘আমিরাতি’ রূপ প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে ঢাকা。 ইন্টারপোলের পরোয়ানায় ধরা পড়া এই হাই-প্রোফাইল আসামিকে কীভাবে দ্রুত নিজেদের হেফাজতে ফিরিয়ে আনা যায়, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই স্বরাষ্ট্র এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রুদ্ধশ্বাস বৈঠক শুরু হয়েছে。 আইন ভাঙার কারিগরের নিজের দেশে ফেরার প্রহর এবার গোনা শুরু হলো বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল。

দুবাইয়ে ধরা বেনজীর, তল্লাশিতেই মিলল ছদ্মবেশের ‘গুপ্তধন’?

আপডেট সময় : ০৫:৫৪:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

তিনি আইনরক্ষক ছিলেন, নাকি নিজেই আইনের চোখে ধুলো দেওয়ার এক মায়াজাল বুনেছিলেন? বাংলাদেশের প্রাক্তন পুলিশপ্রধান (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের দুবাইয়ে গ্রেফতারির পর এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে আন্তর্জাতিক অলিন্দে。 মরুশহরে খাঁচাবন্দি হতেই খসে পড়ল তাঁর চেনা অবয়ব, আর তার নিচ থেকে বেরিয়ে এল ছদ্মবেশের এক হরেক কারবার!

রবিবার (১৪ জুন) দুবাইয়ের এক অতি বিশ্বস্ত কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, গ্রেফতারের পর তল্লাশি চালাতেই বেনজীর আহমেদের পকেট থেকে মিলেছে একাধিক দেশের গোপন পাসপোর্ট! ঢাকার পাসপোর্টের পাশাপাশি তাঁর কাছে পাওয়া গিয়েছে ইউরোপের দেশ পর্তুগালের বৈধ পাসপোর্ট。 শুধু তাই নয়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের বুকে দীর্ঘকাল আস্তানা গেড়ে থাকার জন্য তাঁর কাছে ছিল বিশেষ ‘রেসিডেন্স পারমিট’ বা বসবাসের অনুমতিপত্রও。 অর্থাৎ, বিপদে পড়লে কোন ডানায় ভর করে কোন আকাশে উড়াল দিতে হবে, তার সব বন্দোবস্তই আগেভাগে পাকা করে রেখেছিলেন এই প্রাক্তন শীর্ষ পুলিশকর্তা。

ইন্টারপোলের জাল এবং বেনজীরের পতন:

একটা সময় যাঁর প্রতাপে বাঘে-মহিষে এক ঘাটে জল খেত, তাঁর এই পতন কিন্তু আকস্মিক নয়。 দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা এক মেগা মামলার জেরে বিগত ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসেই বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ‘রেড নোটিশ’ জারি করেছিল ইন্টারপোল。 সেই আন্তর্জাতিক পরোয়ানা মাথায় নিয়েই ছদ্মবেশে ঘুরছিলেন তিনি。 কিন্তু গত ১২ জুন দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পা রাখামাত্রই নিয়তির ফেরে তিনি আটকে যান দুবাই পুলিশের জালে。 আপাতত মরুশহরের এক গোপন প্রকোষ্ঠে রেখে তাঁকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে。

ঢাকার সদর দপ্তরে রুদ্ধশ্বাস চিঠি:

রবিবার সকাল থেকেই ঢাকার সংবাদমাধ্যমে বেনজীরের গ্রেফতারির খবর চাউর হতেই শোরগোল পড়ে যায়。 পুলিশ সদর দপ্তরের দুই অতিরিক্ত আইজিপি এবং পদস্থ কর্তারা ঘরোয়া আলোচনায় গ্রেফতারির খবরটি কবুল করলেও, স্পর্শকাতর এই আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চাননি কেউ。

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শীর্ষ কর্তা কেবল এটুকু জানিয়েছেন, “১২ জুন দুবাই ইন্টারপোল শাখা থেকে একটি বিশেষ লাল চিঠি এসেছে ঢাকা পুলিশের সদর দপ্তরে。 সেখানেই সরকারিভাবে বেনজীরের গ্রেফতারির খবর জানানো হয়েছে।”

এবার ঘরের ছেলেকে ঘরে ফেরানোর পালা:

প্রাক্তন আইজিপির এই ‘পর্তুগিজ’ ও ‘আমিরাতি’ রূপ প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে ঢাকা。 ইন্টারপোলের পরোয়ানায় ধরা পড়া এই হাই-প্রোফাইল আসামিকে কীভাবে দ্রুত নিজেদের হেফাজতে ফিরিয়ে আনা যায়, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই স্বরাষ্ট্র এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রুদ্ধশ্বাস বৈঠক শুরু হয়েছে。 আইন ভাঙার কারিগরের নিজের দেশে ফেরার প্রহর এবার গোনা শুরু হলো বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল。