থানার সালিশ বর্জন করে গ্রামে যুদ্ধ: ফরিদপুরে আহত ২০

- আপডেট সময় : ০৮:৪৬:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
- / 25
ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনা মীমাংসার জন্য স্থানীয় থানায় আয়োজিত সালিশে অংশগ্রহণ করা না-করাকে কেন্দ্র করে বিবাদমান দুই পক্ষের মধ্যে এক ব্যাপক ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষ চলাকালীন পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং উভয় পক্ষের অন্তত ২০টি বাড়িঘরে ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। এই রণক্ষেত্রে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
গতকাল রবিবার (৭ জুন) রাত ৮টার দিকে উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের কাঁঠালবাড়িয়া গ্রামে এই ভয়াবহ সংঘাতের ঘটনা ঘটে।
বিরোধের সূত্রপাত ও থানার সালিশ বর্জন:
স্থানীয় গ্রামবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এলাকার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে কাঁঠালবাড়িয়া গ্রামের মো. হাবিব মোল্যার সঙ্গে আজিজুল মোল্যার দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এই চলমান বিরোধের জেরে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় স্থানীয় একটি চায়ের দোকানের সামনে হাবিবুর মোল্যার সমর্থক হাফিজুর মাতুব্বরকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে আহত করে আজিজুল মোল্যার সমর্থকরা।
হাফিজুরকে কুপিয়ে জখম করার এই স্পর্শকাতর ঘটনাটি আইনি প্রক্রিয়ায় ও শান্তিপূর্ণভাবে মীমাংসার জন্য রবিবার সন্ধ্যায় সালথা থানায় একটি সালিশ-বৈঠকের আয়োজন করে পুলিশ প্রশাসন। তবে ওই বৈঠকে হাবিবুর মোল্যার সমর্থকরা অংশ নিতে যথাসময়ে থানায় হাজির হলেও, আজিজুল মোল্যার সমর্থকরা সালিশে অংশ নিতে স্পষ্ট অস্বীকৃতি জানিয়ে বৈঠক বর্জন করেন।
গ্রামজুড়ে তাণ্ডব ও লুটপাট:
থানার সালিশে এক পক্ষ অনুপস্থিত থাকায় গ্রামে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের দুই থেকে তিন শতাধিক সমর্থক রামদা, ঢাল-সুরকি ও লাঠিসোটা সহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সন্ধ্যা থেকে শুরু করে রাত ৮টা পর্যন্ত পুরো গ্রামজুড়ে চলে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ব্যাপক ইটপাটকেল নিক্ষেপ।
সংঘর্ষ চলাকালে এক পক্ষ অন্য পক্ষের ওপর হিংস্রভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং গ্রামের অন্তত ২০টি বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে দরজা-জানালা ভাঙচুর ও ভেতরে থাকা মূল্যবান জিনিসপত্র লুটপাট করে নিয়ে যায়। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
আহতদের হাসপাতালে ভর্তি ও বর্তমান পরিস্থিতি:
এই তিন ঘণ্টাব্যাপী রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের চিৎকারে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠলে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করেন। এর মধ্যে গুরুতর জখম হওয়া কয়েকজনকে তাৎক্ষণিকভাবে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে ওই এলাকার পরিবেশ পুরোপুরি শান্ত রয়েছে। সংঘর্ষ ও বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” পুনরায় সংঘর্ষ এড়াতে গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।




















