আওয়ামী লীগ ও যুবদল নেতার যুদ্ধ: ওসিসহ আহত শতাধিক

- আপডেট সময় : ০৭:৩২:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
- / 39
হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণকে কেন্দ্র করে বর্তমান চেয়ারম্যান ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সমর্থকদের মধ্যে প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী এক ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই রণক্ষেত্রে বানিয়াচং থানার ওসিসহ উভয় পক্ষের অন্তত শতাধিক নারী-পুরুষ গুরুতর আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে দফায় দফায় টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করতে হয়েছে।
আজ সোমবার (৮ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার কালাইনজুড়া গ্রামে অবস্থিত ৭নং বড়ইউড়ি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের একদম সামনে এই লঙ্কাকাণ্ডের সূত্রপাত হয়।
আওয়ামী লীগ বনাম যুবদল নেতার আইনি লড়াই:
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বড়ইউড়ি ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ফরিদ আহমদ গ্রেফতার হন। তিনি কারাবন্দি হওয়ায় ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান ও যুবদল নেতা মিজানুর রহমান কপিল ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে পরিষদের দায়িত্ব পালন শুরু করেন।
দীর্ঘদিন কারাভোগের পর জাতীয় নির্বাচনের পর ফরিদ আহমদ জামিনে মুক্তি পান। মুক্ত হয়ে তিনি পুনরায় চেয়ারম্যানের মূল দায়িত্বে বসার উদ্যোগ নিলে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান কপিল তাতে তীব্র আপত্তি জানান। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত আদালতে গড়ালে হাইকোর্টের রায়ের মাধ্যমে ফরিদ আহমদ তাঁর চেয়ারম্যান পদ ফিরে পান। পরবর্তীতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন থেকেও তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণের লিখিত অনুমতি দেওয়া হয়।
নগদ অর্থ বিতরণী অনুষ্ঠানেই সংঘাতের সূত্রপাত:
আজ সোমবার সকালে সরকারের মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে নগদ অর্থ ও চাল বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ওই অনুষ্ঠানে মূল চেয়ারম্যান ফরিদ আহমদ উপস্থিত হলে সেখানে নতুন করে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে চেয়ারম্যান ফরিদ আহমদ ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান কপিলের মধ্যে প্রকাশ্যেই তীব্র বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। অভিযোগ ওঠে, এ সময় কপিলের সমর্থকরা মূল চেয়ারম্যান ফরিদ আহমদকে অবরুদ্ধ করে ফেলেন।
রণক্ষেত্রে পরিণত হলো ইউনিয়ন পরিষদ:
চেয়ারম্যান অবরুদ্ধ হওয়ার খবরটি চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে ফরিদ আহমদের সমর্থনে নোয়াগাঁও ও কদুপুরসহ কয়েকটি গ্রামের সাধারণ মানুষ এবং কপিলের পক্ষে হলদারপুর গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে লাঠিসোটা ও ইটপাটকেলসহ মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। মুহূর্তের মধ্যেই পুরো ইউনিয়ন পরিষদ এলাকা এক ভয়াবহ রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। দীর্ঘ ৩ ঘণ্টা ধরে চলে এই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ।
ওসিসহ আহত শতাধিক, পুলিশি অ্যাকশন:
খবর পেয়ে বানিয়াচং থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৩ রাউন্ড টিয়ারশেল এবং ৫টি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এই ব্যাপক সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ নাজমুল হকসহ উভয় পক্ষের প্রায় শতাধিক মানুষ আহত হন।
গুরুতর আহত বেশ কয়েকজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া বাকি আহতদের হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতাল ও নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
বানিয়াচং থানার ওসি শেখ নাজমুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে তিনি নিজেও আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন। পুলিশ টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. রাশেদুজ্জামান চৌধুরীও জানান, ঘটনার পর থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।




















