ঢাকা ০২:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফারাক্কার থাবায় ১২ জেলায় মরুপ্রবণতা, ৩ বিলিয়ন ডলারে ধ্বংস উত্তর-পশ্চিম বাংলাদেশ

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১১:৪৯:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৫
  • / 396

ফারাক্কার মরণবাঁধের ভয়াবহ প্রভাবে বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে মারাত্মক পরিবেশগত বিপর্যয় ঘটেছে। নদ-নদীর অববাহিকা ছাড়াও দেশের কৃষিনির্ভর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বিশাল এলাকায় মরুকরণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হচ্ছে। রাজশাহীসহ পুরো অঞ্চলে প্রকৃতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে, বাড়ছে দাবদাহের প্রকোপ। এতে পরিবেশ, প্রকৃতি ও প্রাণীকুল চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট এখন নৈমিত্তিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফারাক্কার ভয়াল ছোবলে দেশের উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে কমে গেছে বৃষ্টিপাতের পরিমাণও।

নদনদী পানিশূন্য, বাড়ছে শুষ্কতা

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফারাক্কা বাঁধে একতরফা পানি প্রত্যাহারের কারণে বাংলাদেশের নদনদীগুলো বছরের আট মাসই পানিশূন্য হয়ে থাকে। ফলে প্রকৃতি হয়ে উঠছে আরও রুক্ষ ও শুষ্ক। মাটিতে আর্দ্রতার পরিমাণ কমে গেছে। পদ্মা তীরবর্তী ও সংলগ্ন ১২টি জেলায় গড় বৃষ্টিপাত উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। এসব এলাকার খাল, বিল, ডোবা, পুকুর ও জলাশয়গুলো বছরের বেশিরভাগ সময় শুকনো থাকছে, ফলে কৃষি, মৎস্য ও গবাদিপশু পালনে দেখা দিয়েছে তীব্র সংকট। এখন এই অঞ্চলের কোটি কোটি মানুষের পানির একমাত্র উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে ভূগর্ভস্থ পানি, তবে অতিরিক্ত উত্তোলনের ফলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তরও দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে।

ভূগর্ভস্থ পানির স্তরে ভয়াবহ সংকট

বিশেষ করে রাজশাহীসহ বরেন্দ্র অঞ্চলে ১৫০ ফুট গভীরতায় খনন করেও পানির দেখা মিলছে না। বরেন্দ্র অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ প্রতিদিন বিশুদ্ধ পানির জন্য লড়াই করছে। পানির অভাবে গবাদিপশু পালনও কঠিন হয়ে পড়েছে। মার্চ থেকে জুন মাস পর্যন্ত অধিকাংশ পুকুর, ডোবা ও জলাশয় ফেটে চৌচির হয়ে পড়ছে, সবুজ মাঠ রূপ নিচ্ছে বিবর্ণ প্রান্তরে।

কৃষি, মৎস্য ও বনজ খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

ফারাক্কার পানি প্রত্যাহারের ফলে পদ্মা নদী এবং অববাহিকার পরিবেশ ও প্রতিবেশ গত দুই দশক ধরে ভয়ানকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষি, মৎস্য, বনজ, জলজ, শিল্প এবং পানি সরবরাহ খাত ব্যাপকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছে। পরিবেশ বিজ্ঞানীদের মতে, এই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। পদ্মার উজান থেকে ভাটিতে বসবাসরত প্রায় আড়াই কোটি মানুষ সারা বছর পানির সংকটে ভুগছেন। পানি প্রবাহ কমে যাওয়ায় উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততার মাত্রা বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে সুন্দরবনের গাছপালা ও জলজ প্রাণীর ওপরও।

স্বাস্থ্যঝুঁকি ও আর্সেনিক দূষণ

পদ্মা অববাহিকার তিন হাজারেরও বেশি চরাঞ্চলের মানুষ বছরের অধিকাংশ সময় নিরাপদ টিউবওয়েলের পানির সুবিধা থেকে বঞ্চিত। যেখানে সামান্য পানির অস্তিত্ব আছে, সেখানে আর্সেনিকের মাত্রাতিরিক্ত উপস্থিতি মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করেছে।

ভূগর্ভস্থ পানি স্তর বিপজ্জনক অবস্থায়

বাংলাদেশ ওয়াটার রিসোর্স প্ল্যানিং ওরগানাইজেশনের (ওয়ারপো) তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী অঞ্চলের ৭১ শতাংশ এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর মাঝারি থেকে অতি উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। এক সময় ৮০ ফুট গভীরতায় যেখানে পানি পাওয়া যেত, এখন সেখানে ১৫০ ফুট খনন করেও পানি মিলছে না। বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রায় তিন শতাধিক গভীর নলকূপ আংশিক বা পুরোপুরি অকেজো হয়ে পড়েছে।

