ঢাকা ০৭:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে ফ্যাসিবাদী ছাত্রলীগ নেতার নগ্নতা: বাংলো বাড়িতে মাদক-নারী নিয়ে অবাধ বিচরণ!

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০১:৩৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ জুন ২০২৫
  • / 2206

ফরিদপুর সদর উপজেলার মাচ্চর ইউনিয়নের কুয়ারপুর গ্রামে ছাত্রলীগ নেতা জাবির সাফি দিনারের একটি ‘বাংলো বাড়ি’ ঘিরে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই বাড়িটি আদতে একটি প্রমোদ ভিলা, যেখানে দিনার তার দলবল নিয়ে প্রায়ই রাতভর মাদক ও নারী নিয়ে আসর বসান, যা এলাকার শান্ত পরিবেশ নষ্ট করছে।

জানা যায়, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য এবং বর্তমানে ফরিদপুর পৌর শাখা আওয়ামী লীগের সদস্য জাবির সাফি দিনার প্রায় দুই বছর আগে জোরপূর্বক রেজা খন্দকারের বসতবাড়ির সামনে এই বাংলো বাড়িটি নির্মাণ করেন। শহরের অদূরে নিরিবিলি পরিবেশে অবস্থিত হওয়ায় দিনার ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা এটিকে অনৈতিক আড্ডার কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয়দের অভিযোগ ও প্রমোদ ভিলার চিত্র

প্রতিবেশী মনি বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমার সন্তানের বয়স মাত্র ৭ বছর। ওর বাবা সিগারেট খায় না, অথচ আমার সন্তান এখন মদের বোতল চিনে ফেলেছে। এর মূল কারণ এই দিনার।” সরেজমিনে দেখা যায়, এটি কোনো বসতবাড়ি নয়, বরং একটি প্রমোদ ভিলা। এর ভেতরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে মাদক সেবনের বিভিন্ন ব্যবহৃত সরঞ্জাম। ঘরের আসবাবপত্র বলতে একটি বিছানাবিহীন খাট ও একটি টিভির খালি বাক্স। এখানে কোনো শৌচাগার বা রান্নাঘর নেই। বাংলো বাড়িটির আশপাশে বিভিন্ন রেস্তোরাঁ থেকে আনা খাবারের খালি প্যাকেটও পড়ে থাকতে দেখা যায়।

মাচ্চর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদ মুন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, দিনারের মূল বাড়ি আলিপুরে হলেও এখানে তার একটি বাংলো বাড়ি আছে। “লোক মুখে শুনেছি এখানে রাতে প্রায়ই আড্ডা হয়,” যোগ করেন তিনি।

ক্ষমতার অপব্যবহার ও রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রেজা খন্দকার ও তার পুত্র আরিফ খন্দকার জানান, রাজউকের সাবেক পরিচালক শেখ শাহিনুল ইসলাম, যিনি স্বৈরাচার শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই শেখ জুয়েলের আপন আত্মীয় এবং দিনারের আপন ছোট বোন জামাই। দিনার তাদের সাথে একটি ছবি তুলে ভাইরাল করে সবাইকে ভয় দেখাতেন। এমনকি রেজা খন্দকারের নির্মিত মসজিদ থেকেও তাকে বের করে দেওয়া হয়।

আরিফ খন্দকার আরও অভিযোগ করেন, ফরিদপুরের সাবেক জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং ফরিদপুর পৌরসভার মেয়র অমিতাভ বোস সবসময় দিনারকে বিভিন্নভাবে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছেন। আর সে কারণেই দিনারের অত্যাচারের দৌরাত্ম্য এই এলাকায় খুব বেশি বেড়েছে। আরিফ খন্দকার জানান, “যদিও ফ্যাসিবাদী দলের সকলেই পলাতক, কিন্তু দিনার এবং তার লোকজন এখনও প্রায়ই এখানেই এই বাংলো বাড়িতে এসে রাতে মাদক ও নারীর রমরমা আড্ডা করে।”

অনুসন্ধানে জানা যায়, শেখ জুয়েলের আত্মীয় শেখ শাহিনুল ইসলাম দিনারের আপন ছোট বোন জামাই, যিনি স্বৈরাচার হাসিনার সাথে রাজউক পূর্বাচলের ১০ কাঠা প্লট বরাদ্দের অনিয়ম ও দুর্নীতি মামলার ১৫ নং পলাতক আসামি। আরিফ খন্দকার সাংবাদিকদের কিছু ছবি দেখান, যেখানে ফরিদপুর পৌর আওয়ামী লীগের সদস্য জাবির সাফি দিনারকে শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই শেখ জুয়েল এবং শেখ হাসিনার পিএস গাজী হাফিজুর রহমান লিপুর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে দেখা যায়।

অভিযোগ ও পুলিশের পদক্ষেপ

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, রেজা খন্দকার ও জাবির সাফি দিনার পরস্পর আত্মীয় এবং তাদের মধ্যে বেশ কিছুদিন যাবৎ বৈরী সম্পর্ক বিরাজ করছে। তাদের মধ্যে সম্প্রতি বাংলো বাড়ি নিয়ে ঝামেলা হলে ফরিদপুর কোতয়ালী থানার এসআই সাইফুল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং কিছু মালামাল ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম জব্দ করেন।

ফরিদপুরে ফ্যাসিবাদী ছাত্রলীগ নেতার নগ্নতা: বাংলো বাড়িতে মাদক-নারী নিয়ে অবাধ বিচরণ!

