ফরিদপুর পাসপোর্ট অফিসে নিষিদ্ধ দালাল
- আপডেট সময় : ১১:১১:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / 515
একসময় দুর্নীতি, দালাল চক্রের উৎপাত এবং চরম হয়রানির জন্য কুখ্যাতি ছিল ফরিদপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের। কিন্তু বর্তমানে উপ-পরিচালক আবু নাঈম মাসুমের নানামুখী উদ্যোগ আর কঠোর নজরদারিতে পাল্টে গেছে সেই চিত্র। প্রতিষ্ঠানটি এখন শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা এবং দ্রুত ডিজিটাল সেবাদানের এক আদর্শ মডেল হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।
ঘোষণা ও কঠোরতা: দালালদের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ
অফিসের মূল ফটকের সামনে অবিরাম মাইকে চলছে দালালদের বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা: “দালালের খপ্পরে কেউ পড়বেন না। দালাল না ধরে নিজে আসুন, আপনার সেবার দায়িত্ব আমাদের।”
পাশাপাশি গেট ও দেয়ালে স্পষ্ট করে খোদাই করা সতর্কবাণী: “অযথা দালালের শরণাপন্ন না হয়ে সঠিক কাগজাদি সহ সরাসরি নিজে ১০১ নং রুমে সাক্ষাৎ করুন।”
অফিসের ভিতরেও কঠোর শৃঙ্খলা জারি করা হয়েছে। দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা আগমনের কারণ জিজ্ঞেস করে কেবল পাসপোর্ট আবেদনকারী বা সেবা প্রত্যাশীদের ভেতরে প্রবেশ করতে দিচ্ছেন। কোনো দালাল কিংবা অযথা লোক ভেতরে ঢুকতে না পারে—তা নিশ্চিত করতে এই কঠোরতা আরোপ করা হয়েছে।
অবিশ্বাস্য পরিবর্তন: শৃঙ্খলা আর ডিজিটাল গতি
অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, ফরিদপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের চিরচেনা বিশৃঙ্খল দৃশ্যপট এখন অতীত। আবেদন গ্রহণ থেকে শুরু করে ফিঙ্গার প্রিন্ট ও পাসপোর্ট ডেলিভারি পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে ফিরে এসেছে শৃঙ্খলা।
ই-পাসপোর্ট সেবা: বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ৩০০ থেকে ৩৫০টি আবেদন জমা পড়ছে এবং গড়ে ২০০ থেকে ৩০০টি ই-পাসপোর্ট ডেলিভারি দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষ ব্যবস্থা: বয়স্ক, অসুস্থ রোগীদের সেবাদানে চালু করা হয়েছে মোবাইল এনরোলমেন্ট ইউনিট এবং খোলা হয়েছে হেল্প ডেস্ক।
স্বচ্ছতা: পুলিশ ভেরিফিকেশনের ঝুট-ঝামেলাও এখন অনেকটা কমে গেছে। আবেদনকারী এসএমএস বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদনের সর্বশেষ অবস্থা জেনে নিতে পারছেন।
হয়রানি কমলো যেভাবে: উপ-পরিচালকের জবাবদিহিতা
উপ-পরিচালক আবু নাঈম মাসুম যোগদানের পর থেকে অফিসে দুর্নীতি ও হয়রানি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ থেকে মুক্তি পেয়েছে। প্রতিটি কর্মদিবসে গণশুনানি কার্যক্রমের মাধ্যমে কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতাকে নিশ্চিত করায় কমছে ভোগান্তি।
উপ-পরিচালক আবু নাঈম মাসুম বলেন, “অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সকলের আন্তরিক সহযোগিতার ফলেই এটি সম্ভব হচ্ছে। আমার অফিসের দরজা সর্বদা খোলা থাকে; যেকোনো সমস্যার সমাধান না পেলে যে কেউ সরাসরি আমার সাথে কথা বলতে পারেন। কোনো প্রকার ঝামেলা ছাড়াই সহজেই পাসপোর্ট পাচ্ছে সেবা প্রত্যাশীরা।”
সেবাপ্রত্যাশীদের স্বস্তি: ‘এ যেন ভাগ্যের ব্যাপার’
পাসপোর্ট হাতে পেয়ে নগরকান্দার শহিদুল রহমান (৬০) এবং গঙ্গাবর্দী এলাকার মো. ওহিদুল (২০) সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, “উপ-পরিচালকের আচরণে আমরা খুশি। এমন অভিজ্ঞ কর্মকর্তা ছাড়া এতো ভালো সেবা পাওয়া ছিল ভাগ্যের ব্যাপার।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী শাহ্ গাজী আলম বলেন, “দালালদের হয়রানি আর বাড়তি খরচ নেই। ডিজিটাল প্রযুক্তির কল্যাণে অতি চেনা এই দৃশ্য বদলে গেছে।”
উপ-পরিচালক আবু নাঈম মাসুম দালালদের কাছে না গিয়ে পাসপোর্ট সংক্রান্ত যে কোনো সমস্যার সমাধানে আবেদনকারীদের সরাসরি তার সঙ্গে কথা বলার আহ্বান জানান।





















