ঢাকা ০৫:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে সরকারি স্কুলের জমি বেহাত: ৭ বছরেও হয়নি সুরাহা

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৫:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ অক্টোবর ২০২৫
  • / 352

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার চিতারবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক একরেরও বেশি জমি সাত বছর ধরে প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে দখল করে আছেন। ফলে বিদ্যালয়টি শিক্ষার্থীদের জন্য খেলার মাঠ তৈরি করতে পারছে না। বিদ্যালয়ের মোট এক একর ২৫ শতাংশ জমির মধ্যে মাত্র ২৫ শতাংশ দখলে রেখে বাকি প্রায় এক একর জায়গা জবরদখল করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা।

দখলদারদের উচ্ছেদের জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে বারবার আবেদন করা হলেও গত সাত বছরে কোনো সুরাহা হয়নি। উল্টো অবৈধ দখলদারদের রোষানলে পড়েছেন প্রধান শিক্ষক।

দখলদার কারা?

বিদ্যালয়টি বাজারের মধ্যে অবস্থিত হওয়ায় এর অধিকাংশ জমিই বেদখল হয়ে আছে। দখলদারদের মধ্যে স্থানীয় বণিক সমিতির নেতা ও সাবেক পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরাও জড়িত।

বণিক সমিতির নেতা: অবৈধ দখলদারদের মধ্যে রয়েছেন বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সাবেক সভাপতি হীরামন পারভীনের স্বামী শাকিল মোল্যা (যিনি চিতারবাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক)। বণিক সমিতির সভাপতি জামাল উদ্দিনও অবৈধভাবে জায়গা দখল করে রেখেছেন।

অন্যান্য দখলদার: এছাড়া আবুল খায়ের, মো. আলমগীর সহ বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী দোকানঘর তৈরি করে জমি দখল করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, স্থানীয় প্রভাবশালীরা ছোট ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে জায়গা বুঝিয়ে দিচ্ছেন এবং সেই জায়গা টাকার বিনিময়ে হাতবদল হচ্ছে, যেখানে কোনো কাগজপত্র ব্যবহার করা হচ্ছে না।

দখলমুক্তির ব্যর্থ চেষ্টা

বিদ্যালয়ের জমি উদ্ধারে একবার প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি।

২০১৮ সালের পরিমাপ: ২০১৮ সালের ১৩ এপ্রিল বোয়ালমারী উপজেলার তৎকালীন ইউএনও জাকির হোসেন জমি পরিমাপ করে ১০২ শতাংশ জমির দখল বিদ্যালয়কে বুঝিয়ে দিলেও, অবৈধ দখলদাররা পরে তা ছাড়তে অস্বীকার করেন।

প্রধান শিক্ষকের হতাশা: বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন হতাশা প্রকাশ করে বলেন, বেদখল হওয়া জায়গা উদ্ধারে কোনো অগ্রগতি নেই। উপরন্তু, “কিছু টিনের ঘর এখন পাকা হয়েছে, পোক্ত হয়েছে।”

শিক্ষা কর্মকর্তার বক্তব্য: উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু আহাদ মিয়া বলেন, প্রশাসন থেকে প্রথমে আগ্রহ দেখালেও পরে কোনো অগ্রগতি হয় না। “মাঝখান থেকে বিপদে পড়ি আমি আর হেডমাস্টার।”

প্রশাসনের বর্তমান অবস্থান

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পর্যন্ত সবাই এই সমস্যা সমাধানের আন্তরিকতা দেখালেও কার্যকর পদক্ষেপের অভাব রয়েছে।

ইউএনও তানভীর হাসান চৌধুরী বলেন, বিদ্যালয়ের জায়গা উদ্ধারে পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ আছে। এসিল্যান্ড জায়গাগুলো দেখেও এসেছেন। প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে বসে এটি সমাধানের পথ বের করা হবে।

বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি নাসিমা আক্তার জানান, দখল ঠেকানো গেছে, তবে উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

