টিকা মেয়াদোত্তীর্ণের পথে, নতুন ধরন ছড়াচ্ছে-ঢাকার বাইরে কিট সংকটে বন্ধ পরীক্ষা!
- আপডেট সময় : ০১:৪০:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ জুন ২০২৫
- / 330
বাংলাদেশে আবারও করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে করোনা শনাক্তে প্রয়োজনীয় কিট সংগ্রহে জোর দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন উৎস থেকে কিট সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে কিছু কিট দেশে এসে পৌঁছেছে বলেও জানানো হয়েছে।
করোনা শনাক্তে নতুন কিটের আগমন
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবু জাফর জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ইতোমধ্যে ২৮ হাজার র্যাপিড টেস্ট কিট দিয়েছে। এছাড়াও আজ (বুধবার) আরও ১০ হাজার আরটি-পিসিআর কিট দেশে আসার কথা রয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও ইউনিসেফের কাছে আরও ১ লাখ আরটি-পিসিআর ও ৫ লাখ র্যাপিড কিট চাওয়া হয়েছে।
দেশি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও কিট সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। এ ছাড়া ঢাকায় অবস্থিত চীনা দূতাবাসের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
দেশজুড়ে করোনা পরীক্ষার সীমাবদ্ধতা
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে মাত্র ১০১ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে — সবাই ঢাকার বাসিন্দা। ফলে ঢাকার বাইরে এখনো পর্যাপ্ত পরীক্ষা হচ্ছে না।
কক্সবাজারে এই মাসে ৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে, যার একজন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের। চট্টগ্রামে গত ১০ দিনে ৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন। তবে এই জেলাগুলোতে র্যাপিড কিটের সংকট রয়েছে। বরিশাল ও সিলেট বিভাগের কোনো জেলায় এখনো পরীক্ষার কোনো কিটই নেই বলে জানানো হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা
জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. মুশতাক হোসেন সতর্ক করেছেন যে, সংক্রমণ ছড়ালে ঝুঁকি বাড়বে। তিনি বলেন, “এখনই ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।”
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, “বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এখনো কোনো সতর্কতা জারি না করলেও ভারতের সংক্রমণ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।”
স্বাস্থ্যবিভাগের প্রস্তুতি ও টিকা পরিস্থিতি
২, ৪, ৬ ও ৮ জুন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা অনলাইনে একাধিক সভায় অংশ নিয়েছেন। সব জেলা সিভিল সার্জন ও সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। হাসপাতালগুলোর অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনে টিকা প্রয়োগ পরিকল্পনাও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
বর্তমানে ইপিআই কর্মসূচির অধীনে ৩১ লাখ ফাইজার টিকা মজুত রয়েছে, যার মধ্যে ১৭ লাখের মেয়াদ শেষ হবে ৫ আগস্টের মধ্যে। তবে বর্তমান ভাইরাস ধরনে এই টিকা কতটা কার্যকর, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। একটি কারিগরি কমিটি গঠনের কাজ চলছে যারা বিষয়টি মূল্যায়ন করবে।
সংক্রমণ বাড়ার পেছনে ঈদের ভিড়?
নতুন করে ছড়িয়ে পড়া করোনার ধরন ‘জেএন-১’ অমিক্রনের একটি উপধরন, যা তুলনামূলকভাবে কম তীব্র। তবে ঈদকে কেন্দ্র করে পশুর হাট, গণপরিবহন, পর্যটনকেন্দ্র ও গ্রামে যাওয়ার ভিড় — সব মিলিয়ে সংক্রমণ ছড়ানোর সম্ভাবনা অনেক বেড়ে গেছে।
স্বাস্থ্যবিধি মানার তাগিদ
স্বাস্থ্যবিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর জোর দিচ্ছেন। তাদের পরামর্শ:
-
বাইরে গেলে মাস্ক পরুন
-
জনসমাগম এড়িয়ে চলুন
-
ঘন ঘন সাবান পানি বা স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধোওয়া
-
জ্বর, কাশি বা শ্বাসকষ্ট থাকলে অন্যদের থেকে দূরে থাকা
বাংলাদেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় ২০২০ সালের ৮ মার্চ। এখন পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ২৯,৫০০ ছাড়িয়েছে।





















