ফরিদপুরে দুপক্ষের সংঘর্ষে আহত ১০
- আপডেট সময় : ০৯:০৮:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
- / 120
ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় এক ভ্যানচালককে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এবং উভয়পক্ষের ১০ থেকে ১৫টি বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়। এছাড়া ক্ষুব্ধ জনতা একটি খড়ির গাদা ও একটি ট্রলিতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
মঙ্গলবার (২৬ মে) বিকেলে উপজেলার সিংহপ্রতাপ গ্রামে এই ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
মারধরের জেরে ছড়াল উত্তেজনা:
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, সালথার সিংহপ্রতাপ এলাকার বাসিন্দা ও ভ্যানচালক বাবু তালুকদার (২২) কাউলিকান্দা স্ট্যান্ড এলাকায় গেলে তাকে অতর্কিত মারধর করা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাউলিকান্দা এলাকার হাবিবুর রহমানের পক্ষের সঙ্গে সিংহপ্রতাপের ইব্রাহিম মোল্যা ও রফিক মাতুব্বর সমর্থিত পক্ষের মধ্যে মুহূর্তের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
একপর্যায়ে উভয়পক্ষের শত শত লোক দেশীয় অস্ত্র, ঢাল-কাতরা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে মহাসড়ক ও ফসলি মাঠে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সময় বেশ কয়েকটি বাড়িতে অতর্কিত হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। সংঘর্ষের একপর্যায়ে একটি খড়ির গাদা ও একটি ট্রলিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হলে পুরো এলাকা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়রা নিজেদের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
পূর্ব বিরোধ ও হতাহতের বিবরণ:
এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতাকে কেন্দ্র করে এই দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা চলছিল। ভ্যানচালক বাবু তালুকদারকে মারধরের ঘটনাটি মূলত সেই পুরনো বিরোধের আগুনে ঘি ঢালার মতো কাজ করেছে, যা পরে বড় সংঘর্ষে রূপ নেয়।
এই সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে গুরুতর জখম হওয়া ব্যক্তিদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং ফরিদপুরের বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের নাম-পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।
পুলিশের অবস্থান ও শান্ত থাকার আহ্বান:
খবর পেয়ে সালথা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যাপক তৎপরতা চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “সংঘর্ষের খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ফোর্স পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক আছে।”
তিনি আরও জানান, এই সহিংস ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ শুরু করেছে। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নতুন করে উত্তেজনা এড়াতে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।





