ফরিদপুরে সরকারি স্কুলের জমি বেহাত: ৭ বছরেও হয়নি সুরাহা

আপডেট সময় : ০৬:৪৫:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ অক্টোবর ২০২৫

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার চিতারবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক একরেরও বেশি জমি সাত বছর ধরে প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে দখল করে আছেন। ফলে বিদ্যালয়টি শিক্ষার্থীদের জন্য খেলার মাঠ তৈরি করতে পারছে না। বিদ্যালয়ের মোট এক একর ২৫ শতাংশ জমির মধ্যে মাত্র ২৫ শতাংশ দখলে রেখে বাকি প্রায় এক একর জায়গা জবরদখল করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা।

দখলদারদের উচ্ছেদের জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে বারবার আবেদন করা হলেও গত সাত বছরে কোনো সুরাহা হয়নি। উল্টো অবৈধ দখলদারদের রোষানলে পড়েছেন প্রধান শিক্ষক।

দখলদার কারা?

বিদ্যালয়টি বাজারের মধ্যে অবস্থিত হওয়ায় এর অধিকাংশ জমিই বেদখল হয়ে আছে। দখলদারদের মধ্যে স্থানীয় বণিক সমিতির নেতা ও সাবেক পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরাও জড়িত।

বণিক সমিতির নেতা: অবৈধ দখলদারদের মধ্যে রয়েছেন বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সাবেক সভাপতি হীরামন পারভীনের স্বামী শাকিল মোল্যা (যিনি চিতারবাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক)। বণিক সমিতির সভাপতি জামাল উদ্দিনও অবৈধভাবে জায়গা দখল করে রেখেছেন।

অন্যান্য দখলদার: এছাড়া আবুল খায়ের, মো. আলমগীর সহ বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী দোকানঘর তৈরি করে জমি দখল করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, স্থানীয় প্রভাবশালীরা ছোট ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে জায়গা বুঝিয়ে দিচ্ছেন এবং সেই জায়গা টাকার বিনিময়ে হাতবদল হচ্ছে, যেখানে কোনো কাগজপত্র ব্যবহার করা হচ্ছে না।

দখলমুক্তির ব্যর্থ চেষ্টা

বিদ্যালয়ের জমি উদ্ধারে একবার প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি।

২০১৮ সালের পরিমাপ: ২০১৮ সালের ১৩ এপ্রিল বোয়ালমারী উপজেলার তৎকালীন ইউএনও জাকির হোসেন জমি পরিমাপ করে ১০২ শতাংশ জমির দখল বিদ্যালয়কে বুঝিয়ে দিলেও, অবৈধ দখলদাররা পরে তা ছাড়তে অস্বীকার করেন।

প্রধান শিক্ষকের হতাশা: বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন হতাশা প্রকাশ করে বলেন, বেদখল হওয়া জায়গা উদ্ধারে কোনো অগ্রগতি নেই। উপরন্তু, “কিছু টিনের ঘর এখন পাকা হয়েছে, পোক্ত হয়েছে।”

শিক্ষা কর্মকর্তার বক্তব্য: উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু আহাদ মিয়া বলেন, প্রশাসন থেকে প্রথমে আগ্রহ দেখালেও পরে কোনো অগ্রগতি হয় না। “মাঝখান থেকে বিপদে পড়ি আমি আর হেডমাস্টার।”

প্রশাসনের বর্তমান অবস্থান

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পর্যন্ত সবাই এই সমস্যা সমাধানের আন্তরিকতা দেখালেও কার্যকর পদক্ষেপের অভাব রয়েছে।

ইউএনও তানভীর হাসান চৌধুরী বলেন, বিদ্যালয়ের জায়গা উদ্ধারে পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ আছে। এসিল্যান্ড জায়গাগুলো দেখেও এসেছেন। প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে বসে এটি সমাধানের পথ বের করা হবে।

বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি নাসিমা আক্তার জানান, দখল ঠেকানো গেছে, তবে উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।