আপডেট সময় : ০১:৩৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ জুন ২০২৫

ফরিদপুর সদর উপজেলার মাচ্চর ইউনিয়নের কুয়ারপুর গ্রামে ছাত্রলীগ নেতা জাবির সাফি দিনারের একটি ‘বাংলো বাড়ি’ ঘিরে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই বাড়িটি আদতে একটি প্রমোদ ভিলা, যেখানে দিনার তার দলবল নিয়ে প্রায়ই রাতভর মাদক ও নারী নিয়ে আসর বসান, যা এলাকার শান্ত পরিবেশ নষ্ট করছে।

জানা যায়, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য এবং বর্তমানে ফরিদপুর পৌর শাখা আওয়ামী লীগের সদস্য জাবির সাফি দিনার প্রায় দুই বছর আগে জোরপূর্বক রেজা খন্দকারের বসতবাড়ির সামনে এই বাংলো বাড়িটি নির্মাণ করেন। শহরের অদূরে নিরিবিলি পরিবেশে অবস্থিত হওয়ায় দিনার ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা এটিকে অনৈতিক আড্ডার কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয়দের অভিযোগ ও প্রমোদ ভিলার চিত্র

প্রতিবেশী মনি বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমার সন্তানের বয়স মাত্র ৭ বছর। ওর বাবা সিগারেট খায় না, অথচ আমার সন্তান এখন মদের বোতল চিনে ফেলেছে। এর মূল কারণ এই দিনার।” সরেজমিনে দেখা যায়, এটি কোনো বসতবাড়ি নয়, বরং একটি প্রমোদ ভিলা। এর ভেতরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে মাদক সেবনের বিভিন্ন ব্যবহৃত সরঞ্জাম। ঘরের আসবাবপত্র বলতে একটি বিছানাবিহীন খাট ও একটি টিভির খালি বাক্স। এখানে কোনো শৌচাগার বা রান্নাঘর নেই। বাংলো বাড়িটির আশপাশে বিভিন্ন রেস্তোরাঁ থেকে আনা খাবারের খালি প্যাকেটও পড়ে থাকতে দেখা যায়।

মাচ্চর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদ মুন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, দিনারের মূল বাড়ি আলিপুরে হলেও এখানে তার একটি বাংলো বাড়ি আছে। “লোক মুখে শুনেছি এখানে রাতে প্রায়ই আড্ডা হয়,” যোগ করেন তিনি।

ক্ষমতার অপব্যবহার ও রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রেজা খন্দকার ও তার পুত্র আরিফ খন্দকার জানান, রাজউকের সাবেক পরিচালক শেখ শাহিনুল ইসলাম, যিনি স্বৈরাচার শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই শেখ জুয়েলের আপন আত্মীয় এবং দিনারের আপন ছোট বোন জামাই। দিনার তাদের সাথে একটি ছবি তুলে ভাইরাল করে সবাইকে ভয় দেখাতেন। এমনকি রেজা খন্দকারের নির্মিত মসজিদ থেকেও তাকে বের করে দেওয়া হয়।

আরিফ খন্দকার আরও অভিযোগ করেন, ফরিদপুরের সাবেক জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং ফরিদপুর পৌরসভার মেয়র অমিতাভ বোস সবসময় দিনারকে বিভিন্নভাবে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছেন। আর সে কারণেই দিনারের অত্যাচারের দৌরাত্ম্য এই এলাকায় খুব বেশি বেড়েছে। আরিফ খন্দকার জানান, “যদিও ফ্যাসিবাদী দলের সকলেই পলাতক, কিন্তু দিনার এবং তার লোকজন এখনও প্রায়ই এখানেই এই বাংলো বাড়িতে এসে রাতে মাদক ও নারীর রমরমা আড্ডা করে।”

অনুসন্ধানে জানা যায়, শেখ জুয়েলের আত্মীয় শেখ শাহিনুল ইসলাম দিনারের আপন ছোট বোন জামাই, যিনি স্বৈরাচার হাসিনার সাথে রাজউক পূর্বাচলের ১০ কাঠা প্লট বরাদ্দের অনিয়ম ও দুর্নীতি মামলার ১৫ নং পলাতক আসামি। আরিফ খন্দকার সাংবাদিকদের কিছু ছবি দেখান, যেখানে ফরিদপুর পৌর আওয়ামী লীগের সদস্য জাবির সাফি দিনারকে শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই শেখ জুয়েল এবং শেখ হাসিনার পিএস গাজী হাফিজুর রহমান লিপুর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে দেখা যায়।

অভিযোগ ও পুলিশের পদক্ষেপ

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, রেজা খন্দকার ও জাবির সাফি দিনার পরস্পর আত্মীয় এবং তাদের মধ্যে বেশ কিছুদিন যাবৎ বৈরী সম্পর্ক বিরাজ করছে। তাদের মধ্যে সম্প্রতি বাংলো বাড়ি নিয়ে ঝামেলা হলে ফরিদপুর কোতয়ালী থানার এসআই সাইফুল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং কিছু মালামাল ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম জব্দ করেন।