নদী শুকিয়ে ফসলের আবাদ, পরিবেশ বিপর্যয়

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের এক গবেষণায় দেখা গেছে, পদ্মা অববাহিকায় ৩৩ হাজার ৬৮০ হেক্টর বিল, ৮৪ হাজার ৪৯৮টি পুকুর এবং ৬ লাখ ১০ হাজার ৪৬৭ হেক্টর প্লাবনভূমি পানিশূন্য হয়ে পড়েছে। বিল ও প্লাবনভূমিতে মাছের অস্তিত্ব প্রায় বিলুপ্ত। খাল, বিল, ডোবা, জলাশয় পলিতে ভরাট হয়ে নতুন করে ফসলের আবাদ শুরু হলেও এতে প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য ভয়াবহভাবে নষ্ট হচ্ছে।

চরাঞ্চলের করুণ চিত্র

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার চরআষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের মানুষ সারা বছর পানির সংকটে ভুগছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, পদ্মার বুক এখন ধু ধু বালুচরে পরিণত হয়েছে। চরভুবনপাড়া গ্রামের আশরাফুল ইসলাম জানান, পানি সংকটের কারণে গবাদিপশু পালনে এখন মহা কষ্ট পোহাতে হচ্ছে।

উষ্ণতা বাড়ছে, বৃষ্টিপাত কমছে

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের গবেষণায় উঠে এসেছে, গত ৩৬ বছরে মার্চ থেকে জুলাই মাসে তাপপ্রবাহের সময়কাল বেড়েছে, আর বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমেছে। রাজশাহী অঞ্চলের গড় তাপমাত্রা এখন ৩৬ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করে। এর ফলে জনজীবন ও প্রাণীকুলের জীবনধারণ চরমভাবে কঠিন হয়ে উঠছে।

পদ্মা অববাহিকায় মরু প্রবণতা বৃদ্ধি

ফারাক্কার প্রভাবে পদ্মার বুকজুড়ে এখন অসংখ্য বালুচর সৃষ্টি হয়েছে। গরমকালে এসব বালুচর থেকে উষ্ণ তপ্ত বাতাস প্রকৃতিতে ছড়িয়ে পড়ছে, মরু অঞ্চলের মতো অতি শুষ্ক পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। এতে গাছপালা পুড়ে যাচ্ছে, ভূমির উর্বরতা কমে যাচ্ছে।

ভবিষ্যৎ বিপদের আশঙ্কা

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের তথ্য মতে, পদ্মা বিধৌত অঞ্চলের ভূগর্ভস্থ পানির জোগান দ্রুত শেষ হয়ে আসছে। দুই দশকে রাজশাহী অঞ্চলের ১০ হাজারের বেশি হস্তচালিত নলকূপ অকেজো হয়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুত হ্রাস পেলে পুরো অঞ্চল ভয়াবহ মরুপ্রবণতায় পতিত হবে। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।

ফারাক্কার থাবায় ১২ জেলায় মরুপ্রবণতা, ৩ বিলিয়ন ডলারে ধ্বংস উত্তর-পশ্চিম বাংলাদেশ

আপডেট সময় : ১১:৪৯:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৫

ফারাক্কার মরণবাঁধের ভয়াবহ প্রভাবে বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে মারাত্মক পরিবেশগত বিপর্যয় ঘটেছে। নদ-নদীর অববাহিকা ছাড়াও দেশের কৃষিনির্ভর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বিশাল এলাকায় মরুকরণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হচ্ছে। রাজশাহীসহ পুরো অঞ্চলে প্রকৃতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে, বাড়ছে দাবদাহের প্রকোপ। এতে পরিবেশ, প্রকৃতি ও প্রাণীকুল চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট এখন নৈমিত্তিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফারাক্কার ভয়াল ছোবলে দেশের উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে কমে গেছে বৃষ্টিপাতের পরিমাণও।

নদনদী পানিশূন্য, বাড়ছে শুষ্কতা

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফারাক্কা বাঁধে একতরফা পানি প্রত্যাহারের কারণে বাংলাদেশের নদনদীগুলো বছরের আট মাসই পানিশূন্য হয়ে থাকে। ফলে প্রকৃতি হয়ে উঠছে আরও রুক্ষ ও শুষ্ক। মাটিতে আর্দ্রতার পরিমাণ কমে গেছে। পদ্মা তীরবর্তী ও সংলগ্ন ১২টি জেলায় গড় বৃষ্টিপাত উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। এসব এলাকার খাল, বিল, ডোবা, পুকুর ও জলাশয়গুলো বছরের বেশিরভাগ সময় শুকনো থাকছে, ফলে কৃষি, মৎস্য ও গবাদিপশু পালনে দেখা দিয়েছে তীব্র সংকট। এখন এই অঞ্চলের কোটি কোটি মানুষের পানির একমাত্র উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে ভূগর্ভস্থ পানি, তবে অতিরিক্ত উত্তোলনের ফলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তরও দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে।

ভূগর্ভস্থ পানির স্তরে ভয়াবহ সংকট

বিশেষ করে রাজশাহীসহ বরেন্দ্র অঞ্চলে ১৫০ ফুট গভীরতায় খনন করেও পানির দেখা মিলছে না। বরেন্দ্র অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ প্রতিদিন বিশুদ্ধ পানির জন্য লড়াই করছে। পানির অভাবে গবাদিপশু পালনও কঠিন হয়ে পড়েছে। মার্চ থেকে জুন মাস পর্যন্ত অধিকাংশ পুকুর, ডোবা ও জলাশয় ফেটে চৌচির হয়ে পড়ছে, সবুজ মাঠ রূপ নিচ্ছে বিবর্ণ প্রান্তরে।

