ঢাকা ০৫:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কারাগারের পথে মা ও ১১ দিনের নবজাতক: বাবা ফেলে গেছেন ছেলে না হওয়ায়

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৯:২০:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 288

ঘড়ির কাঁটায় তখন বেলা ৩টা ২৪ মিনিট। এক হাতে পুলিশ সদস্যের হাত ধরে অসহায় এক নারী, কোলে তার ১১ দিনের নবজাতক। চোখে পানি নিয়ে প্রিজন ভ্যানে উঠছেন তিনি, যার ঠিকানা এখন খুলনা জেলা কারাগার। ছেলে সন্তান না হওয়ায় স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির চাপে শিশু চুরির ঘটনায় অভিযুক্ত এই নারী ও তার নবজাতকের একসঙ্গে কারা যাত্রা শুরু হয়েছে।

ছেলে না হওয়ায় স্ত্রীকে ত্যাগ, এরপরই অঘটন

শাহাজাদী (৩৬) নামের ওই নারীর সংসারে আগে থেকেই চার কন্যাশিশু আছে। গত ১১ সেপ্টেম্বর খুলনার রূপসা এলাকার একটি হাসপাতালে জন্ম নেয় তার পঞ্চম কন্যাশিশু। এবার অন্তত ছেলে হবে—এমন প্রত্যাশা ছিল স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের। কিন্তু কন্যাশিশু হওয়ায় স্ত্রীকে হাসপাতালেই ফেলে রেখে চলে যান স্বামী সিরাজুল ইসলাম। এর পর থেকে আর কোনো খবর নেননি তিনি।

পরিবারের চাপ ও হতাশার মধ্যে গত ১৫ সেপ্টেম্বর একই হাসপাতাল থেকে অন্য এক প্রসূতির চার দিনের ছেলে নবজাতক চুরি হয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পুলিশের তৎপরতায় শিশুটিকে উদ্ধার করা হয় এবং শাহাজাদীর মা নার্গিস বেগম (৫৫) আটক হন। তিনি পুলিশের কাছে দাবি করেন, মেয়ের সংসার টিকিয়ে রাখতেই এমন কাণ্ড করেছিলেন। মানব পাচার আইনে শাহাজাদীর মা ও তাকে আসামি করে মামলা করা হয়। তার মা বর্তমানে কারাগারে আছেন।

সুবুদ্ধি দিল মামলার বাদী, মামলা চালাতে চান না

চুরি যাওয়া শিশুটির বাবা মির্জা সুজন বলেন, “আমার ছোট চাকরি, কাজ ফেলে মোংলা থেকে খুলনায় আসা-যাওয়া করা সম্ভব নয়। তার চেয়ে বড় কথা, ওই মা অনেক কষ্টে আছেন। আমার বাচ্চা জন্মের পর বুকের দুধ পাচ্ছিল না, তখন ওই নারীই আমার সন্তানকে বুকের দুধ খাইয়েছেন। এই বিবেচনায় আমি আর মামলাটা এগিয়ে নিতে চাইছি না।” তিনি আরও দাবি করেন, বাচ্চা ফিরে পাওয়ার পর তিনি পুলিশকে জানিয়েছিলেন, তার কোনো অভিযোগ নেই।

তবে এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, সদর থানার এসআই শাহীন জানান, “বাদীর এই অভিযোগ মিথ্যা। তিনি মামলা করতে না চাইলে পুলিশ কি জোর করে মামলা করাতে পারে?”

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মো. ইনামূল হক জানান, ১০ সেপ্টেম্বর শিশুর বাবা ও মামা মিলে শাহাজাদীকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলেন। তবে সিজারিয়ানের পর বাবা সিরাজুল ইসলাম আর হাসপাতালে আসেননি। আজ দুপুরে শিশুটির মামা বকেয়া পরিশোধ করে দিয়েছেন।

কারাগারের পথে মা ও ১১ দিনের নবজাতক: বাবা ফেলে গেছেন ছেলে না হওয়ায়

আপডেট সময় : ০৯:২০:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ঘড়ির কাঁটায় তখন বেলা ৩টা ২৪ মিনিট। এক হাতে পুলিশ সদস্যের হাত ধরে অসহায় এক নারী, কোলে তার ১১ দিনের নবজাতক। চোখে পানি নিয়ে প্রিজন ভ্যানে উঠছেন তিনি, যার ঠিকানা এখন খুলনা জেলা কারাগার। ছেলে সন্তান না হওয়ায় স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির চাপে শিশু চুরির ঘটনায় অভিযুক্ত এই নারী ও তার নবজাতকের একসঙ্গে কারা যাত্রা শুরু হয়েছে।

ছেলে না হওয়ায় স্ত্রীকে ত্যাগ, এরপরই অঘটন

শাহাজাদী (৩৬) নামের ওই নারীর সংসারে আগে থেকেই চার কন্যাশিশু আছে। গত ১১ সেপ্টেম্বর খুলনার রূপসা এলাকার একটি হাসপাতালে জন্ম নেয় তার পঞ্চম কন্যাশিশু। এবার অন্তত ছেলে হবে—এমন প্রত্যাশা ছিল স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের। কিন্তু কন্যাশিশু হওয়ায় স্ত্রীকে হাসপাতালেই ফেলে রেখে চলে যান স্বামী সিরাজুল ইসলাম। এর পর থেকে আর কোনো খবর নেননি তিনি।

পরিবারের চাপ ও হতাশার মধ্যে গত ১৫ সেপ্টেম্বর একই হাসপাতাল থেকে অন্য এক প্রসূতির চার দিনের ছেলে নবজাতক চুরি হয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পুলিশের তৎপরতায় শিশুটিকে উদ্ধার করা হয় এবং শাহাজাদীর মা নার্গিস বেগম (৫৫) আটক হন। তিনি পুলিশের কাছে দাবি করেন, মেয়ের সংসার টিকিয়ে রাখতেই এমন কাণ্ড করেছিলেন। মানব পাচার আইনে শাহাজাদীর মা ও তাকে আসামি করে মামলা করা হয়। তার মা বর্তমানে কারাগারে আছেন।

সুবুদ্ধি দিল মামলার বাদী, মামলা চালাতে চান না

চুরি যাওয়া শিশুটির বাবা মির্জা সুজন বলেন, “আমার ছোট চাকরি, কাজ ফেলে মোংলা থেকে খুলনায় আসা-যাওয়া করা সম্ভব নয়। তার চেয়ে বড় কথা, ওই মা অনেক কষ্টে আছেন। আমার বাচ্চা জন্মের পর বুকের দুধ পাচ্ছিল না, তখন ওই নারীই আমার সন্তানকে বুকের দুধ খাইয়েছেন। এই বিবেচনায় আমি আর মামলাটা এগিয়ে নিতে চাইছি না।” তিনি আরও দাবি করেন, বাচ্চা ফিরে পাওয়ার পর তিনি পুলিশকে জানিয়েছিলেন, তার কোনো অভিযোগ নেই।

তবে এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, সদর থানার এসআই শাহীন জানান, “বাদীর এই অভিযোগ মিথ্যা। তিনি মামলা করতে না চাইলে পুলিশ কি জোর করে মামলা করাতে পারে?”

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মো. ইনামূল হক জানান, ১০ সেপ্টেম্বর শিশুর বাবা ও মামা মিলে শাহাজাদীকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলেন। তবে সিজারিয়ানের পর বাবা সিরাজুল ইসলাম আর হাসপাতালে আসেননি। আজ দুপুরে শিশুটির মামা বকেয়া পরিশোধ করে দিয়েছেন।