ঢাকা ০৮:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পদ্মার পানি বাড়তেই বুকে কাঁপন : ফরিদপুরের নদীভাঙন আতঙ্কে হাজারো পরিবার

মিজানুর রহমান, সদরপুর (ফরিদপুর):
  • আপডেট সময় : ১১:২৮:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ জুন ২০২৫
  • / 468

বর্ষা এলেই পদ্মার পানি বাড়ে, আর এর সঙ্গে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার তীরবর্তী মানুষের মনে ফিরে আসে চিরচেনা নদীভাঙনের আতঙ্ক। বছরের পর বছর ধরে নদীর তাণ্ডবে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে অসংখ্য পরিবার। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়, যদিও এখনো বড় ধরনের ভাঙন শুরু হয়নি, তবে অতীত অভিজ্ঞতা থেকেই আতঙ্কে দিন পার করছেন স্থানীয়রা।

সদরপুর উপজেলার পদ্মা নদীর তীরবর্তী গ্রামগুলোতে এখন উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার পরিবেশ বিরাজ করছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নের নুরুদ্দীন সরদার কান্দি, আব্দুল হামিদ জঙ্গির কান্দি, আলেফ সরদার কান্দি ও জব্বার শিকদার কান্দি—এই গ্রামগুলো ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে। এছাড়া আকোটের চর ইউনিয়নের শয়তানখালী, ছলেনামা ও আকোটের চর গুচ্ছ গ্রামের প্রায় ১১০টি পরিবার নদীভাঙনের আতঙ্কে দিন পার করছে।

ক্ষতিগ্রস্তদের আকুতি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধির উদ্বেগ

দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নের নুরুদ্দীন সরদার কান্দি গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, “প্রতি বছরই নদী ভাঙনের শিকার হচ্ছি। ঘরবাড়ি, ফসলি জমি সব নদীতে চলে যাচ্ছে। আমরা চাই আগেভাগে টেকসই নদীশাসনের ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”

আকোটের চর ইউনিয়নের গুচ্ছ গ্রামের বাসিন্দারা জানান, “এই সময় এলেই আমাদের ঘুম হারাম হয়ে যায়। পানি বাড়লেই ভাঙন শুরু হবে। সরকার আমাদের থাকার জায়গা দিয়েছে, এই ঘরবাড়িই এখন আমাদের শেষ সম্বল। এটাও হারালে আর কিছু থাকবে না।”

আকোটের চর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসলাম বেপারী বলেন, “নদীভাঙন এখন আর হঠাৎ ঘটে যাওয়া কোনো দুর্যোগ নয়, এটি একটি বার্ষিক দুর্যোগে রূপ নিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আমরা বারবার জানিয়েছি। তারা এলাকা পরিদর্শনও করেছেন। আশা করছি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের পর্যবেক্ষণ

সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকিয়া সুলতানা বলেন, “নদীভাঙনের ফলে এখানকার মানুষের জীবনমান উন্নত হচ্ছে না। এই দুর্যোগ মোকাবেলায় নদীশাসনের টেকসই ব্যবস্থা প্রয়োজন। আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”

ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব হোসেন জানান, “পদ্মার পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনের ঝুঁকিও বাড়ছে। আমরা ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলোতে পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছি। খুব শিগগিরই টেকসই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পদ্মার পানি বাড়তেই বুকে কাঁপন : ফরিদপুরের নদীভাঙন আতঙ্কে হাজারো পরিবার

আপডেট সময় : ১১:২৮:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ জুন ২০২৫

বর্ষা এলেই পদ্মার পানি বাড়ে, আর এর সঙ্গে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার তীরবর্তী মানুষের মনে ফিরে আসে চিরচেনা নদীভাঙনের আতঙ্ক। বছরের পর বছর ধরে নদীর তাণ্ডবে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে অসংখ্য পরিবার। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়, যদিও এখনো বড় ধরনের ভাঙন শুরু হয়নি, তবে অতীত অভিজ্ঞতা থেকেই আতঙ্কে দিন পার করছেন স্থানীয়রা।

সদরপুর উপজেলার পদ্মা নদীর তীরবর্তী গ্রামগুলোতে এখন উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার পরিবেশ বিরাজ করছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নের নুরুদ্দীন সরদার কান্দি, আব্দুল হামিদ জঙ্গির কান্দি, আলেফ সরদার কান্দি ও জব্বার শিকদার কান্দি—এই গ্রামগুলো ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে। এছাড়া আকোটের চর ইউনিয়নের শয়তানখালী, ছলেনামা ও আকোটের চর গুচ্ছ গ্রামের প্রায় ১১০টি পরিবার নদীভাঙনের আতঙ্কে দিন পার করছে।

ক্ষতিগ্রস্তদের আকুতি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধির উদ্বেগ

দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নের নুরুদ্দীন সরদার কান্দি গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, “প্রতি বছরই নদী ভাঙনের শিকার হচ্ছি। ঘরবাড়ি, ফসলি জমি সব নদীতে চলে যাচ্ছে। আমরা চাই আগেভাগে টেকসই নদীশাসনের ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”

আকোটের চর ইউনিয়নের গুচ্ছ গ্রামের বাসিন্দারা জানান, “এই সময় এলেই আমাদের ঘুম হারাম হয়ে যায়। পানি বাড়লেই ভাঙন শুরু হবে। সরকার আমাদের থাকার জায়গা দিয়েছে, এই ঘরবাড়িই এখন আমাদের শেষ সম্বল। এটাও হারালে আর কিছু থাকবে না।”

আকোটের চর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসলাম বেপারী বলেন, “নদীভাঙন এখন আর হঠাৎ ঘটে যাওয়া কোনো দুর্যোগ নয়, এটি একটি বার্ষিক দুর্যোগে রূপ নিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আমরা বারবার জানিয়েছি। তারা এলাকা পরিদর্শনও করেছেন। আশা করছি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের পর্যবেক্ষণ

সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকিয়া সুলতানা বলেন, “নদীভাঙনের ফলে এখানকার মানুষের জীবনমান উন্নত হচ্ছে না। এই দুর্যোগ মোকাবেলায় নদীশাসনের টেকসই ব্যবস্থা প্রয়োজন। আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”

ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব হোসেন জানান, “পদ্মার পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনের ঝুঁকিও বাড়ছে। আমরা ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলোতে পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছি। খুব শিগগিরই টেকসই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”