কৃষি, মৎস্য ও বনজ খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

ফারাক্কার পানি প্রত্যাহারের ফলে পদ্মা নদী এবং অববাহিকার পরিবেশ ও প্রতিবেশ গত দুই দশক ধরে ভয়ানকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষি, মৎস্য, বনজ, জলজ, শিল্প এবং পানি সরবরাহ খাত ব্যাপকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছে। পরিবেশ বিজ্ঞানীদের মতে, এই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। পদ্মার উজান থেকে ভাটিতে বসবাসরত প্রায় আড়াই কোটি মানুষ সারা বছর পানির সংকটে ভুগছেন। পানি প্রবাহ কমে যাওয়ায় উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততার মাত্রা বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে সুন্দরবনের গাছপালা ও জলজ প্রাণীর ওপরও।

স্বাস্থ্যঝুঁকি ও আর্সেনিক দূষণ

পদ্মা অববাহিকার তিন হাজারেরও বেশি চরাঞ্চলের মানুষ বছরের অধিকাংশ সময় নিরাপদ টিউবওয়েলের পানির সুবিধা থেকে বঞ্চিত। যেখানে সামান্য পানির অস্তিত্ব আছে, সেখানে আর্সেনিকের মাত্রাতিরিক্ত উপস্থিতি মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করেছে।

ভূগর্ভস্থ পানি স্তর বিপজ্জনক অবস্থায়

বাংলাদেশ ওয়াটার রিসোর্স প্ল্যানিং ওরগানাইজেশনের (ওয়ারপো) তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী অঞ্চলের ৭১ শতাংশ এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর মাঝারি থেকে অতি উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। এক সময় ৮০ ফুট গভীরতায় যেখানে পানি পাওয়া যেত, এখন সেখানে ১৫০ ফুট খনন করেও পানি মিলছে না। বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রায় তিন শতাধিক গভীর নলকূপ আংশিক বা পুরোপুরি অকেজো হয়ে পড়েছে।

নদী শুকিয়ে ফসলের আবাদ, পরিবেশ বিপর্যয়

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের এক গবেষণায় দেখা গেছে, পদ্মা অববাহিকায় ৩৩ হাজার ৬৮০ হেক্টর বিল, ৮৪ হাজার ৪৯৮টি পুকুর এবং ৬ লাখ ১০ হাজার ৪৬৭ হেক্টর প্লাবনভূমি পানিশূন্য হয়ে পড়েছে। বিল ও প্লাবনভূমিতে মাছের অস্তিত্ব প্রায় বিলুপ্ত। খাল, বিল, ডোবা, জলাশয় পলিতে ভরাট হয়ে নতুন করে ফসলের আবাদ শুরু হলেও এতে প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য ভয়াবহভাবে নষ্ট হচ্ছে।

চরাঞ্চলের করুণ চিত্র

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার চরআষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের মানুষ সারা বছর পানির সংকটে ভুগছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, পদ্মার বুক এখন ধু ধু বালুচরে পরিণত হয়েছে। চরভুবনপাড়া গ্রামের আশরাফুল ইসলাম জানান, পানি সংকটের কারণে গবাদিপশু পালনে এখন মহা কষ্ট পোহাতে হচ্ছে।

উষ্ণতা বাড়ছে, বৃষ্টিপাত কমছে

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের গবেষণায় উঠে এসেছে, গত ৩৬ বছরে মার্চ থেকে জুলাই মাসে তাপপ্রবাহের সময়কাল বেড়েছে, আর বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমেছে। রাজশাহী অঞ্চলের গড় তাপমাত্রা এখন ৩৬ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করে। এর ফলে জনজীবন ও প্রাণীকুলের জীবনধারণ চরমভাবে কঠিন হয়ে উঠছে।

পদ্মা অববাহিকায় মরু প্রবণতা বৃদ্ধি

ফারাক্কার প্রভাবে পদ্মার বুকজুড়ে এখন অসংখ্য বালুচর সৃষ্টি হয়েছে। গরমকালে এসব বালুচর থেকে উষ্ণ তপ্ত বাতাস প্রকৃতিতে ছড়িয়ে পড়ছে, মরু অঞ্চলের মতো অতি শুষ্ক পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। এতে গাছপালা পুড়ে যাচ্ছে, ভূমির উর্বরতা কমে যাচ্ছে।

ভবিষ্যৎ বিপদের আশঙ্কা

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের তথ্য মতে, পদ্মা বিধৌত অঞ্চলের ভূগর্ভস্থ পানির জোগান দ্রুত শেষ হয়ে আসছে। দুই দশকে রাজশাহী অঞ্চলের ১০ হাজারের বেশি হস্তচালিত নলকূপ অকেজো হয়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুত হ্রাস পেলে পুরো অঞ্চল ভয়াবহ মরুপ্রবণতায় পতিত হবে। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।