একটি মোবাইল ঘিরে রহস্য, ফরিদপুরে নারী উদ্যোক্তাকে খুঁজছে পুলিশ

- আপডেট সময় : ০৫:৪২:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ অগাস্ট ২০২৫
- / 791
একটি হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরের মধুখালীতে এক নারী উদ্যোক্তা ও একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তার মধ্যে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ওই নারী কৌশলে তার নগ্ন ছবি ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল ও হয়রানির অভিযোগ করেছেন, অন্যদিকে অভিযুক্ত কর্মকর্তা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) দুপুরে স্থানীয় একটি পত্রিকা অফিসে সংবাদ সম্মেলন করে নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন ভুক্তভোগী ওই নারী।
নারী উদ্যোক্তার গুরুতর অভিযোগ
ভুক্তভোগী নারী জানান, মুন্সি আতিক হোসেন নামে একজন অবসরপ্রাপ্ত কাস্টমস কর্মকর্তা তার দূর সম্পর্কের আত্মীয়। তিনি জানান, চার বছর ধরে তিনি ওই মোবাইলটি ব্যবহার করছেন এবং এর কেনার খরচও তিনিই দিয়েছেন। তার অভিযোগ, আতিক হোসেন মোবাইলটিতে তার ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও গোপনে তুলে রেখেছিলেন এবং পরবর্তীতে সেগুলো দিয়ে তাকে ব্ল্যাকমেইল করেছেন ও কুপ্রস্তাব দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, তার অফিসে এসব ছবি ও ভিডিও পাঠিয়ে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। সম্প্রতি তিনি একটি দোকান খোলার পর সেখানেও পুলিশ পাঠিয়ে তাকে হয়রানি করা হয়। বাজারে তার আপত্তিকর ছবি ছড়িয়ে দিয়ে তাকে হেয় করা হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
অভিযুক্ত কর্মকর্তার পাল্টা বক্তব্য
সংবাদ সম্মেলনের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মুন্সি আতিক হোসেন সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আমি ছবি বা ভিডিও পাঠানো কিংবা চাকরিচ্যুত করার সাথে জড়িত নই।” তিনি ওই নারীকে ‘ডেসপারেট’ আখ্যায়িত করে দাবি করেন, তিনি ওই নারীকে বাড়ি করার জন্য ২ লাখ টাকাসহ প্রচুর আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন।
তিনি সংবাদ সম্মেলনটিকে মিথ্যাচার বলে দাবি করেন এবং বলেন, “ওরা তো মীমাংসার জন্য বসতে চাইছে, আবার সংবাদ সম্মেলন করছে—এটা ডাবল স্ট্যান্ডার্ড হয়ে গেল না?”
পুলিশ ও সম্পদের বিতর্ক
মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুজ্জামান জানান, ঢাকার আদাবর থানায় মুন্সি আতিক হোসেন মোবাইল হারানোর অভিযোগ দায়ের করেছেন। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ফোনটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। তিনি জানান, মোবাইলের কাগজপত্র যার নামে, আইনগতভাবে তিনিই এর মালিক।
সংবাদ সম্মেলনে আতিক হোসেনের বিপুল সম্পদের তথ্য তুলে ধরা হয়, যার মধ্যে মধুখালীতে দুই কোটি টাকার চারতলা ভবন, ঢাকায় ১০ কোটি ও ১৫ কোটি টাকার দুটি বাড়ি, ৫০ একর জমি এবং দুটি মাইক্রোবাসসহ প্রায় ৫০ কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। এ বিষয়ে আতিক হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এত বছর চাকরি করেছি, কিছু সম্পত্তি তো রয়েছেই।”



















